৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ২৫ মাঘ, ১৪৩২ | ১৯ শাবান, ১৪৪৭


শিরোনাম
  ●  উখিয়া-টেকনাফে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণা শুরু, এনসিপির গণসংযোগ   ●  উখিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বাংলা মদ ও দা- ছুরিসহ যুবক গ্রেফতার   ●  দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে ডা. হালিদা হানুম আখতার, পরিদর্শন করবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: আলোচিত আরসা কমান্ডার লালু গ্রেপ্তার   ●  অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিনের বিবৃতি   ●  দৈনিক নিরপেক্ষের স্টাফ রিপোর্টার হলেন তারেক আজিজ   ●  রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় অ্যাডভোকেসি সেশন অনুষ্ঠিত    ●  উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবে ৮ নতুন সদস্য   ●  প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে আসিফ ইমরানের অনুপ্রেরণার গল্প   ●  উখিয়ায় একই পরিবারের দুই ভাই হত্যার পর আরেক ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর জখম

মুফতি হান্নানসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত চেয়েছে এইচআরডাব্লিউ

বাংলাদেশে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি আব্দুল হান্নানসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডাব্লিউ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে তারা যেকোনো দেশে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডর বিরোধিতা করে। বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে হবে বিশেষ করে যখন কারও জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং এখানে কোনো সন্দেহ বা ভুলের সুযোগ থাকতে পারে না।

২০০৪ সালে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের বাইরে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মিস্টার চৌধুরী আহত হন এবং নিহত হন আরও অন্তত তিনজন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান সহ মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামির রিভিউ আবেদন গত ১৯ মার্চ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত খারিজ করে দেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে এখন আর মুফতি হান্নান সহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে জেল কর্তৃপক্ষের সামনে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।

এখন শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডর বিরোধিতা করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া ডিরেক্টর ব্রাড অ্যাডামস সংস্থার এক বিবৃতিতে বলেন অপরাধীদের শাস্তি হতে হবে কিন্তু মৃত্যুদণ্ডর প্রয়োগ করে বাংলাদেশ ভুল পথে অগ্রসর হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে যে প্রমাণাদি তার মূল ভিত্তি তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি যেটা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তারা স্বেচ্ছায় দিয়েছেন বলে বলা হচ্ছে কিন্তু তারা পরে বলেছেন পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন করে তাদের কাছ থেকে ওই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি তারা অতীতে অনেক মামলায় জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় ও বিচার কার্যক্রমে সঠিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের তথ্য পেয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আদালতের ডকুমেন্ট থেকে দেখা যায় স্বীকারোক্তি দেওয়ার আগে মুফতি আব্দুল হান্নান ৭৭ দিন এবং অন্য দুই আসামি শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপন ৪০ দিন করে পুলিশি হেফাজতে ছিলেন। এ সময় তাদের আইনি কোনো প্রতিনিধি দেওয়া হয়নি এবং স্বীকারোক্তিগুলোও এ সময়ই নেওয়া হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের আদালত রিমান্ডে নির্যাতনের অনেক অভিযোগই গ্রহণ করেছে এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রায়শই এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করে থাকে। ব্রাড অ্যাডামস বলেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি হামলাগুলোর ঘটনায় দায়ীদের বিচারে সমর্থন দিয়ে আসছে। কিন্তু আমরা বারবারই বলে আসছি যে এসব বিচার অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে এবং বাংলাদেশকে মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।