৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ২৬ মাঘ, ১৪২৯ | ১৭ রজব, ১৪৪৪


শিরোনাম
  ●  চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, এমপি মোসলেম উদ্দীনের মৃত্যুতে কক্সবাজার জেলা আ’লীগের শোক   ●  স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাত এমপি জাফর আলমের   ●  কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হয়রানি ও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন   ●  প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানোন্নয়নে কক্সবাজার পৌর এলাকায় চলছে দরিদ্রবান্ধব নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কাজ   ●  পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে নিষিদ্ধ পলিথিন, হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ, জরিমানা   ●  বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদের নেতা   ●  হাতের কব্জির রগ কেটে মোবাইল-ল্যাপটপ ছিনতাই   ●  কক্সবাজারে ইয়াবার মামলায় ৮ রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন   ●  লোহাগাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে ‘পেট্রোলের আগুনে’ পুড়িয়ে মারার চেষ্টা!   ●  চকরিয়ার সাহারবিলে সড়ক উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন এমপি জাফর আলম

পুলিশ ব্যস্ত সহিংসতা দমনে

পুলিশ ব্যস্ত রাজনৈতিক সহিংসতা দমনে। ফলে ভাটা পড়েছে তাদের দৈনন্দিন কাজে। পুরনো মামলার তদন্তও প্রায় বন্ধ। পেশাদার অপরাধী গ্রেফতারে অভিযান নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে রাজধানীসহ সারা দেশে। ছিনতাই, ডাকাতি, চুরিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। মাদক ব্যবসায়ীরা এ সুযোগে এখন ভীষণ ব্যস্ত। মাদক আসছে কোনো ধরনের বাধাবিপত্তি ছাড়াই। সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন কাক্সিক্ষত সেবা থেকে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় মামলার চার্জশিট ও ফাইনাল রিপোর্ট দাখিলের সংখ্যাও কমে গেছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটলে দৈনন্দিন কাজে প্রভাব পড়ে। জনবলের স্বল্পতার কারণেও মামলার তদন্ত বন্ধ রাখতে হচ্ছে। রাজনৈতিক সহিংসতা ও রাজনৈতিক মামলা ছাড়া অন্যান্য কাজের পেছনে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সাব-ইন্সপেক্টররা বাড়তি সময় দায়িত্ব পালন করেও কাজ শেষ করতে পারছেন না। একই সঙ্গে তাদের নিরাপত্তাজনিত যাবতীয় কর্মকাণ্ড এবং মামলার তদন্ত করতে হয়। তবে ডিএমপি কর্মকর্তাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশের তৎপরতা না থাকলে রাজনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি সামাজিক অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এ পরিস্থিতির অবসান না ঘটলে সামনের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের যাওয়ার আর জায়গা থাকবে না।অপরাধ বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পুলিশ রাষ্ট্রের একটি সংস্থা এবং সরকারের দায়িত্ব পুলিশকে পরিচালনা করা। আইন অনুসারে সরকারের দায়িত্ব জনগণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে পুলিশ। অন্যদিকে পুলিশের দায়িত্ব দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, অপরাধের নিয়ন্ত্রণ-প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে তদন্ত করে আদালতের কাছে তথ্য উপস্থাপন করা। কিন্তু বাস্তব অর্থে পুলিশকে দেখা যাচ্ছে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন ও বিভিন্ন প্রটোকলের কাজে ব্যস্ত থাকতে। এগুলো নন-পুলিশিং কর্মকাণ্ড। নন-পুলিশিং কাজে ব্যস্ত থাকায় স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের আসল দায়িত্ব পালন সম্ভব হচ্ছে না। যতদিন নন-পুলিশিং কর্মকাণ্ডে পুলিশের ব্যবহার বন্ধ হবে না ততদিন অপরাধের নিয়ন্ত্রণ-প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ সক্ষমতা আমরা দেখতে পাব না। পুলিশের মাঠ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি শুরুর পর থেকে বাড়তি আট ঘণ্টা কাজ করেও সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হয়ে উঠছে না। এখন আর দিন-রাত বা ছুটির কথা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বলা যাচ্ছে না। প্রতিটি মুহূর্ত তটস্থ থাকতে হচ্ছে। দুই মাস ধরেই এ অবস্থা। পুলিশের একাধিক সূত্র বলেছে, তাদের এখন বড় চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবিলা