৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১৫ আশ্বিন, ১৪২৯ | ৩ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪


শিরোনাম
  ●  কক্সবাজারে ১৮ পূজা মণ্ডপ ঝুঁকিপূর্ণ   ●  পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে প্রকৃতিবান্ধব পর্যটনে রূপ দিতে হবে- এমপি জাফর   ●  সংগঠনকে সুসংহত করতে ইখলাসপূর্ণ তৎপরতা চালিয়ে যেতে হবে   ●  পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নজিবুল ইসলামের উদ্যোগে বর্ণিল ‘শারদ সন্ধ্যা’র আয়োজন   ●  মেয়র এলায়েন্স ফর হেলদী সিটি’র নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের সংবর্ধনা   ●  জেলা পরিষদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবে আওয়ামীলীগ   ●  দেড় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ, ক্ষতির দাবি ৫ কোটি টাকার   ●  রুমখাঁ মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য পদে সকলের দোয়া চেয়েছেন ছলিম উল্লাহ বাহাদুর   ●  সাবেক এমপি এড. খালেকুজ্জামান ছিলেন দল মত নির্বিশেষে সকলের কাছে জনপ্রিয় নেতা   ●  বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি দেখতে পায় শেখ হাসিনার মধ্যে- এমপি জাফর

রমজান ইবাদতের মাস

প্রেমময়ের সান্নিধ্য লাভের অবারিত সুযোগ নিয়ে আসে রমজান। এ মাসে খোদার রহমতের ফল্গুধারায় মুমিন-মুত্তাকির অন্তর সিক্ত হয়। মানবগ্রহে সাম্য, সম্প্রীতি, সহানুভূতি ও সহমর্মিতার ঐশী আবহ তৈরি করে সিয়াম। সিয়াম সাধনায় মাটির মানুষ পরিণত হন সোনার মানুষে। শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও আপন প্রভুর সামনে সিজদাবনত হওয়ার, দোয়া, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা ইস্তিগফার করার সুযোগ তৈরি করে দেয়।

এ মাসে আল্লাহর কাছে সব রকমের ইবাদতের গুরুত্ব অনেক বেশি। হাদিসে এ মাসে ইবাদতের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে এভাবে :

ক. এ মাসে একটি ওমরাহ করলে একটি হজ আদায়ের সওয়াব হয় এবং তা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে হজ আদায়ের মর্যাদা রাখে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রমজান মাসে ওমরাহ করা আমার সঙ্গে হজ আদায় করার সমতুল্য’। [বুখারি : ১৮৬৩]।

খ. রমজানে ইবাদতে রাত জাগরণের ফজিলত বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে নেকির প্রত্যাশায় রমজানের রাত জাগরণ করবে তার অতীতের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে।’ [বুখারি : ৩৭; মুসলিম : ৭৬০]।

গ. রমজানের শেষ দশকে রাসূলুল্লাহ (সা.) বিশেষভাবে ইবাদতে মনোনিবেশ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদতে মনোনিবেশ করতেন, যতটা তিনি অন্য দিনগুলোতে করতেন না।’ [মুসলিম : ১১৭৫]।

ঘ. হজরত আয়েশা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘রমজানের শেষ দশক এলে রাসূলুল্লাহ (সা.) তার লুঙ্গি শক্ত করে বাঁধতেন এবং তিনি এর রাতগুলোতে নিজে জাগতেন আর পরিবারকেও জাগাতেন।’ [বুখারি : ২০২৪]।

ঙ. রাসূল (সা.) বলেন, ‘এটা ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত। এটা সমবেদনার মাস। এ মাসে মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি তার অধীনের কাজের ভার লাঘব করবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।’ [বায়হাকি]।

চ. প্রিয় নবি (সা.) বলেন, ‘হে লোকজন, এ মাসে চারটি জিনিসের ওপর খুব গুরুত্ব দাও এবং বেশি বেশি করে কর। ১. কালিমা তাইয়্যেবা-‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’। ২. ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা। ৩. জান্নাত চাওয়া। ৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করা। [মেশকাত : ১/১৭৪, বায়হাকি, শুয়াবুল ইমান ৩/৩০৫]।

সুতরাং পবিত্র এ মাসটিতে সিয়াম পালনের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক খোদার ধ্যানে নিমগ্ন থাকা, রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি করা, সিজদাবনত থাকা এবং যথাসাধ্য কুরআন তিলাওয়াত ও বুঝে বুঝে কুরআন পড়া সব মুসলমানের কর্তব্য। যাতে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী রমজান মাস কাটাতে পারি এবং আল্লাহতায়ালার নিয়ামত ও হেদায়েত থেকে আমরা পূর্ণরূপে লাভবান হতে পারি। আল্লাহতায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : অধ্যক্ষ, দারুল উলুম ঢাকা, মিরপুর ১৩

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।