৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১৬ মাঘ, ১৪২৯ | ৭ রজব, ১৪৪৪


শিরোনাম
  ●  হাতের কব্জির রগ কেটে মোবাইল-ল্যাপটপ ছিনতাই   ●  কক্সবাজারে ইয়াবার মামলায় ৮ রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন   ●  লোহাগাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে ‘পেট্রোলের আগুনে’ পুড়িয়ে মারার চেষ্টা!   ●  চকরিয়ার সাহারবিলে সড়ক উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন এমপি জাফর আলম   ●  রাইজিংবিডির বর্ষাসেরা প্রতিবেদক তারেককে আরইউসির শুভেচ্ছা   ●  স্ট্রীটফুড ও ড্রাই ফিস প্রশিক্ষাণার্থীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ ও সাপোর্ট প্রদান   ●  রামুতে দুই শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে পেল স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ   ●  সেন্টমার্টিনে রিসোর্ট নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর   ●  তত্ত্বাবধায়কের কাছে ভুক্তভোগীর আবেদন চিকিৎসার জন্য টাকা দাবি করলো নার্স, হুমকির অভিযোগ   ●  ডিজিটাল আইল্যান্ডকে স্মার্ট আইল্যান্ডে পরিণত করার পেছনের গল্প রচনা করবে ছাত্রলীগ

১৬ মহাসড়ক মরণফাঁদ

দেশের ১৬ মহাসড়ক মরণফাঁদ। ২০১৪ সালে দেশের ৮০টি সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলেও ১০ বারের বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে এই মহাসড়কগুলোতে। দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কগুলো হচ্ছে_ বনপাড়া-হাটিকুমরুল, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইল, যশোর-বেনাপোল, খুলনা-বরিশাল, খুলনা-যশোর এবং ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। এসব সড়কে গত বছর মোট দুর্ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ৮১৭টি। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ৩৫১ (পুরুষ এক হাজার ৭০৫, নারী ৩১৪ ও শিশু ৩৩২) এবং আহত হয়েছেন আরও পাঁচ হাজার ৪০৮ জন।দেশে প্রথমবারের মতো সড়ক দুর্ঘটনার ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ বহু স্তরবিশিষ্ট তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলেছে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক। ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আট বছরের দুর্ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তথ্যভাণ্ডারটি তৈরি করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত সাত বছরের উপাত্ত সংযুক্তির কাজ শেষ হয়েছে। ব্র্যাকের তথ্যভাণ্ডারে সড়ক দুর্ঘটনার এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

তথ্যভাণ্ডারে প্রতিটি সড়ক দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ, স্থানটির ভৌগোলিক বিবরণ, হতাহতের সংখ্যা, দুর্ঘটনাস্থলের মানচিত্র ও দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তথ্যভাণ্ডারটি গুগল প্ল্যাটফর্র্মে উপস্থাপন করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। গুগলের ‘ফিউশন টেবলস’ নামের প্ল্যাটফর্মটিকে এ জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এতে যাত্রা শুরুর আগেই প্রত্যেক যাত্রী ওই মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ বিভাগের সিনিয়র সোশ্যাল কমিউনিকেটর এস এম মামুনুর রশীদ।

বর্তমানে দেশে ৬৬টি মহাসড়ক, ১২১টি আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ৬৩৩টি জেলা সড়ক রয়েছে। সারাদেশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীন জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক ১৮ হাজারকিলোমিটার। সরকারি হিসাবে, গত ১০ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। বেসরকারি হিসাবে, প্রতিবছরই মারা যাচ্ছে ২০ হাজারের ওপর। পঙ্গুত্বের জীবন বয়ে বেড়াচ্ছে অসংখ্য মানুষ। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) নামে একটি গবেষণা সংস্থা ২০১১ সালে সাত লাখ মানুষের ওপর একটি জরিপ চালিয়ে বলেছে, দেশে বছরে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে মারা যায় ২০ হাজার ২৩ জন।ব্র্যাকের তথ্যভাণ্ডারের বরাত দিয়ে ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার প্রিসিলা রাজ সমকালকে বলেন, ২০১৩ সালের হিসাবে দেখা যায়, ১৩১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৮৪৫ জন (পুরুষ ১৩৫০, নারী ২৪৯, শিশু ২৪৬) এবং আহত হয়েছেন ৩৮৪৮ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ১৮০টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৪১ জন (পুরুষ ১৭৭, নারী ৩১, শিশু ৩৩), আহত হয়েছেন ৩৭৩ জন। ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪৬টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৬৯ জন (পুরুষ ১২৬, নারী ১৫, শিশু ২৮), আহত হয়েছেন ৩৬৪ জন। এসব দুর্ঘটনায় চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার যানবাহন ও হতাহতের হিসাব ধরা হয়নি।বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) মনে করে, পুলিশ দুর্ঘটনা ও হতাহতের যে হিসাব দেয়, প্রকৃত সংখ্যা এর তিন গুণ। এর আগে বুয়েটের এআরআই সারাদেশের ২১৬টি স্থানকে অতি দুর্ঘটনাপ্রবণ (ব্ল্যাক স্পট) হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সওজের কাছে তালিকা জমা দেয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কেও বিষয়টি জানানো হয়। মানিকগঞ্জ মহাসড়ক ছাড়া অন্য কোনো সড়কের ব্ল্যাক স্পটে দুর্ঘটনারোধে ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে বছরে তিনবার বা তারও বেশি দুর্ঘটনা ঘটলে এটাকে ব্ল্যাক স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ব্ল্যাক স্পটগুলোতে সড়কের অস্বাভাবিক বাঁক থাকে, সড়কের পাশে হাটবাজার গড়ে ওঠে এবং সড়ক সংকেতও থাকে না।

