১৭ জুন, ২০২৪ | ৩ আষাঢ়, ১৪৩১ | ১০ জিলহজ, ১৪৪৫


শিরোনাম
  ●  উখিয়া-টেকনাফের ৫ শতাধিক তরুন-তরুণীকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ‘সুশীলন’   ●  খাদ্যে ভেজাল রোধে সামাজিক আন্দোলন দরকার : খাদ্যমন্ত্রী   ●  ইজিবাইকের ছাদে তুলে ৮ বছরের শিশু নির্যাতন ভিডিও ভাইরাল: তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার   ●  ভবিষ্যতে প্রেস কাউন্সিলের সার্টিফিকেট ছাড়া সাংবাদিকতা করা যাবে না   ●  একমাসেও অধরা ঘাতক চক্র, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে পরিবারে হতাশ   ●  সমুদ্রকেই ঘিরে কক্সবাজারের অর্থনীতি   ●  সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য হাসিঘর ফাউন্ডেশনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান   ●  ডা.আবু বকর ছিদ্দিক এর চতুর্থ  মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার    ●  কক্সবাজারে আইএসইসি প্রকল্পের অধীনে যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণ ও সনদ বিতরণ    ●  কক্সবাজারে শ্রেষ্ঠ সার্কেল রাসেল, ওসি মুহাম্মদ ওসমান গনি 

শহরের সমিতিপাড়ায় সমাজ উন্নয়ন পরিষদের নামে চাঁদাবাজি!

cadabazi
কক্সবাজার পৌর ১নং ওয়ার্ডের সমিতিপাড়ায় সমাজ উন্নয়ন পরিষদ নামে চলছে অবাধ চাঁদাবাজী। জায়গা উচ্ছেদ টেকানোর কথা বলে কয়েকজন প্রতাররক চক্র একত্রিত হয়ে সাধারণ মানুষদের অনৈতিক ভাবে বুঝিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। যারা টাকা দিবে তারাই অন্যত্রে জায়গা পাবে, আর যারা টাকা দিবেনা তারা জায়গা পাবে না। এ শ্লোগানকে সামনে রেখে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অপকর্ম।
জানায়ায়, সামাজ সংশোধ নয়, জায়গা রক্ষার কথা বলে সমিতিপাড়ার মৃত আবুল কালামের ছেলে নাজেম উদ্দিন নাজুর নেতৃত্বে নিজেকে সভাপতি দাবী করে গঠিত কথিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আলী সিদ্দিকী, অর্থ সম্পাদক মো: শরীফ হোসেন মাঝি এবং কয়েকজনকে নামে মাত্র পদবী দিয়ে কমিটি গঠন করে উক্ত চাঁদাবাজী করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছেন। ইতি মধ্যে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ঘরপ্রতি ৫শত টাকা হারে চাঁদা নিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেছেন। এমনকি যারা সমিতিপাড়ায় নতুন এসে জায়গা নিয়ে দলান করেছে তাদের কাছ থেকে নিয়ে ৫হাজার থেকে ১০হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমিতিপাড়ার এক ব্যবসায়ী জানান, তারা কথিত পরিষদের নামে ফরম তৈরী করে ফরম বিক্রি করতে শুরু করেছে। এমনকি নামধারী আওয়ামী লীগ নেতা নাজেম উদ্দিন নাজু, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির পশ্চিম শাখার সহ-সভাপতি মো: আলী সিদ্দিকী ও জামায়াত নেতা শরীফ হোসেন মাঝির যোগ সাজশেই হচ্ছে এসব অপকর্ম। তারা কথিত ওই কমিটির নাম দিয়ে বাগান পাড়া নামক স্থানে বসবাসকারী লোকজনদের হায়রানী করে যাচ্ছেনও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাগান পাড়ার এক অসহায় মহিলা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, নাজু, আলী, শরীফ মাঝি এবং এলাকার তাদের কয়েকজন অনুসারী নিয়ে বাগানপাড়ার কিছিু মানবপাচারকারী, ইয়াবা, গাজা, পতিতাবৃত্তিতে জড়িত কিছু মহিলার পক্ষ নিয়ে তার পরিবারকে নির্য়াতন করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন ওই মহিলা। এলাকাবাসীর একটায় অভিযোগ কথিত কমিটির নাম দিয়ে এভাবে কয়েকজন ব্যক্তি সমিতিপাড়ার সুনাম নষ্ঠ করেই চলছে। ওই কথিত কমিটির চাঁদাবাজী ও তাদের প্রতারণার ফাঁদ থেকে নিরীহ ব্যক্তিদের রক্ষায় প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এব্যাপরে স্থানীয় ব্যক্তি আবদুল জলিল জলু বলেন, শুনেছি সমাজা উন্নয়ন পরিষদ নামে একটি কমিটি রয়েছে। তবে আমি কোন দায়িত্বে নেই। তবে টাকা নেওয়ার ব্যাপারে আমার জানা নেই।
উপকুলীয় বহুমূখী সমবায় সমিতির উপকূলীয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের সভাপতি মো: বেলাল উদ্দিন বলেন, সমিতিপাড়ার নাজু নামের এক ব্যক্তি মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বর্তমানে তার কোন ব্যবসাবাণিজ্য না থাকায় তিনি উক্ত পদ বেঁছে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের বিচারের নামে হয়রানি করে আদায় করছেন হাজার হাজার টাকা। তিনি আওর বলেন, তার সাথে সহযোগী হিসাবে রয়েছে বিএনপি নেতা মো: আলী সিদ্দিকী ও জামায়াত নেতা শরীফ হোসেন মাঝি। তারা তিন জনের যোগ সাজসে এলাকায় নানা রকম অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে বেলাল অভিযোগ করেন।
উপকুলীয় বহুমূখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফি আলম বলেন, সমিতিপাড়ায় সমাজ উন্নয়ন পরিষদ নামে কোন সংঘটনের অস্থিত নেই। তবে কতিপয় ব্যক্তি সমাজ উন্নয়ন পরিষদের নামে বিচার করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।
উপকুলীয় বহুমূখী সমবায় সমিতির সভাপতি সিকান্দার আবু জাফর হীরু বলেন, আমি উপকূলীয় বহুমূখী সমবায় সমিতির নির্বাচিত সভাপতি হলেও ওই কথিত কমিটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। ওই রকম কোন কমিটি থাকলে হয়ত আমার জানা থাকত। তবে জনপ্রতি ৫শত টাকা করে নিয়েছে বলে ভুক্তভোগী অনেকে আমাকে বলেছেন। পৌর ১নং ওয়ার্ড সামাজ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আবুল বশর বহদ্দার বলেন, আমি বৃহত্তর পৌর ১নং ওয়ার্ড সমাজ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি। সমিতিপাড়ায় ওই কমিটি ঘটন করলে আমার অনুমতি লাগবে। তবে আমি শুনেছি নাজুর নেতৃত্বে কয়েক জন ব্যক্তি ওই নামে একটি কমিটি গঠন করে ৫শত টাকা করে নিচ্ছে। পৌর কাউন্সিলর এসআইএম আকতার কামাল আযাদের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।