১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ১৮ মাঘ, ১৪২৯ | ৯ রজব, ১৪৪৪


শিরোনাম
  ●  পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে নিষিদ্ধ পলিথিন, হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ, জরিমানা   ●  বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদের নেতা   ●  হাতের কব্জির রগ কেটে মোবাইল-ল্যাপটপ ছিনতাই   ●  কক্সবাজারে ইয়াবার মামলায় ৮ রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন   ●  লোহাগাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে ‘পেট্রোলের আগুনে’ পুড়িয়ে মারার চেষ্টা!   ●  চকরিয়ার সাহারবিলে সড়ক উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন এমপি জাফর আলম   ●  রাইজিংবিডির বর্ষাসেরা প্রতিবেদক তারেককে আরইউসির শুভেচ্ছা   ●  স্ট্রীটফুড ও ড্রাই ফিস প্রশিক্ষাণার্থীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ ও সাপোর্ট প্রদান   ●  রামুতে দুই শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে পেল স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ   ●  সেন্টমার্টিনে রিসোর্ট নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর

রফতানি বাজার হারিয়ে এখন আমদানি নির্ভর শুঁটকি শিল্প

ctg pic_15_03_15
প্রক্রিয়াজাতকরনে খরচ বেড়ে যাওয়া গুণগত মান নিম্মমূখী হওয়ার কারনে রফতানি বাজার হারিয়ে আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছে দেশের শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। গত পাচঁ বছর আগেও প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার মেট্রিক টন শুঁটকি রফতানি করে বিপুর পরিমাণ বৈদেশিক অর্থ উপার্যন করতো বাংলাদেশ। আর বর্তমানে দেশের চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর আট হাজার মেট্রিক টন শুঁটকি আমদানি করতে হচ্ছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, মাত্র কয়েক বছর আগে রফতানি করা খাদ্যপণ্যটি বর্তমানে চাহিদার ৪০ শতাংশ আমদানি করছে বাংলাদেশ। অথচ ২০০৮ সালের আগেও দেশের ৩০টি শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার৩মেট্রিক টন শুঁটকি রফতানি করেছে।

তথ্যমতে, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে শুটকি রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন। যা ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে এসে কমে আসে তিন হাজার মেট্রিক টনে। ২০০৭ সাল থেকে শুঁটকির উৎপাদন কমতে থাকায় কমতে থাকে রফতানিও। ২০০৯ সালে রফতানি নেমে আসে মাত্র ২ হাজার টনে। ২০১১-১২ অর্থবছরে এটি কমে দাঁড়ায় ১৫০ মেট্রিক টনে। একই বছরে আমদানি করা হয় ৫৩৬ মেট্রিক টন। ২০১৪ সালে দেশের চাহিদা মেটাতে শুটকি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৮ হাজার মেট্রিক টন শুঁটকি আমদানি করেছে। যা মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ।

শুঁটকি ব্যবসার এই দুর্দিনের কথা নিশ্চিত করেছেন চাক্তাই শুঁটকি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ। রফতানি বাজার হারিয়ে শুঁটকির চাহিদা মেটাতে আমদানি নির্ভর হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয় বৃদ্ধি ও আমাদের প্রক্রিয়াকৃত শুঁটকির গুণগত মান কমে যাওয়ায় রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া সামুদ্রিক মাছ আহরণ কমে যাওয়ায় শুঁটকি উৎপাদনও কমেছে। তাই পণ্যটি আগে রফতানি করতাম এখন আমদানি করছি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা অরক্ষিত থাকায় ভারতীয় ও মিয়ানমারের জেলেরা মাছ ধরার আধুনিক জাহাজ ও সরঞ্জাম নিয়ে বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করে মাছ ধরে। অপরদিকে বাংলাদেশের জেলেদের কাছে আধুনিক জাহাজ ও সরঞ্জামাদি না থাকায় মাছ আহরণ কমে গেছে। ফলে শুঁটকির উৎপাদনও কমেছে।

শুঁটকি রফতানিকারকরা বলছে, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী শুঁটকিতে পোকা নাশক ডিডিটি পাউডার ব্যবহার করায় আমদানিকারক দেশগুলোতে এর গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় রফতানি বাজার হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, বাহরাইনসহ যুক্তরাজ্যের কয়েকটি দেশে শুঁটকি রফতানি হচ্ছে যা ১০০ মেট্রিক টনেরও কম।

এক্সপোর্ট প্রোমোশন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা যায়, ২০০৫-০৬ সালে শুটকি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৩০টি। বর্তমানে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫টি।

তবে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে জলসীমা সংরক্ষণ করা গেলে পণ্যটির রফতানি আবারো বেড়ে যাবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ নন প্যাকার ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব রানা।
তিনি বলেন, সামুদ্রিক মাছ আহরণ ও রফতানি করার এ খাতটি বর্তমানে জলদস্যুদের কারণে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। গত কয়েক বছরে সাগরে জলদস্যুদের হাতে হতাহত হয়েছেন ২ শতাধিক জেলে, আতঙ্কে অনেকে পেশা ছেড়েছেন। এসব সংকটের সমাধান করা সম্ভব হলে সামুদ্রিক মাছ আহরণ নিশ্চিতভাবেই বাড়বে। তখন এ খাত স্বাভাবিকভাবেই আবারো রফতানিতে ফিরবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে।

অন্যদিকে জলসীমানায় নজরদারি বৃদ্ধি না করলে শুঁটকির বাজার অচিরেই শতভাগ আমদানি নির্ভর  হয়ে পড়বে এমন আশঙ্কার কথা জানান চাক্তাই শুঁটকি ব্যবসায়ী সমিতি সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ। তিনি বলেন, জলসীমা সংরক্ষণ ও জলদস্যু দমন করতে না পারলে শুধু সামুদ্রিক মাছ ও শুটকি ব্যবসা নয়, বাংলাদেশ হাজার কোটি টাকার সামুদ্রিক সম্পদ থেকেও বঞ্চিত হবে।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতার অভাবকে দায়ী করে তিনি আরও বলেন, একদিকে মূল্যবৃদ্ধি অন্যদিকে রফতানি হ্রাস এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে লটিয়া, ছুরি, রুপপচাঁদা, ফাইস্যা, ন্যাল্টা, পোয়াসহ আরও কয়েক জাতের শুঁটকি বাইরের দেশ থেকে আমদানি করছি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।