১৭ জুন, ২০২৪ | ৩ আষাঢ়, ১৪৩১ | ১০ জিলহজ, ১৪৪৫


শিরোনাম
  ●  উখিয়া-টেকনাফের ৫ শতাধিক তরুন-তরুণীকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ‘সুশীলন’   ●  খাদ্যে ভেজাল রোধে সামাজিক আন্দোলন দরকার : খাদ্যমন্ত্রী   ●  ইজিবাইকের ছাদে তুলে ৮ বছরের শিশু নির্যাতন ভিডিও ভাইরাল: তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার   ●  ভবিষ্যতে প্রেস কাউন্সিলের সার্টিফিকেট ছাড়া সাংবাদিকতা করা যাবে না   ●  একমাসেও অধরা ঘাতক চক্র, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে পরিবারে হতাশ   ●  সমুদ্রকেই ঘিরে কক্সবাজারের অর্থনীতি   ●  সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য হাসিঘর ফাউন্ডেশনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান   ●  ডা.আবু বকর ছিদ্দিক এর চতুর্থ  মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার    ●  কক্সবাজারে আইএসইসি প্রকল্পের অধীনে যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণ ও সনদ বিতরণ    ●  কক্সবাজারে শ্রেষ্ঠ সার্কেল রাসেল, ওসি মুহাম্মদ ওসমান গনি 

চকরিয়ায় কমিউনিটি পুলিশের সমাবেশে এমপি জাফর আলম ও এসপি মাসুদ হোসেন

মাদক ব্যবসা করবেন, দখলবাজি করে রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়বেন কিন্তু রেহাই দেয়া হবেনা

চকরিয়ায় কমিউনিটি পুলিশের সমাবেশে এমপি জাফর আলম ও এসপি মাসুদ হোসেনের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক।

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়াঃ কক্সবাজারের চকরিয়ায় ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ শ্লোগানে মাদক, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, গুজবসহ সামাজিক নানা অপরাধ প্রতিরোধে বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো ‘কমিউনিটি পুলিশিং ও সুধী সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কমিউনিটি পুলিশের হাজারো নারী-পুরুষ ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে যোগ দেন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ, সরকারী-বেসরকারী দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রামে দুঃসাহসিক অগ্রযাত্রায় সফল নায়ক উপাধি দিয়ে অনুষ্ঠানে নতুন কমিটির পক্ষ থেকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক।
চকরিয়া থানা ও উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে ঘোষণা এসেছে চকরিয়ায় এখন থেকে যারা মাদক ব্যবসা করবে, দখলবাজি করে রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়বেন তাদের কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। যারা এসব অপরাধকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন তাদেরকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। যেভাবে জনগণের সহায়তায় কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফসহ বিভিন্ন উপজেলার মাদক কারবারি ও গডফাদারদের আসমান থেকে মাটিতে নামিয়ে আনা এবং সুরম্য অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশের চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলামের সভাপতিত্বে ও চকরিয়া উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুর সঞ্চালনায় চকরিয়া থানা চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাফর আলম। প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার ও মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রামে দুঃসাহসিক অগ্রযাত্রার সফল নায়ক এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের স-সভাপতি আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী, মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান, চকরিয়া উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, চকরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আকম গিয়াস উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক এম আর মাহমুদ, চকরিয়া আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুল কবির, উপজেলা দুপ্রকের সভাপতি মো. নোমান, ডুলাহাজারা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি আমির উদ্দিন বুলবুল প্রমূখ।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্টু, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন হক জেসি চৌধুরী, চকরিয়া থানার ওসি তদন্ত একেএম শফিকুল আলম চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ত্রাণ সম্পাদক মো.নুরুল আবছার, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আমিনুর রশিদ দুলাল, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এসএম জাহাংগীর আলম বুলবুল, মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছরওয়ার আলম, কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ আবু তৈয়ব, জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক সোলতান আহমদ, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি মো.ওয়ালিদ মিল্টন, চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন, কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শওকত হোসেন।
সমাবেশে প্রধান বক্তা কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন মাদক কারবারিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ইয়াবাসহ মাদক কারবারিরা যত বড় প্রভাবশালী বা হাজি-গাজীই হউন না কেন, আসমান থেকে মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে নামিয়ে আনা হবে। ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন, ইয়াবা কারবারে দেশের বড় গডফাদার সাইফুল করিমকেও কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। শত শত ইয়াবা কারবারি তাদের রাজপ্রাসাদ ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অবৈধ টাকায় গড়া সুরম্য অট্টালিকা জনগণের সহায়তায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক প্রাসাদ এখন খাঁ খাঁ করছে। সেখানে মানুষ থাকছে না। আমরা যতদিন এখানে আছি, কাউকে কোনভাবেই অবৈধ অপকর্ম করতে দেওয়া হবে না।
কিশোর অপরাধ সম্পর্কে পুলিশ সুপার থানার ওসিকে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘যেখানেই দলবদ্ধ কিশোরদের দেখবেন তাদেরকে সোজা গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে এসে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমা করে ছেড়ে দেবেন। এর পরও যদি তাদের রাস্তা-ঘাটে, স্কুল-কলেজের সামনে দেখা যায় তাহলে অভিভাবকসহ ওই কিশোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।’ কোন অপরাধীকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার না করার নির্দেশনা দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এখন থেকে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যরাই পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করবেন। থানায় কোন দালালকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
পুলিশ সুপার চকরিয়াবাসীর উদ্দেশ্যে অনুরোধ করে বলেন, আপনারা এমন কোন কাউকে বড় চেয়ারে বসাবেন না, যারা অপরাধ কর্মকা- ও অবৈধভাবে পন্থায় রাতারাতি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। তাদেরকে যদি ভুল করে বড় চেয়ারে বসান তাহলে অপরাধ কর্ম চলতেই থাকবে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি এমপি জাফর আলম বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোন মাদক কারবারি, দখলবাজ, সন্ত্রাসী, গুজব রটনাকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এজন্য পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কক্সবাজারের পুলিশ সদস্যরা যথাযথা দায়িত্ব পালন করছে। আজকের কমিউনিটি পুলিশিং ও সুধী সমাবেশ প্রমাণ করে অপরাধ দমনে চকরিয়ার মানুষ সবসময় পুলিশকে সহায়তা দেবে। তাই বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ত্বরাণি¦ত করাসহ সুন্দর, শান্তিময় চকরিয়া-পেকুয়া গড়তে সকলে একযোগে কাজ করে যাবো আমরা।’

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।