করে জনমনে স্বস্তি বিধান করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ক্লুলেস হত্যা মামলা, মাদক সম্রাট, অস্ত্র ব্যবসায়ী ও দাগি সন্ত্রাসীদের নিয়ে নিবিড় অনুসন্ধান করে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। পেশাদার অপরাধীদের পেছনে সময় ব্যয় করতে না পারলেও অন্যান্য সময়ের তুলনায় রাস্তায় বেশি সময় পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। গত মাসে পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে ৬৪ জেলার এসপিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক বোমাবাজ, গাড়ি ভাঙচুরকারীদের প্রতিহতের পাশাপাশি পুলিশকে তাদের ‘মূল’ কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, যে যাই বলুন, বর্তমান বাস্তবতায় সহিংসতা ও জ্বালাও-পোড়াও মোকাবিলাকেই অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে তাদের। সূত্র জানায়, মামলায় পুলিশি তদন্তের ওপর নির্ভরশীল দেশের ফৌজদারি বিচার কার্যক্রম। তাই তদন্তের ধীরগতিতে বিচারপ্রার্থীরা সমস্যায় পড়েছেন। পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪৯ থানা থেকে প্রতি মাসে গড়ে অন্তত ১২০০ মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। গত জানুয়ারি ও ফেব্র“য়ারি মাসে বিভিন্ন থানা থেকে অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়েছে প্রায় অর্ধেক। এর মধ্যে বেশির ভাগ মামলা মাদকদ্রব্য উদ্ধার সংক্রান্ত। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা পুলিশের চারটি বিভাগের ওপর মাসে গড়ে ১৩০-১৫০টি মামলার তদন্তভার ন্যস্ত থাকে। মাসে প্রায় সমান সংখ্যক মামলার চার্জশিট ও ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়। তবে ৫ জানুয়ারি থেকে পুলিশ রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে বেশি ব্যস্ত থাকায় চার্জশিট দাখিলের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে। এদিকে রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যেও অন্যান্য অপরাধ থেমে নেই। অনেক ঘটনার কারণও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল ভোরে রাজধানীর ভাষানটেক বালুর মাঠ এলাকায় গুলিবিদ্ধ এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার পরিচয়ও মেলেনি। তার বুকে ও কানে গুলির চিহ্ন রয়েছে। ভাষানটেক থানার এসআই নাসির উদ্দিন বলেন, ওই যুবককে গুলি করে হত্যার পর তাকে সেখানে ফেলা রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ একটি নিয়মিত রুটিন অনুসরণ করে। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে সেই রুটিনে কিছুটা পরিবর্তন আসে। তিনি বলেন, বিষয়টি এমন নয় যে, আমরা রুটিন ওয়ার্ক করছি না। বরং পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা ও জনগণের স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বনানী থানার ওসি ভূঁইয়া মাহবুব বলেন, পুলিশ নাশকতা বন্ধে ব্যস্ত। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রুটিনওয়ার্ক করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এর পরও নিয়মিত কাজ করে যেতে হচ্ছে।তদন্ত বন্ধ : দুই মাসে রাজধানীতে সংঘটিত একাধিক খুন, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনার তদন্ত বন্ধ হয়ে আছে। জানুয়ারিতে বাড্ডা এলাকায় একটি বাড়িতে দিনেদুপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। ওই ঘটনার পর পুলিশ-ডাকাতের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় তিন ডাকাত ও তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। একই দিন ভোরে মিরপুরের রূপনগর বেড়িবাঁধ এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই খুনের ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গত মাসে রাজধানীর রামপুরায় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রয়াত সাংবাদিক আখতার-উল-আলমের মেয়ে ফাহমিদা আক্তারকে নিজ ফ্ল্যাটে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান গুলিবিদ্ধ হন। দুর্বৃত্তরা তাকে বহন করা গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এখনো তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অভিজিৎকে হত্যার পর পুলিশ এখনো এর কূলকিনারা করতে পারছে না। পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত করতে পারছে না বলেই খুনিরা শনাক্ত হচ্ছে না।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।