২২ মে, ২০২৪ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ১৩ জিলকদ, ১৪৪৫


শিরোনাম
  ●  নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার প্রথম নির্বাচনে সহিংসতায় যুবক খুন; বসতবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ    ●  এভারকেয়ার হসপিটালের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহেরা নাজরীন এখন কক্সবাজারে   ●  কালেক্টরেট চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সভাপতি আব্দুল হক, সম্পাদক নাজমুল   ●  ক্যাম্পের বাইরে সেমিনারে অংশ নিয়ে আটক ৩২ রোহিঙ্গা   ●  চেয়ারম্যান প্রার্থী সামসুল আলমের অভিযোগ;  ‘আমার কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে’   ●  নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সবকিছু কঠোর থাকবে, অনিয়ম হলেই ৯৯৯ অভিযোগ করা যাবে   ●  উখিয়া -টেকনাফে শাসরুদ্ধকর অভিযানঃ  জি থ্রি রাইফেল, শুটারগান ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৫   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হেড মাঝিকে  তুলে নিয়ে   গুলি করে হত্যা   ●  যুগান্তর কক্সবাজার প্রতিনিধি জসিমের পিতৃবিয়োগ   ●  জোয়ারিয়ানালায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত রামু কলেজের অফিস সহায়ক

‘বিচ্ছিন্ন ঘটনায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন’

 102342...

 

   প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, ‘বিছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।’

ঢাকা সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সিইসি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রেই ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

তিনি বলেন, সকল কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন গণনা চলছে। আপনার জানেন, নির্বাচনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া সেনাবাহিনীকে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তড়িৎ হস্তক্ষেপের কারণে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কেউ-ই কোনো অভিযোগ করেনি

রকিবউদ্দিন বলেন, ‘আমি এবং আমার সহকর্মীরা অনেকগুলো ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। এ সময় সাংবাদিকরাও ছিলেন।

তিনি বলেন, আমি ধানমন্ডির কাকলী হাই স্কুল এ্যান্ড কলেজ ও মোহাম্মদপুরের রেসিডেনয়িাল কলেজের ভোট কেন্দ্রে পরিদর্শন করেছি। এ সময় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের এ্যাজেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা কেউ-ই কোনো অভিযোগ করেনি।

সিইসি বলেন, কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরাও এ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে গণমাধ্যমে মত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বড় তিন সিটির নির্বাচন বিশাল কর্মযজ্ঞ। কতিপয় কেন্দ্রে অনভিপ্রেত ঘটনার খবর আমাদের কাছে এসেছে। আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি।

তিন কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত

সিইসি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটির তিনটি ভোটকেন্দ্র প্রিসাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে গেলে ভোটগ্রহণ স্থাগিত করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রগুলো হল- ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কমলারপুর এলাকার কমলাপুর শেরেবাংলা রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়, ৫৩ ওয়ার্ডের শ্যামপুরের আশরাফ মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয় এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুরিটোলা উচ্চ বিদ্যালয়।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সিইসি বলেন, যাদের কারণে ওই তিন কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের পরও এ বিষয়ে তদন্ত চলবে।

এ ছাড়া গোলযোগের কারণে আরও কয়েকটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ সাময়িক স্থগিত রাখা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপে পরে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এলে ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

নির্বাচন পরবর্তী শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও এক দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী মাঠে থাকবে বলেও জানান সিইসি। তিনি তাদের সজাগ ও সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন।

 

ভোট বর্জন ব্যক্তিগত ব্যাপার

জাল ভোট, কেন্দ্র দখল ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের ওপর অনাস্থা জ্ঞাপন করে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছেন কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো অভিযোগ আমাদরে কাছে আসেনি। এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।

সিইসি বলেন, তাদের অনেক অভিযোগ আমরা আমলে নিয়েছি। আপনারা দেখেছেন, যেসব কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে, সেখানে আমরা ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছি। প্রতিদ্বন্দ্বী ভোটের ব্যবধান কম হলে সেসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট : প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা

বেশিরভাগ কেন্দ্রে দখল করে প্রকাশ্যে ছিল মারা হয়েছে— এটা ইসি কিভাবে দেখছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা অনেক অভিযোগ পেয়েছি। সেসব অভিযোগ আমরা তদন্ত করছি এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। যেগুলো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশে পুলিশি বাধার বিষয়ে সিইসি বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওযার পরপরই কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে আপনারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

তিনি বলেন, আমাদের নির্দেশের পরও যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে তাদের তালিকা দেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি

সহিংসতার কারণে তিনটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়, এমন পরিস্থিতে সেনাবাহিনীকে তলব করা প্রয়োজন ছিল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া এবং সেনাবাহিনী তলব করা দু্টো ভিন্ন জিনিস। যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, তখন সেনাবাহিনী তলব করা হবে। তারা কন্ট্রোল করতে পারলে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দরকার হয় না।

তিনি বলেন, এখনও নির্বাচন শেষ হয়নি। গণনা চলছে। আপনারা জানেন, নির্বাচনের পরও হামলাসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ভোট দিয়ে ভোটাররা নিরাপদে বাসায় ফিরে গেছে, এটা আমাদরে জন্য বড় শান্তির বিষয়। ভোট কাস্টিংয়ের বিষয়ে গণনা শেষে বুধবার বলতে পারব।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।