১৯ মে, ২০২২ | ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ | ১৭ শাওয়াল, ১৪৪৩


শিরোনাম
  ●  সম্প্রীতি রক্ষায় সকলকে সকল ধর্মের প্রতি সকলকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে- এমপি কমল   ●  আ’লীগে ঘাপটি মেরে থাকা খন্দকার মোস্তাকের বংশধরদের বিতাড়িত করার আহবান : মেয়র মুজিব   ●  নিজ গুলিতে প্রাণ গেলো বনকর্মীর   ●  কক্সবাজারে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানা আদায়   ●  রামুতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্ট উপজেলা চ্যাম্পিয়ন ফতেখাঁরকুল   ●  গরীবের বন্ধু মনুর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ অটো রিক্সা শ্রমিকদের   ●  রামু প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠিত; নীতিশ বড়ুয়া সভাপতি, সোয়েব সাঈদ সাধারণ সম্পাদক   ●  রামুতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী দিনে খুনিয়াপালং, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, রাজারকুল জয়ী   ●  হলদিয়াপালংয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন কাউন্সিল সম্পন্ন   ●  উখিয়ার লোকালয়ে একজোড়া বন্যহাতি; কয়েক ঘন্টার প্রচেষ্টায় ফিরলো বনে

সিনহা হত্যা মামলা, চতুর্থ ধাপের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার

কক্সবাজারের টেকনাফে আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার নির্ধারিত চতুর্থ ধাপের দুই দিনের সাক্ষ্য গ্রহণের প্রথমদিনের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইসমাঈলের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল পর্যন্ত। মামলার ১৫ তম সাক্ষীর জবান্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচারিক কার্যক্রম।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, চতুর্থ ধাপের প্রথম দিনে ৫ জন সাক্ষী হাজির হয়েছে।সেখান থেকে ক্রমিক নং অনুযায়ী ১৫ তম সাক্ষীর জবানবন্দি দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হচ্ছে।

এরআগে, ২০,২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর তিন দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন।

তৃতীয় ধাপের প্রথম দিন সাক্ষ্য দেন আব্দুল হামিদ, মোহাম্মদ ফিরোজ ও শওকত আলী নামে তিনজন। দ্বিতীয় দিন সাক্ষ্য দেন মারিশবনিয়া মসজিদের ইমাম হাফেজ জহিরুল ইসলাম ও ডা. রণবীর দেবনাথ। তাদেরকে ১৫ জন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের চার দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় গত ৮ সেপ্টেম্বর। দ্বিতীয় ধাপের চতুর্থ দিনে সাক্ষ্য দেন ৬ নম্বর সাক্ষী শামলাপুর বায়তুর নুর জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলাম।

তিন ধাপে মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসসহ ১৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে জেরাও শেষ করেছে আসামিপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। তার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে পুলিশ আটক করে। এরপর সিনহা যেখানে ছিলেন সেই নীলিমা রিসোর্টে ঢুকে তার ভিডিও দলের দুই সদস্য শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নুরকে আটক করা হয়। পরে তাহসিনকে ছেড়ে দিলেও শিপ্রা ও সিফাতকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এই দুজন পরে জামিনে মুক্তি পান।

সিনহা হত্যার ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় টেকনাফ থানায়, একটি রামু থানায়। ঘটনার পাঁচ দিন পর অর্থাৎ ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব।

২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম।

আসামিদের মধ্যে পুলিশের ৯ জন সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন, বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, কনস্টেবল রুবেল শর্মা, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া ও কনস্টেবল সাগর দেব নাথ।

অপর আসামিরা হলেন- আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজিব ও মো. আব্দুল্লাহ এবং টেকনাফের বাহারছড়ার মারিষবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পুলিশের করা মামলার সাক্ষী নুরুল আমিন, মো. নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এর আগে আসামিদের তিন দফায় ১২ থেকে ১৫ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।