২২ মে, ২০২৪ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ১৩ জিলকদ, ১৪৪৫


শিরোনাম
  ●  নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার প্রথম নির্বাচনে সহিংসতায় যুবক খুন; বসতবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ    ●  এভারকেয়ার হসপিটালের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহেরা নাজরীন এখন কক্সবাজারে   ●  কালেক্টরেট চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সভাপতি আব্দুল হক, সম্পাদক নাজমুল   ●  ক্যাম্পের বাইরে সেমিনারে অংশ নিয়ে আটক ৩২ রোহিঙ্গা   ●  চেয়ারম্যান প্রার্থী সামসুল আলমের অভিযোগ;  ‘আমার কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে’   ●  নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সবকিছু কঠোর থাকবে, অনিয়ম হলেই ৯৯৯ অভিযোগ করা যাবে   ●  উখিয়া -টেকনাফে শাসরুদ্ধকর অভিযানঃ  জি থ্রি রাইফেল, শুটারগান ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৫   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হেড মাঝিকে  তুলে নিয়ে   গুলি করে হত্যা   ●  যুগান্তর কক্সবাজার প্রতিনিধি জসিমের পিতৃবিয়োগ   ●  জোয়ারিয়ানালায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত রামু কলেজের অফিস সহায়ক

সালাহউদ্দিন আহমদকে আজ আমাদের বড়ই প্রয়োজন!

Salah Uddin Ahmed Wife & Dauter

আমি যখন এই লেখা লিখতে বসেছি, তখন বুকের ভেতরের গভীর কোনখানে যেন হু হু করে কান্না বয়ে যাচ্ছিল! কী-বোর্ডে হাত বসানোর আগেই চোখে লোনা পানি চলে আসছিল! কিন্তু পাশে লোকজন ছিল বলে নিজের অগোচরেই সেই চোখের পানি মুছে ফেললাম!
আমার কেন কান্না পাচ্ছে! আমি কে হই তাঁর! আমার কে হন তিনি! তিনি কী অজান্তেই আমার মনের গোপন ঘরে নিজের ভালোবাসার জায়গা করে নিয়েছেন! হবে হয়তো, সেই প্রসঙ্গে যাবার আগে শুরুটা শুরু থেকেই করা দরকার।

১১ মার্চ ২০১৫, দুপুর বেলা। তখনও আমি বাড়ি থেকে বের হয়নি। হঠাৎ টিভি খুলতেই দেখি স্ক্রল হেডলাইনে নিউজ যাচ্ছে, ‘বিএনপি মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমদকে রাতে উত্তরা একটি বাসা থেকে আইনশৃংখলা বাহিনীর পরিচয়ে একদল সশস্ত্র লোক তুলে নিয়ে গেছে’! তবে আইন শৃংখলা বাহিনীর কোন শাখাই আটক কিংবা গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করছে না!
স্ক্রল দেখেই বুকে ধক করে উঠলো। হঠাৎই মনে হলো, কক্সবাজারের ঢাকার বুকে বলার মতো যে মানুষটি ক্ষমতা রাখেন তাঁকে কী আমরা হারিয়ে ফেললাম! তখন মনে শুধু ইলিয়াছ আলীর কথাই বারবার ফিরে ফিরে আসছিল।

মনে আবার একটু দুঃখও পেলাম। সালাহউদ্দিন আহমদের কাছের এতো মানুষের সাথে আমার পরিচয়, তাদের কারো কাছ থেকেই খবরটি জানলাম না! অথচ রাত পেরিয়ে পরের দিনের অর্ধেকটা পার হয়ে গেছে!

যা-ই হোক, আমার মতো আমি খোঁজ নিতে লাগলাম। আর মনে মনে চাইছিলাম, আইন শৃংখলা বাহিনী সালাহউদ্দিন আহমদকে আটকের কথা ঘোষণা দিক। কিন্তু একের পর এক দিন গড়িয়ে যাচ্ছে রাত যাচ্ছে কোন খবরই মিলছে না। আমার অন্তরে হু হু করছে। অথচ তাঁর সাথে আমার কোন আত্মীয়তার সম্পর্ক নাই, নাই কোন রাজনৈতিক সম্পর্কও! তাহলে আমার অন্তর কেন কাঁদছে?

