১১ এপ্রিল, ২০২৪ | ২৮ চৈত্র, ১৪৩০ | ১ শাওয়াল, ১৪৪৫


শিরোনাম
  ●  আদালতে ফরেস্টার সাজ্জাদ হত্যার দায়স্বীকার সেই ডাম্পার চালক বাপ্পির   ●  ‘অভিযানে ক্ষুব্ধ, ফরেস্টার সাজ্জাদকে পূর্বপরিকল্পনায় হত্যা করা হয়’   ●  ফাঁসিয়াখালীতে পৃথক অভিযানে জবর দখল উচ্ছেদ, বালিবাহী ডাম্পার জব্দ   ●  অসহায়দের পাশে ‘রাবেয়া আলী ফাউন্ডেশন’   ●  ফরেস্টার সাজ্জাদ হত্যার মূল ঘাতক সেই বাপ্পী পুলিশের জালে   ●  ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার,ক্র্যাকের সভাপতি জসিম, সম্পাদক নিহাদ   ●  নতুন জামাতে রঙিন ১০০ শিশুর মুখ   ●  মহেশখালী উপজেলা আ’লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার পাশা চৌধুরীর মৃত্যুতে জেলা আ’লীগের শোক   ●  পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে যৌথ অভিযান   ●  নিরাপদ পেকুয়া গড়তে দলমত নির্বিশেষে সকলকে এক হতে হবে, ড. সজীব

সাগরতীরে স্বজন হারাদের প্রতীক্ষার পালা: কয়েক’শ পরিবারে থামছে না কান্না

coxsbazasr pict-09.05.2015-1 (2)
কক্সবাজার সাগরতীরে বালিয়াড়িতে চোখে-মুখে উৎকণ্ঠা নিয়ে আছেন আছেন স্বজনেরা। একটি ট্রলার আসতে দেখলেই সবাই দৌড়ে যাচ্ছেন। । কেউ বিলাপ করছেন, কেউ বা আবার ফিরে যাচ্ছেন তীরে। চলছে অপেক্ষার পালা, স্বজনহারাদের মাতম।
দুই বছর আগে অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে বাড়ির কাউকে না বলে খুব গোপনে ট্রলারে করে বিদেশ পাড়ি দিয়েছিলো স্বামী বদিউল আলম। সপ্তাহখানেক পর ফারেছা খবর পায় তার স্বামী থাইল্যান্ডের একটি দ্বীপে আটকা পড়েছেন। এরপর দেখতে দেখতে দুই বছর কেটে গেলেও স্বামী বদিউল বেঁচে আছে না মারা গেছেন সে খবর জানা সম্ভব হয়নি ফারেছার। এখন অন্যরকম এক অজানা ইতিহাস হয়ে আছে স্বপ্নবাজ যুবক বদিউল আলম। কক্সবাজার পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মী ফারেছা বেগম। শহর থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে সাগর পাড়ের সমিতি পাড়ায় তার বসবাস।
এদিকে কখন স্বামী ফিরবে অপরদিকে বাবা ফিরবে কখন সেই প্রতিক্ষায় অসহায় মা ছেলে সময় কাটছে সমুদ্রের তীরেই। তাদের ধারনা, যে পথে যাওয়া সে পথেই হয়তো এক সময় ফিরে আসবে প্রিয় মানুষটি। তাইতো ৭ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান জুনাইদকে সাথে নিয়ে নিরবে বসে থাকেন সাগর পাড়ের বালিয়াড়িতে। প্রায় সময় তারা ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকে সমুদ্রের দিকে। এই বুঝি ফিরে এলো প্রিয় স্বামী। এইতো আসছে বাবা। এভাবে কক্সবাজার সমুদ্র উপকুলের কয়েক’শ পরিবার চোখের জলে ভেসে চলেছেন অজানা আতঙ্কের শোকের মাতম। আপনজনকে হারিয়ে দেশের শত শত মানুষ কাঁদছেন। নিখোঁজ মানুষের স্বজনদের আহাজারিতে এক একটি পরিবারে চলছে কারবালার মাতম। কারো পিতা, কারো ভাই, কারো প্রিয় সন্তান নিখোঁজ রয়েছেন মাসের পর মাস। কখনো কখনো লাশ মিলছে। তবে যাদের সন্ধান মিলছে না তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে এ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। খোঁজে পাচ্ছেন না তাদের পরিবারপরিজন।
শুধু গৃহবধু ফারেছা কিংবা অবুঝ শিশু জুনাইদ নয়, তার মতো আরও অনেকেই প্রিয় স্বজনের অপেক্ষায় চোখের জল ফেলছেন প্রতিমুহুর্তে। তবে প্রশাসনের ভয়ে তারা মুখ না খুললেও সেই নিখোঁজ এবং মৃত্যুর খবর জানেন শুধু প্রতিবেশীরা। থাইল্যান্ডের গহীণ জঙ্গলে গণকবরে সন্ধান মেলা মৃতদেহের সংখ্যা যতই বাড়ছে ততই অবৈধ ভাবে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়াগামী নিখোঁজ স্বজনদের পরিবারে চলছে উদ্বেগ,উৎকন্ঠা আর অজানা আতংক।
অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ প্রিয় মানুষগুলের খোঁজ না পেলেও এখন আর বাঁচার আশা দেখছেন না কেউই। এখন চাপা কান্নায় আর বুক ফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের নিখোঁজ স্বজনের পরিবারগুলোতে। এতো দূর্ঘটনা আর নির্মম মৃত্যুর মিছিলেও কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছেনা সমুদ্রপথে অবৈধ মানবপাচার।
স্বল্প খরচে বিদেশ গিয়ে পরিবারে স্বচ্ছ্বলতা আনার জন্য দালালদের খপ্পরে পড়ে প্রতিনিয়ত মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড যাওয়ার চেষ্টায় সাগর পাড়ি দিচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজারো মানুষ। এদের মধ্যে হাতেগুনা কয়েকজনের গন্তব্যে পৌঁছার গল্প শোনা গেলেও বেশীর ভাগেরই কপালে জুটেছে নিষ্ঠুর নির্যাতন এবং নির্মম মৃত্যু। বেশীরভাগ স্বপ্নবাজ মানুষের নাম যোগ হচ্ছে নিখোঁজের তালিকায়। সরকারীভাবে কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও একটি বেসরকারী হিসাব বলছে, অবৈধভাবে সাগর পথে মালয়েশিয়ার যাওয়ার সময় গত ৪ বছরে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশী মানুষ নিখোঁজ এবং মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েছেন।
কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসআইএম আক্তার কামাল আজাদ জানান, তার ওয়ার্ডে বৃহত্তর সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, বন্দরপাড়া ও নাজিরারটেকসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। যাদের বেশীরভাগই অল্প খরচে বেশী টাকা আয় করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাড়ি দিয়েছে। তারা জানতেন না সমুদ্র পথে বিদেশ যাওয়া মানেই একটি অনিশ্চিত গন্তব্য।
নৌপথে মানবপাচার ঠেকাতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোষ্টগার্ডের কড়া সতর্কতার পরও কোনভাবেই থামছেনা এই মরণযাত্রা। যদিও মানবপাচারকারী দালালদের বিরুদ্ধে তারা সবসময় সজাগ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ।
তিনি জানান, মানবপাচারকারী দালালদের বিরুদ্ধে পুলিশসহ সব সময় জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছে। এ জন্যে কমিউনিটি পুলিশের সহযোগীতায় জেলা পুলিশ জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজও করছে ।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।