২৩ মে, ২০২৪ | ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ১৪ জিলকদ, ১৪৪৫


শিরোনাম
  ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ আরসা সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার    ●  নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার প্রথম নির্বাচনে সহিংসতায় যুবক খুন; বসতবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ    ●  এভারকেয়ার হসপিটালের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহেরা নাজরীন এখন কক্সবাজারে   ●  কালেক্টরেট চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সভাপতি আব্দুল হক, সম্পাদক নাজমুল   ●  ক্যাম্পের বাইরে সেমিনারে অংশ নিয়ে আটক ৩২ রোহিঙ্গা   ●  চেয়ারম্যান প্রার্থী সামসুল আলমের অভিযোগ;  ‘আমার কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে’   ●  নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সবকিছু কঠোর থাকবে, অনিয়ম হলেই ৯৯৯ অভিযোগ করা যাবে   ●  উখিয়া -টেকনাফে শাসরুদ্ধকর অভিযানঃ  জি থ্রি রাইফেল, শুটারগান ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৫   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হেড মাঝিকে  তুলে নিয়ে   গুলি করে হত্যা   ●  যুগান্তর কক্সবাজার প্রতিনিধি জসিমের পিতৃবিয়োগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জনমত জরিপে নাটকীয় মোড় : হিলারি-ট্রাম্পের ব্যবধান কমছে

file-7
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৮ নভেম্বর। নির্বাচন সামনে রেখে এখন পর্যন্ত হওয়া সব জরিপেই রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। কিন্তু ‘রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকস’-এর সর্বশেষ জরিপের ফলাফল বলছে, ব্যবধান কমছে দুই প্রার্থীর মধ্যে। মূলত হিলারির ই-মেইল কেলেঙ্কারির বিষয়ে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) পুনর্তদন্তের ঘোষণার প্রভাবেই ট্রাম্প তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে ব্যবধান অনেকটা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে এসে হিলারিকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জের। এরই মধ্যে এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাবেক এ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রাইভেট সার্ভারের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইল সংরক্ষণের যে অভিযোগ রয়েছে, তা পুনর্তদন্ত করে দেখা হবে। আর এ ঘোষণা তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এনে দিয়েছে অপ্রত্যাশিত সুযোগ।

হিলারির প্রধান সহকারী হুমা আবেদিনের বেশকিছু ই-মেইল সম্প্রতি উদ্ঘাটিত হয়েছে। এসব ই-মেইলের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে এরই মধ্যে পরোয়ানা ইস্যু করেছে এফবিআই। একই সঙ্গে হিলারির ই-মেইলের বিষয়েও অনুসন্ধান চালাবে সংস্থাটি। এ তদন্ত নির্বাচনের আগে সমাপ্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে নির্বাচনের আগের এ সপ্তাহে হিলারিকে প্রচারণার পাশাপাশি এ অভিযোগকেও মোকাবেলা করতে হবে। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধাটি পাচ্ছেন নিঃসন্দেহে ডোনাল্ড ট্রাম্প। শীর্ষ এ আবাসন ব্যবসায়ী সাম্প্রতিক এ ঘটনার আগ পর্যন্ত অধিকাংশ জরিপেই হিলারির চেয়ে গড়ে ১৪ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে এ ব্যবধান অনেকটাই কমে আসছে।

এখন পর্যন্ত হওয়া জরিপগুলোয় মাত্র দুবার ট্রাম্প তার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। এর মধ্যে সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে পরিচালিত জরিপে ট্রাম্প হিলারির চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু এর পর পরই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একের পর এক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কগুলোয়ও ট্রাম্পের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে ছিলেন হিলারি। আর এসবের মধ্য দিয়ে হিলারির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যবধান বাড়তে থাকে। কিন্তু পুরো হিসাবই বদলে দিয়েছে এফবিআইয়ের পুনর্তদন্তের ঘোষণা। নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব বাড়তে থাকবে, যা বর্তমান ও ভোটের দিনের মধ্যে গড়ে দিতে পারে বিস্তর ব্যবধান।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, এর আগের নির্বাচনগুলোয়ও জরিপ ও ভোটের ফলাফলের মধ্যে বেশ ভালো পার্থক্য দেখা গেছে। গড়ে ভোট ও জরিপের ফলাফলের মধ্যে ৪ শতাংশ পয়েন্টের পার্থক্য দেখা যায়। আর আসন্ন নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তাতে নির্বাচনের ফল যেকোনো দিকেই হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের সব ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় রয়েছে নির্দিষ্ট সংখ্যক ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট। এ ভোটের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যা অনুপাতে নির্ধারিত কংগ্রেস সদস্যের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হচ্ছে মেইন ও নেব্রাস্কা। সেখানে সাধারণ ভোটই সবকিছু নির্ধারণ করে।

এ দুই পদ্ধতির কারণে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে ডেমোক্রেটিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ইলিনয় ও ক্যালিফোর্নিয়া হিলারির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব অঙ্গরাজ্যে ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যাও অনেক। এদিকে অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও ভার্জিনিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এককভাবে কেউই সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে না থাকায় যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে এসব অঙ্গরাজ্যে।

এদিকে নির্বাচন-পূর্ববর্তী জরিপ ফলাফল এত কাছাকাছি হওয়ার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে দুই প্রার্থীরই দল ও দলের বাইরে রয়েছে জনপ্রিয়তার সংকট। একদিকে বেশ কজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে স্যান্ডার্সের অনুসারীদের অর্ধেকেরও বেশি হিলারিকে সমর্থন দেবেন না বলে জানা গেছে ইউগভ পরিচালিত এক জরিপ থেকে। আবার নিউইয়র্ক টাইমস ও সিবিএস নিউজ পরিচালিত জরিপের তথ্যমতে, দুই প্রার্থীর সমর্থকদের একটি বড় অংশ মূলত বিপরীত পক্ষের বিরোধিতাকারী।

আসন্ন এ নির্বাচনে বয়স, জাতি ও লৈঙ্গিক পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা— এসবও হয়ে উঠেছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে পুরুষ ও শ্বেতাঙ্গের সংখ্যাই বেশি। এর বিপরীতে মূলত নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে হিলারি বেশি জনপ্রিয়। একইভাবে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার পার্থক্যও বেশ সুস্পষ্ট। বিভিন্ন জরিপ ফলাফলে দেখা গেছে, অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিতদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেশি। এক্ষেত্রে ট্রাম্পও সরাসরি বক্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি ‘স্বল্পশিক্ষতদের’ই বেশি পছন্দ করেন। এর বিপরীতে হিলারির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ ডিগ্রিধারীদের মধ্যে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।