এবার সেই প্রসঙ্গে আসা যেতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ এই জনপদে রাজনীতি করছেন অনেককাল হয়ে যাচ্ছে। বিশ বছরের বেশি সময় ধরেই তাঁর বিচরণ। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে আমার সাথে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবে কখনোই পরিচয় ছিল না। এমনকি দূর থেকে দেখা ছাড়া কাছাকাছি আসারও সুযোগ হয়নি। শুধু লোক মুখে আর মিডিয়ার সহকর্মীদের কাছে তাঁর ‘ক্ষমতা’ সম্পর্কে শুনতাম!
তিনিও আমাকে চিনতেন না। মিডিয়ায় কাজ করলেও আমি ছিলাম কিছুটা অন্তর্মুখী মানুষ। প্রয়োজন ছাড়া কখনোই কোন রাজনৈতিক নেতা, আমলা কিংবা বড় কোন ব্যবসায়ির সাথে যোগাযোগ করা আমার ডিকশনারিতে নেই! তাই অনেককাল সাংবাদিকতা করার পরও অনেকেই আমাকে চেনে না, যদিও তাঁদের আমি চিনি!

Salah Uddin Ahmed

সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে আমার পরিচয় একেবারেই ‘বায়বীয়’! বায়বীয় বললাম এই কারণে যে, তিনি আমাকে জানলেন, কিন্তু চোখের দেখায় দেখেননি! তখন আমি বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমে কাজ করি। সালাহউদ্দিন আহমদ তখন চারদলীয় জোট সরকারের দাপুটে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী। হঠাৎ একদিন, দিনটার সময়ক্ষণ আমার মনে নেই, পুরো কক্সবাজার শহরে গুজব ছড়িয়ে পড়লো, ‘সালাহউদ্দিন আহমদ মন্ত্রী সভা থেকে পদত্যাগ করছেন!’ সেই গুঞ্জনটি বিডিনিউজের প্রতিনিধি হিসেবে আমার কানেও এলো। যেহেতু মিডিয়ায় কাজ করি, দায়িত্ববোধ থেকে বিষয়টি আমি বিডিনিউজকে ফোনে জানালাম। এটুকুই শুধু জানালাম, ‘কক্সবাজার শহরে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, সালাহউদ্দিন আহমদ নাকি পদত্যাগ করেছেন! আমি এখান থেকে গুজবের সত্যতা কনফার্ম করতে পারছি না। আপনারা চাইলে খোঁজ নিতে পারেন।’
আমার ভূমিকা ছিল এটুকুই! কিন্তু বিডিনিউজ ঘটালো আরেক বিপত্তি। মন্ত্রণালয় বিট করেন এক রিপোর্টার যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ফোন দিলেন। তিনি পদত্যাগের বিষয়টি জানতে চাইলেন। সালাহউদ্দিন আহমদও ওই রিপোর্টারকে জবাব দিলেন, ‘আমি পদত্যাগ করেছি আমিই জানি না, আপনারা জানলেন কিভাবে!’ ওই রিপোর্টার সালাহউদ্দিন আহমদকে আমার কথা জানালেন। ‘আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি আনছার আলী জানিয়েছেন’! তিনি আমার নামটিও শুদ্ধ করে জানাতে পারলেন না। আফসোস!
