১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ১৮ মাঘ, ১৪২৯ | ৯ রজব, ১৪৪৪


শিরোনাম
  ●  পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে নিষিদ্ধ পলিথিন, হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ, জরিমানা   ●  বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদের নেতা   ●  হাতের কব্জির রগ কেটে মোবাইল-ল্যাপটপ ছিনতাই   ●  কক্সবাজারে ইয়াবার মামলায় ৮ রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন   ●  লোহাগাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে ‘পেট্রোলের আগুনে’ পুড়িয়ে মারার চেষ্টা!   ●  চকরিয়ার সাহারবিলে সড়ক উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন এমপি জাফর আলম   ●  রাইজিংবিডির বর্ষাসেরা প্রতিবেদক তারেককে আরইউসির শুভেচ্ছা   ●  স্ট্রীটফুড ও ড্রাই ফিস প্রশিক্ষাণার্থীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ ও সাপোর্ট প্রদান   ●  রামুতে দুই শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে পেল স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ   ●  সেন্টমার্টিনে রিসোর্ট নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শিশু-কিশোরদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শুধু জাতির পিতাকে নয়, বাংলাদেশ হারিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এজন্য বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে গড়ে তুলতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) এ দেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব। দেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা। তার জন্মদিনে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।’
ছোট্ট সোনামণিদের তিনি লেখাপড়া শিখে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠারও আহ্বান জানান।

শিশুদের উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, তোমাদের মাঝেই আগামী দিনের নেতৃত্ব আছে। হয়তো তোমরাই কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে। বৈজ্ঞানিক হবে। স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে চলতে পারে শিশুদের সেভাবে গড়ে তুলতে হবে।

অতীতের কথা মনে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা থেকে শুনেছি সব সময় জাতির পিতা আবৃত্তি করতেন ‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই, ওরে ভয় নাই’। এই আবৃত্তি শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুকে শিক্ষিত করতে সরকারের নেওয়া বিভ্ন্নি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, তার সরকার প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, মসজিদভিত্তিক শিক্ষা, বিনামূল্যে বই দেওয়ার ব্যবস্থা, বইয়ের মান উন্নত করা, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি ৩২ কোটির বেশি বই পুরো বাংলাদেশে বিতরণ করা, উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর গঠিত শিক্ষা-সহায়তা ট্রাস্ট, বিভিন্ন বৃত্তি-উপবৃত্তি চালু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থের অভাবে যেন কোনো ছেলেমেয়ের লেখাপড়া বন্ধ না হয়ে যায়, তার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে; নতুন নতুন স্কুল নির্মাণ করা হয়েছে, যেসব স্কুলের নতুন ভবন প্রয়োজন, সেখানে তা গঠন করা হয়েছে। কারণ, এই সরকার শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু সুন্দরভাবে বাঁচবে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

চলমান হরতাল-অবরোধে বিভিন্ন সহিংসতায় শিশুদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই না দেশের শিশুরা আগুনে পুড়িয়ে মারার মতো প্রতিহিংসার শিকার হবে। আমরা চাই, শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ। শিশুদের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলব, এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলতেন, যেকোনো মহৎ অর্জনের জন্য ত্যাগ করা দরকার। তিনি আমাদের জন্য তার প্রাণ উৎসর্গ করে গেছেন। তিনি জীবন দিয়ে গেছেন এ দেশের মানুষের জন্য। আমাদের লক্ষ্য এ দেশের মানুষের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যে দেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা।’

উপস্থিত শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তোমরা লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হবে, এ দেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। স্বাধীন জাতি হিসেবে আমরা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারি, সেভাবেই তোমরা নিজেদের গড়ে তুলবে। …তোমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ।’

এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা করে নিজের বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।