ব্র্যাকের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বাস দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কারণ, এটি অনেক যাত্রী বহন করে। ২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী বাস ও মালবাহী যান দুর্ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। মালবাহী যান বলতে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, আর্টিকুলেটেড লরি, অয়েল ট্যাঙ্কারসহ এ জাতীয় সব যান বুঝিয়েছে। বাস দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৫৪, মালবাহী যান দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬২৪টি। কিন্তু মৃত্যু ও আহত দুটিই বাসের ক্ষেত্রে তুলনামূলক অনেক বেশি। বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৮৪৭ ও আহত ৪০৭০, মালবাহী যান দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৮৪০ এবং আহত ১৫২৬। এসব সংঘর্ষের ৫৯টি ঘটেছে আবার মালবাহী যান ও বাসের মধ্যে, যাতে নিহত হয়েছেন ৮৫ জন ও আহত ৭৪০ জন। অর্থাৎ মালবাহী যান দুর্ঘটনায় ১৫২৬ আহতের অর্ধেকই এ দুই ধরনের যানের মধ্যে সংঘর্ষের শিকার এবং তাদের অধিকাংশ ছিলেন বাসযাত্রী।বাস দুর্ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ৯১টি দুর্ঘটনায় বাস খাদে পড়ে গেছে বা উল্টে গেছে, অন্য কোনো বাহনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটেনি। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতি, ব্রেকফেল, নিয়ন্ত্রণ হারানো, ঘন কুয়াশা, মদ্য পান ও অন্য গাড়িকে জায়গা দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে মহাসড়কগুলো স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব পায় কিন্তু অন্যান্য সড়কেও দুর্ঘটনা কম হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আগে আসছে মহানগর বিশেষ করে ঢাকা শহরের রাস্তাগুলো, বিভিন্ন জেলা-উপজেলা সদর এবং জেলা-উপজেলা সংযোগকারী সড়কগুলো। তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী ২০১৪ সালে মহানগর, জেলা-উপজেলা সদরে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪১৯টি; মারা গেছেন ৪৮৫ জন ও আহত হয়েছেন ৭৬৪ জন। আন্তঃজেলা সড়কগুলোতে ৯৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৩৮ জন ও আহত ৫৩৪ জন। আন্তঃউপজেলা সড়কগুলোতে ৩৬৮টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন মারা গেছেন ও আহত ১২৭৪ জন। আন্তঃজেলা দুর্ঘটনাগুলোর ১৭টি বাদে বাকিগুলোতে হয় মালবাহী যান, নয়তো বাস, অথবা দুটোই জড়িত ছিল। অন্যদিকে আন্তঃউপজেলা সড়কে ৮৯টি দুর্ঘটনায় বাস, ১৩২টিতে মালবাহী যান এবং ২৩০টিতে ছোট আকারের মোটরচালিত বা মোটরবিহীন যান জড়িত ছিল, যার মধ্যে আছে দু’চাকার মোটরবাইক, শ্যালোপাম্প বা ব্যাটারিচালিত অবৈধ তিন চাকার যান, অটোরিকশা, রিকশা, বাইসাইকেল, রিকশা ভ্যান, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার এবং ট্রলি ট্রাক্টর। ২০১৪ সালে মোটরবাইক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৩৮টি, নিহত ৪২১, আহত ৩৩২। এসব দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে আন্তঃউপজেলা সড়কে (৮৮টি), তারপর আছে মহানগর, জেলা-উপজেলা সদরে (৮৪টি), মহাসড়কে (৫২টি), চতুর্থ স্থানে আছে গ্রামের সড়ক (২৯টি)। অন্য যানের সঙ্গে দুর্ঘটনায় মোটরবাইক আরোহীরই সবার আগে মৃত্যু ঘটতে দেখা যায়।পথচারী দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫২৫টি, মৃত্যু হয়েছে ৫৫১ জনের (পুরুষ ২৯১, নারী ৯৫, ও শিশু ১৬৫), আহত ১৬১। তাদের মধ্যে অধিকাংশ (১৭০টি) ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ মহানগরগুলো, জেলা ও উপজেলা সদরে। এর সঙ্গে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু যোগ করলে পথচারী মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৩৯-এ। পথচারীর ট্রেন দুর্ঘটনা মোট ৮২টি, নিহত ৮৮ জন (পুরুষ ৫৯, নারী ২৫, শিশু ৪), আহত ১৬।