সালাহউদ্দিন আহমদ নাকি ওই রিপোর্টারের সাথে আধাঘন্টা মোবাইলে কথা বলেছিলেন। আর ওই সময় তাঁর টেবিলে থাকা নিউজপেপারে আমার নামটি লিখে তার চারপাশে কলম ঘুরাতে ঘুরাতে সুন্দর ফুল এঁকে ফেললেন! ফোন শেষ করে সামনে বসা আকতার ভাইকে (বর্তমান জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক আকতার চৌধুরী) বললেন, ‘ছেলেটিকে চেনো!’ আকতার চেনার পরও না চেনার ভান করে খোঁজ নিচ্ছি বলে সালাহউদ্দিন আহমদের ঢাকার তখনকার বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আমাকে ফোন দিলেন। বিষয়টি আমাকে জানিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আমি ওই ধরণের কোন নিউজ করেছি কিনা! আমি তাকে পুরো বিষয়টি বললাম। ইতোমধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদের এক কর্মচারি তাঁকে জানালেন, ‘ওই সাংবাদিক তো খালেকুজ্জামানের লোক!’
বেশ, হয়ে গেল ভুল বুঝাবুঝির চুড়ান্ত! সালাহউদ্দিন আহমদ ধরেই নিলেন, মরহুম এডভোকেট মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের সাথে যখন আমি কাজ করি, তার মানেই হলো এটা প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে আমি করেছি। তখন আমি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামানের মিডিয়ার কাজটা দেখতাম।
সালাহউদ্দিন আহমদ আমাকে সেইদিন জানলেন, তবে প্রথম জানাটা হয়ে গেল নেগেটিভ!
তার বহুবছর পরেও তাঁর সাথে আমার পরিচয় হয়নি। তিনিও আমাকে দেখেননি। সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে আমার ঘনিষ্টভাবে পরিচয় হলো এই তো সেদিন। কতদিন হবে, হয়তো দুই বছর আগে!
কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে তাঁর পেকুয়ার বাড়িতে গেলাম। অন্য সবার সাথে আমার সাথেও পরিচয় হলো। আমরা ছিলাম সেই দলে পাঁচজন সাংবাদিক। আমরা এক সাথে সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে দুপুরের খাবার খেলাম। কিছু কথাবার্তা হলো!
খাবারের তালিকায় ছিল তাঁর প্রিয় খাবার ‘টেংরা মাছের শুটকি’! কিন্তু খেতে তিনি একটু পাতে নিতে পারলেও পুরোটাই অন্যরা সাবাড় করে দিলেন। এ নিয়ে তিনি খানিক রসিকতাও করলেন। তিনিও এও জানালেন, এলাকায় ঘুরতে গিয়ে মানুষের কাছ থেকে উপহার পেয়েছেন এই শুটকি। ভালোবেসে তারা প্রায়ই সময় কোন না কোন কিছু তাঁকে খাওয়াতে পারলেই যেন খুশি!
এই হলো সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে আমার প্রাথমিক ঘনিষ্টতা। এই ঘনিষ্টতা কী একজন মানুষের জন্য হু হু করে বুকের গভীরে কান্না হওয়ার মতো কিছু! তা নাহলে আমার অন্তর কেন পুড়ছে!

