মূল খবরে যান

শিরোনাম
● নিরাপদ সড়ক গড়তে কক্সবাজারে বিআরটিএর সচেতনতামূলক সভা● কম খরচে প্রসূতি সেবা দিয়ে প্রশংসিত ডা. রোকসানা● শ্মশানের দেয়াল ভাঙার অভিযোগে ক্ষোভ, ৮ অক্টোবরের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে উখিয়ায় দুর্গাপূজা বন্ধের সিদ্ধান্ত● কৃষকের যত চ্যালেঞ্জ● খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছেন● ফাল্গুনী মেকওভার পার্লারে নিম্নমানের সাজ, নারীদের হয়রানি-হুমকি ‘আমাদের বিরুদ্ধে রিভিউ দিলেও আমাদের কিছু যায়-আসে না’● সম্প্রতি উখিয়ায় সার ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে “গণসংযোগ” ও “উখিয়া বার্তা” নামক অনলাইন সংবাদমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে● সাহসিকতা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে পিপিএম পদক পেলেন ওসি মনিরুল ইসলাম ভূইয়া● অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট মাহমুদুল হক সিকদারে’র জানাযার নামাজ সম্পন্ন● ঢাবি কক্সবাজার স্টুডেন্টস ফোরামের নতুন নেতৃত্বে এমরান-তারেক-সাহিক

আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কক্সবাজারের আনু মিয়া মালেয়শিয়ায় মৃত্যু

শেয়ার করুন


মালেয়শিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ট্রাভেল পাসের জন্য ঘুরতে ঘুরতে ট্রাভেল পাস হাতে পাবার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার মালেয়শিয়া প্রবাসী অসুস্থ আনু মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তি। গত ২ সপ্তাহ ধরে তিনি ট্রাভেল পাসের জন্য মালেশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে আবেদন করেও জীবিত ফিরতে পারলেন না প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে। তিনি গতকাল ১২মে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১ টার সময় হাইকমিশনের কার্যালয়ে মারা যান। (ইন্নাল্লিলাহী……..)


মালেশিয়া প্রবাসী মোহম্মদ নাছির সিকদার নামের এক যুবক ফোন করে জানান, মালেয়শিয়ায় মারা যাওয়া যুবক কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নোয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ৪ বছর পূর্বে দালালের হাত ধরে সাগর পথে স্বপ্নের মালেয়শিয়া পাড়ি জমিয়েছিল। তিনি সেখানে শ্রমিকের কাজ করতেন। হঠাৎ করে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়ায় দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য মালেয়শিয়াস্থ হাইকমিশনের সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের সকল কাগজ পত্রও দেওয়া হয় এবং সকল নিয়ম মেনে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ট্রাভেল পাসের আবেদন করা হয়। কিন্তু আমলাতান্ত্রীক জটিলতার কারনে বার বার হাইকমিশনের অফিসে গিয়েও কোন ধরনের কাজ হয়নি। অবশেষে একেবারে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। যে দেশ থেকে আনু মিয়া আর কোন দিন ফিরে আসবেনা। এমনই কষ্টের কথা তিনি জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান মালেয়শিয়া অবস্থান করা কক্সবাজার জেলার প্রবাসীদের প্রতিনিয়ত মিয়ানমারের নাগরিক আক্কা দেওয়া হয়। যার কারন হিসাবে আনু মিয়াকে আজ অকালে জীবন দিতে হয়েছে। বতর্মানে তার লাশটি মালেয়শিয়ার একটি হাসপাতলের হীম ঘরে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।


তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু দিন আগে সকল কাগজপত্র জমা দেওয়া হলে ২ মাস পরে আসতে বলেছিল হাইকমিশনের কর্মকর্তারা, কারন তথ্য যাচাই বাচাই করতে নাকি তাদের ২ মাসের বেশি সময় লাগে। জন্ম নিবন্ধন, জাতীয়তা সনদ, জমির কাগজপত্র, মা-বাবার জাতীয়তা সনদ দিলে কমিশনের কর্মকর্তা বলে, টি এন ওলেটার আনতে হবে। পরে তাও টিক মত দেওয়া হয়। কিন্তু টি এন ওলেটার দিলেও তদন্তে মধ্যে যেতে হবে বলে উক্ত কর্মকর্মতারা দিনের পর দিন শুধু প্রতারনা করেছে। পাসপোর্ট থাকলেও কাজ হয়না। কেন এই জটিলতা? এমনই প্রশ্ন মালেয়শিয়া প্রবাসীদের। কক্সবাজার জেলার সব লোক কি মিায়ানমার থেকে এসেছে? তারা বাংলাদেশের লোক না?
এইভাবে কত লোক অসুস্থ হয়ে মারা গেছে তার কোন হিসাব নেই বলেও তারা জানিয়েছেন। আজকে যে ব্যাক্তি মারা গেছেন তিনি ২ সপ্তাহ ঘুরে আজকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ করে মারা গেছেন। তারা এই সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
মৃত ব্যাক্তি আনু মিয়ার ভাতিজা সাবরাং এর বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাইল তার চাচার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি তার চাচাকে দেশে ফিরে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে অবেদন করেছেন। সরকার যেন তাড়া-তাড়ি তার লাশটি দেশে এনে পরিবারের নিকট হস্তানান্তার করে সে আশা এখন আনু মিয়ার পরিবারের।

শেয়ার করুন