তথ্যভাণ্ডারটির ২০১৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনার খতিয়ানে দেশের ৮০টি মহাসড়কের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে চারটি বাদে বাকি ৭৬টি মহাসড়কে এক বা একাধিক মৃত্যু ঘটেছে।ট্রেনের সঙ্গে অন্য যানের সংঘর্ষের ঘটনা ৩০টি, যাতে মারা গেছেন ৩১ জন আর আহত ৬৫। সংঘর্ষ হয়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মালবাহী যান ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপের (সাতটি) সঙ্গে। তা ছাড়া সংঘর্ষ ঘটেছে বাস, টেম্পো ও অটোরিকশা, শ্যালো পাম্পচালিত যান, মোটরবাইক, জিপ, রিকশা, সাইকেল ও ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গেও।

২০১৪ সালে এগুলোর ১৬৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, মারা গেছেন ২০৯ জন, আহত ৪৩০। আবার অটোরিকশা, টেম্পো বা লেগুনা জাতীয় যাত্রী পরিবহনের বৈধ ছোট যানগুলোর দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৫২টি, মৃত ৪০৫, আহত ৭৩১।জমি চাষের যান ট্রাক্টর, ট্রলি ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দুর্ঘটনার সংখ্যাও খুব কম নয়। ২০১৪ সালে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬৩টি, যাতে মারা গেছেন ৭২ জন, আহত হয়েছেন ১০২। এ যানগুলো উল্টে গিয়ে যেমন দুর্ঘটনা ঘটেছে, তেমনি বাস, মোটরবাইক, সাইকেল ও ট্রাকের সঙ্গেও সংঘর্ষ হয়েছে। তাদের ২১টিই আবার পথচারী দুর্ঘটনা, যাতে মারা গেছেন ২১ জন।অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনা ঘটেছে সাতটি। এর মধ্যে তিনটির ক্ষেত্রে যানটি নিজেই উল্টে গেছে বা রাস্তা থেকে ছিটকে গেছে, দুটি মোটরবাইকের সঙ্গে সংঘর্ষ, একটি বাসের সঙ্গে আর একটিতে বাস ও কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষ। এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছেন নয়জন, আহত ৩০ জন। অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনা অন্যান্য যানের মতো এত বেশি না হলেও রোগীর জরুরি পরিবহন নিরাপদ করা নিঃসন্দেহে অতি গুরুত্বপূর্ণ।

২০০৪ সালে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সড়ক ব্যবহার-সংক্রান্ত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার ফলে বছরে প্রায় চার হাজার ২০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে, যা তখনকার মোট দেশজ উৎপাদনের ১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল। সিআইপিআরবির নির্বাহী পরিচালক এ কে এম ফজুলর রহমান বলেন, সওজের প্রতিবেদন প্রকাশের কাছাকাছি সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেখানো হয়। তিনি বলেন, প্রায় আট বছর আগে করা এই হিসাব এখনকার বাস্তবতায় দ্বিগুণ ধরতে হবে।

এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া অধিকাংশই কর্মক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় এর প্রভাব পরিবার ও সমাজে পড়ে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) সর্বশেষ ২০০৯ সালে দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া মানুষে শ্রেণীবিন্যাস করে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এক দশকের দুর্ঘটনার হতাহতের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২ শতাংশের বয়সসীমা ১৬ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ মারা গেছেন ৩১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী। ওই সময় দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ২০ শতাংশ শিশু, যাদের বয়সসীমা ০ থেকে ১৫ বছর। ৪৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী মানুষ মারা যান ১৩ শতাংশ। সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১ বা তার বেশি বয়সী মানুষের মৃত্যুর হার ৭ শতাংশ।২০০৯ সালে এআরআই এশিয়া, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের ১৫টি দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর একটি তুলনামূলক চিত্র প্রকাশ করে। এতে দেখা গেছে, ১৫টি দেশের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর দিক থেকে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। এ তালিকায় নেপাল প্রথম।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।