এই পরিচয়ের ৫/৬ মাস পর ইউসুফ ভাইসহ (জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী) বিএনপির কাছের কিছু মানুষের আবদারে সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও তাঁর ব্যক্তিগত আচার আচরণ এবং আগামিতে আমরা রাজনৈতিক মাঠে কোন অবস্থানে তাঁকে দেখতে চাই, তা নিয়ে একটি দীর্ঘ লেখা লিখলাম। যতদূর শুনেছি, ওই লেখাটি তিনি যতœ করে পড়েছেন।
ওই লেখাটি প্রকাশের কিছুদিন পর আবারও তাঁর সাথে দেখা হলো পেকুয়ার বাড়িতে। আমরা কয়েকজন সাংবাদিক গেলাম তাঁর সাথে দেখা করতে। আমরা যখন পেকুয়ার বাড়িতে পৌছালাম তখন তিনি বাইরে ছিলেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর সালাহউদ্দিন আহমদ এলেন। অনেকেই তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন। একে একে সবার সাথে হাত মিলিয়ে বাড়ির দু’তলায় উঠার সিঁড়ির গোড়ায় আমার সাথে দেখা। তিনি আমার সাথে শুধু হাতই মেলালেন না, আমার বাম হাতের বাহু ধরে আস্তে আস্তে বাড়ির দু’তলায় উঠে গেলেন। সিঁড়িতে উঠার পথে একবারও আমার হাত ছাড়লেন না। আমাকে দেখেই তিনি বলতে শুরু করেছিলেন, ‘আমি তো তোমাকেই খুঁজছি! আমাকে নিয়ে এতো লেখা লিখলে, তোমার তো ইন্টারভিউ নেয়া দরকার, কিভাবে এত তথ্য পেলে!’
আদরের হাসি হাসতে হাসতেই তিনি কথা বলছিলেন। ‘লিখেছো ভালো, কিন্তু এই ভালো লিখা লিখলে তো অসুবিধা! অন্যরা শক্রতা শুরু করে!’
তাঁর আমার হাতের বাহু ধরে দু’তলায় উঠার সেই স্পর্শ যেন আমি এখনও অনুভব করি।
তারপর তাঁর বাড়িতে খাবার খেলাম, কথা হলো। আমরা ফিরে আসলাম। কিন্তু জেলা বিএনপির যারাই বিষয়টি জানলেন তাদের একটিই কথা, ‘সালাহউদ্দিন আহমদ তোমার লেখাটি খুবই পছন্দ করেছেন! খুশিও হয়েছেন। তোমাকে যেভাবে হাত ধরে উপরে নিয়ে গেলেন এভাবে কেউ সুযোগ পায় না। সালাহউদ্দিন ভাইয়ের ‘গুডবুকে’ তুমি স্থান করে নিলে!’
তারপর থেকে কেন জানি, সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ হয়ে গেলাম!

কৃতজ্ঞ হওয়ার আরো ব্যাপার আছে। সেদিনের আলোচনায় তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারা আমাদের সাথে শেয়ার করলেন। বর্তমান রাজনৈতিক ধারার নোংরামি নিয়ে কথা বললেন অনেকক্ষণ ধরে। তিনি চাইছেন, রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে পুরোদস্তুর সংসারি হয়ে যাবেন!
তিনি রাজনীতি ছাড়তে চাইলেও রাজনীতি তাঁকে ছাড়ছে না! তাঁর হাত ধরে যারা রাজনীতিতে এসেছেন তাদের জন্যই ইচ্ছে করলেও এই মাঠ ছেড়ে যেতে পারছেন না। রাজনীতি ছাড়লে এই মানুষ গুলো হারিয়ে যাবেন! তাদের কথা ভেবেই এখনও রাজনীতিতে ঠিকে আছেন।

শুধু কি এটুকুই! না, শুধু এটুকুর জন্য আমি কাঁদছি না!
কক্সবাজার জেলার যে সকল মানুষ সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য নিরবে অশ্রুবিসর্জন দিচ্ছেন তারা যে কারণে কাঁদছেন আমিও কাঁদছি সেই কারণে!
তাহলে জেলাবাসি কেন কাঁদছেন?
শুধু আমি নই, জেলার দল, মত, বন্ধু-শত্রু সবাই মনে করছেন, এটা আমাদেরও বিশ্বাস, কক্সবাজার থেকে জাতীয় রাজনীতিতে যে ক’জন মানুষ রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে পাবেন তাদের মধ্যে আর দ্বিতীয় এমন কোন ব্যক্তি নেই যিনি জেলাবাসির কথা বুক ফুলিয়ে রাজধানীতে, সরকারের উচু মহলে বলতে পারেন। সালাহউদ্দিন আহমদই একমাত্র ব্যক্তি যিনি চাইলেই কক্সবাজারের জন্য যখন ইচ্ছা যা কিছু করতে পারেন! সালাহউদ্দিন আহমদ, হোক তিনি সরকারি দলে কিংবা বিরোধী দলে, তিনি চাইলেই কক্সবাজারের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়ে আসতে পারেন যখন তখন।
এমন একজন নেতা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কক্সবাজারবাসির জন্য ছিলেন না, অদূর ভবিষ্যতে উঠে আসবেন এমন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না!
সালাহউদ্দিন আহমদ রাজনৈতিক মতাদর্শে বিএনপি করেন। এখন ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। সব সময়ই সরকারি দলই উন্নয়ন বরাদ্দ বেশি পেয়ে থাকেন। তাদের হাতেই থাকে বরাদ্দের চাবিকাঠি। কিন্তু বর্তমানে জেলায় আওয়ামী লীগে এমন কোন নেতা কী আছেন যিনি সালাহউদ্দিন আহমদের মতো যোগ্যতা নিয়ে ঢাকার রাজপথ কাঁপিয়ে কক্সবাজারকে তুলে ধরতে পারেন!
আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি, সালাহউদ্দিন আহমদ এমনই একজন রাজনীতিক, যিনি সরকারি বরাদ্দপত্র অনুমোদন হওয়ার পরও সেই পত্র থামিয়ে কক্সবাজারের জন্য আলাদা ভাবে বরাদ্দ লিখিয়ে নেয়ার ক্ষমতা রাখেন। এমন নেতা কী আর আছেন কেউ!
আমার এই কথায় কক্সবাজারের কোন রাজনীতিক যদি দুঃখ পান, তাদের কাছে আমার করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা, আপনারা ভুল বুঝবেন না! সবার সব যোগ্যতা থাকে না। আমি মনে করি, সালাহউদ্দিন আহমদের যে যোগ্যতা কক্সবাজারে তাঁর কাছাকাছি আসার মতো লোকই এখন পর্যন্ত দেখি না!
এমন একটা রতেœর জন্য আমি কাঁদবো না, আমরা কাঁদবো না! তা কি করে হয়!

সালাহউদ্দিনের জন্য আমার চোখের পানি পড়ছে তা কিন্তু না। একটু খোঁজ নিলেই জানবেন, কত মানুষ তাঁকে ফেরত পেতে রোজা রাখছেন! তাঁর ছবি ছুঁয়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছেন! ওষুধের টাকা নিতে সালাহউদ্দিনের জন্য অপেক্ষা করছেন! শোনা কথা, পেকুয়াতে নাকি এমন ৪ শতাধিক পরিবার আছে যারা একান্তই সালাহউদ্দিনের আর্থিক সহায়তায় সংসার চালান! তারা কী চাইছেন না, সালাহউদ্দিন তাদের কাছে ফিরে আসুক।
রাজনীতি অনেকেই করেন, কিন্তু জনগণের ভালোবাসা সকলে পান না! আর সালাহউদ্দিন আহমদ হলো তেমনই একজন রাজনীতিক যিনি রাজনীতি বুঝেন, আমলাতন্ত্র বুঝেন, সরকার বুঝেন, কিভাবে প্রশাসন চালাতে হয় তা জানেন! আর জানেন বলেই মানুষের জন্য প্রয়োজনটাও বুঝেন।
এমন নেতার জন্য কী মানুষ অপেক্ষা করবে না! তাই আমরা শুধু কক্সবাজারবাসি, আগামির কক্সবাজারের জন্যই সালাহউদ্দিন আহমদকে ফিরে পেতে চাই, সেটা যে কোন কিছুর বিনিময়ে হোক!

সালাহউদ্দিন আহমদ কোথায়, কেমন আছেন

সালাহউদ্দিন আহমদ নিখোঁজ হওয়ার তিনদিনের মাথায় তাঁর কাছের এক লোকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কোন সুখবর কী আছে! তিনি ওইদিন আমাকে জানালেন, সালাহউদ্দিন আহমদ র‌্যাব-১ হেডকোয়ার্টারে আছেন! তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদের সাথে মোবাইলে ওখান থেকে কথা বলেছেন!
এই কথা শুনেছে আমার কান, আর ঝর ঝর করে পানি বেরিয়ে এসেছে চোখ থেকে! এই কান্না ছিল একজন আপনজন হারানোর! তাহলে সালাহউদ্দিন আহমদ কী আমার আপন কেউ!
তারও পর একেকটা দিন যাচ্ছে, সালাহউদ্দিন আহমদের আপনজন আর শুভাখাংকীদের মাঝে উৎকন্ঠা বাড়ছে। তিনি কী বেঁচে আছেন! নাকি অন্য অনেকের মতো গুম করে ফেলা হয়েছে তাঁকে! কিন্তু কক্সবাজারবাসি বিশ্বাস করতে চান, তিনি জীবিত আছেন, সরকার তাঁকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেবেন!

অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, হয়তো সালাহউদ্দিন আহমদকে বাঁচিয়ে রাখা হয়নি! জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও এমন বিশ্বাসিদের সংখ্যা বেশ আছেন! তাদের হাবভাব দেখলেই যে কারো গা জ্বলে যাওয়ার মতো অবস্থা! তাই বলে কী সবাই বিশ্বাস করেন, সালাহউদ্দিন আহমদ বেঁচে নেই!

কিন্তু নানা বিশ্লেষণ, মিডিয়ার প্রতিবেদন ও পরিবারের সদস্যদের কথায় কী বেরিয়ে আসে, এবার সেদিকে একটু নজর দেয়া যেতে পারে।
প্রথম আলো ও মানবজমিনের বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন আমি পড়েছি। সর্বশেষ ইংরেজি দৈনিক নিউএজের এক্সক্ল্যুসিভ প্রতিবেদনটিও দেখলাম। সবগুলো প্রতিবেদন থেকে এটা নিশ্চিত ভাবে ধরে নেয়া যায় যে, সালাহউদ্দিন আহমদকে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাই তুলে নিয়ে গেছেন। এটি এখন অনেকটাই নিঃসন্দেহ! কিন্তু তিনি কী বেঁচে আছেন?
সালাহউদ্দিন আহমদের পরিবার, বিশেষ করে তাঁর সহধর্মিনী হাসিনা আহমেদ এবং সালাহউদ্দিনের কাছের কিছু মানুষের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে, আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাই তাঁকে ধরে নিয়ে গেছে। তাঁকে এখনও বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে!
তারা মনে করেন, সালাহউদ্দিন আহমদকে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাই যে ধরে নিয়ে গেছে তার বেশ কিছু প্রামাণ্য দলিল তাদের কাছে আছে। সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর যতবারই স্থান বদল করা হয়েছে ততবারই কোন না কোন সূত্র থেকে তারা খবর পেয়েছেন এবং প্রামাণ্য দলিলও পেয়েছেন! এমনকি ভিডিও ফুটেজ থাকার দাবিও করেন তারা।
সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ তো মনে করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদেশ দিলেই সালাহউদ্দিন আহমদকে ফিরিয়ে দেবে আইন শৃংখলা বাহিনী। এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীর আদেশের অপেক্ষা!

কিছু গুজব কিছু রটনা, সত্যতা জানি না

সালাহউদ্দিন আহমদ নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পূর্ণ হয়েছে ১০ মে। বিগত ১০ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে একদল সশস্ত্র লোক ঢাকার উত্তরার একটি ভবন থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যান। তারপর থেকেই গুজব চলছে, সালাহউদ্দিন আহমদকে ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে! এই তো দিচ্ছেন বলে …!
এই গুজবের বেশ ঢালপালাও ছড়িয়েছে।
প্রথম গুজব, সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরদিনই র‌্যাব-১ হেডকোয়ার্টার থেকে স্ত্রী হাসিনা আহমদকে ফোন করেছিলেন তিনি। র‌্যাবেরই কোন কর্মকর্তা এই ফোনটি করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় গুজব, সালাহউদ্দিন আহমদকে সশস্ত্র সদস্যরা তুলে নেয়ার পর প্রথম দুই সপ্তাহে অন্তত চারদফা স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিবারই কোন না কোন সূত্র সালাহউদ্দিন আহমদের পরিবারকে সেই খবর পৌছে দিয়েছেন। আর এতেই সালাহউদ্দিনকে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাই যে তুলে নিয়ে গেছে তার বেশ কয়েকটি ‘দলিল’ তৈরি হয়েছে।
তৃতীয় গুজব, সালাহউদ্দিন আহমদকে যারাই তুলে নিয়ে গেছেন তারাই তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু তারা জেনে গেছেন, সালাহউদ্দিনকে আটকের বেশ কিছু দলিল নানা ভাবে তৈরি হয়ে গেছে, যা পরে সরকার পরিবর্তন হলে তাদের উপর বিপদ নেমে আসতে পারে! তাই তারা সালাহউদ্দিন আহমদকে হত্যার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।
চতুর্থ গুজব, আটকের পর সালাহউদ্দিন আহমদকে নানা ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এই নির্যাতনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মাথার পেছনে তিনি বড় আঘাত পেয়েছেন। তাই তাকে ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আরও সময় নেয়া হচ্ছে।
পঞ্চম গুজব, একটি বেসরকারি হাসপাতালের ৭ম তলায় সালাহউদ্দিন আহমদকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। যে চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসা করেছেন তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে, এই কথা যেন প্রকাশ না পায়! প্রকাশ পেলে তাকেও তুলে নেয়া হবে! ওই চিকিৎসক নাকি তার স্ত্রীর কাছ থেকেও এই কথা গোপন করেছেন।
ষষ্ট গুজব, দেশের বাইরে চলে যাওয়ার জন্য সালাহউদ্দিন আহমদকে চারটি অপশন দেয়া হয়েছে। চারটি দেশের যে কোন একটি বেছে নিতে হবে। এই দেশ গুলোর মধ্যে কানাডা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর রয়েছে। আইন শৃংখলা বাহিনীই পছন্দসই দেশের কোন হাসপাতালে পৌছানোর ব্যবস্থা করে দেবেন। পরে ওখানে সালাহউদ্দিন আহমদকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে প্রচার করা হবে।
সপ্তম গুজব, আইন শৃংখলা বাহিনীরই কোন কোন পক্ষ সালাহউদ্দিন আহমদকে ফিরিয়ে দিতে বিপুল অংকের অর্থ দাবি করেছেন। চট্টগ্রামের একজন ব্যবসায়ি সালাহউদ্দিন আহমদের হয়ে বেশ পরিমাণ টাকা পরিশোধও করেছেন।
এমন উচু মহলের আরও গুজব মাঠে রয়েছে যে তা বলাও সম্ভব হচ্ছে না!
এভাবেই প্রতিনিয়ত সালাহউদ্দিন আহমদকে ঘিরে নানা গুজবের ঢালপালা ছড়াচ্ছে বাতাসে। তবে এসব গুজবের কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা তা নিরূপন করার সাধ্য আমার নেই।

সালাহউদ্দিন আহমদ কী জানতেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে

সালাহউদ্দিন আহমদ নিখোঁজ হওয়ার মাসতিনেক আগে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ২০ দলীয় জোটের একটি কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছিলেন। ওই বক্তৃতায় তিনি সুষ্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, ‘সামনে আন্দোলন কর্মসূচি আসছে। আমি হয়তো এবারের পর আর না-ও আসতে পারি! আপনাদের নির্দেশ দেয়ার সুযোগ নাহলেও আপনারা বসে থাকবেন না। আমাকে যদি গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে আপনারা কক্সবাজার জেলা অচল করে দেবেন।’
ওই বক্তব্যে কোথায়, কোন জায়গায় কী কর্মসূচি পালন করতে হবে তারও বিষদ বর্ণনা দিয়েছিলেন তিনি।
তবে কী তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ‘গুম’ কিংবা ‘নিখোঁজ’ হওয়ার মতো ঘটনা তাঁর জীবনে ঘটতে পারে!

জেলা বিএনপি কী করেছে

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সিনিয়র এক নেতা কোন এক সন্ধ্যায় আমাকে বলছিলেন, ‘সালাহউদ্দিন আমার বয়সে অনেক ছোট। কিন্তু তাঁর নেতৃত্ব আমি মেনে নিয়েছিলাম। কেন জানো, তাঁর মধ্যে নেতার যে সব গুণাবলি থাকা দরকার সবই রয়েছে! তাই বয়সে ও রাজনীতিতে বড় হয়েও আমি তাঁর নেতৃত্ব মেনে নিয়েছি।’
আর এমন ভাবেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পাশাপাশি জেলার মানুষ ও ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও সালাহউদ্দিন আহমদকে নেতা হিসেবেই মানেন। তাঁর নেতৃত্ব গুণের তারিফ করেন।
কিন্তু সেই নেতার জন্য জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন গুলো কী করেছে! সালাহউদ্দিনের জন্য কেমন রাজনৈতিক কর্মসূচি করেছে তারা। সালাহউদ্দিনের কথা কী তারা রেখেছেন! এমন প্রশ্ন এখন সাধারণের মাঝেও।

সালাহউদ্দিন আহমদ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে টানা দুইমাস ধরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন গুলো নানা কর্মসূচি পালন করে তাদের প্রিয় নেতাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে সালাহউদ্দিন আহমদকে ফিরে পাওয়ার মতো কোন কর্মসূচি ছিল কী!
ব্যানার-ফেষ্টুন-পোষ্টারে জেলা বিএনপি কার্যালয় ভরে গেছে। কিন্তু কার্যালয়ের বাইরে কোন পোষ্টার কী আছে!
জেলা বিএনপির সেই সকল নেতাদের কাছে এই প্রশ্ন থাকছেই!

আমাদের তো তাঁকেই প্রয়োজন!

আগেই বলেছি, সালাহউদ্দিন আহমদ আত্মীয়তার সম্পর্কে আমার কেউ নন। আমি তাঁকে চিনেছি তাঁর নেতৃত্ব গুণে, ঢাকার বুকে কক্সবাজারকে উপস্থাপন করার সাহস এবং অন্য রাজনৈতিক নেতাদের চেয়ে ভিন্ন ধাচের নেতা হিসেবে। এখানেই তিনি আমার মন কেড়েছেন। আর মন কেড়েছেন বলেই মনের গহীন কোণে তাঁর জন্য গভীর কোন স্থান থেকে হু হু কান্না বেরুচ্ছে। এই কান্নার মধ্যে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মতো ‘প্রয়োজনে দেয়া’ কোন কর্মসূচি নেই!

সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ যেমন বিশ্বাস করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আদেশ দিলেই তিনি তাঁর স্বামীকে ফিরে পাবেন, তেমনি আমারও কেন জানি বিশ্বাস জন্মাতে শুরু করেছে, প্রধানমন্ত্রী চাইলেই সালাহউদ্দিন আহমদকে আমরা ফিরে পাবো!
হে প্রধানমন্ত্রী, আমরা কী আপনার কাছে এই আশা করতে পারি? প্রয়োজনে শর্ত দিন, সেই শর্ত না হয় জেলাবাসি পূরণ করবে!
আমরা অপেক্ষায় থাকলাম …!

হে আমার জীবনদাতা মহান আল্লাহ, তোমার ইচ্ছার বাইরে কিছুই হয় না। নিশ্চয় তুমি সালাহউদ্দিন আহমদকে, সাথে পুরো জেলাবাসিকে পরীক্ষায় ফেলেছো। তাঁর জীবনের রশিটা যদি তোমার হাতে রেখে থাকো, তাহলে সেই রশিটা কী একটু ছাড়া যায় না!
তুমি তো পরম দয়ালু, ক্ষমাশীল, রিযিক ও জীবনদাতা।

লেখক : আনছার হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক ও বার্তা প্রধান, দৈনিক সৈকত (কক্সবাজার) এবং সভাপতি, অনলাইন রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (ওরাক) ও বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন, কক্সবাজার জেলা শাখা।

ই-মেইল:  [email protected]

 

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।