২৯ মার্চ, ২০২৩ | ১৫ চৈত্র, ১৪২৯ | ৬ রমজান, ১৪৪৪


শিরোনাম
  ●  সাগরে ১০টি বস্তায় মিলল ৭ লাখ ইয়াবা   ●  উখিয়ায় কলেজ ছাত্রকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪   ●  মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি কক্সবাজার জেলা কারাগারের বিনম্র শ্রদ্ধা   ●  উখিয়ায় মাটি ভর্তি ডাম্পার আটক   ●  কক্সবাজারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত   ●  স্বাধীনতা দিবসে মরিচ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি উন্মোচন   ●  পানেরছড়ায় পাহাড় ও গাছ কাটার হিড়িক, নিরব বন বিভাগ   ●  চকরিয়ায় গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় এমপি জাফর আলম   ●  চকরিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আ.লীগের ইফতার মাহফিল-আলোচনা সভায় এমপি জাফর   ●  খুটাখালী ইউনিয়ন আ.লীগের ইফতার মাহফিল, আলোচনা সভায় এমপি জাফর

‘বিএনপির অভিযোগ, ভোটার-কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছেন আ’লীগ প্রার্থী ও কর্মীরা’


বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর ভোটার ও সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড ও ২নং ওয়ার্ডের ধানের শীষের ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের এই হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। এসব ওয়ার্ডে নৌকায় ভোট না দিলে ভোটারদের কেন্দ্রে না যেতে বলা হচ্ছে। বিএনপি প্রার্থীর সম্ভাব্য এজেন্টদের এজেন্ট না থাকতে এবং ভোটের প্রচারণা না করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। স্বয়ং আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমান নিজেও হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
শনিবার (১৪ জুলাই) বিএনপি মনোনিত প্রার্থী রফিকুল ইসলামের নির্বাচনী অঙ্গীকার ঘোষণা বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল জানান, ১নং ওয়ার্ড ও ২নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের লোকজন বিএনপির ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিচ্ছে। দলীয় নির্বাচন হলেও বিএনপি ভোটারদের নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। ধানের শীষের প্রচারণা চালাতে বাধা প্রদান করা হচ্ছে, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য এজেন্টের এজেন্ট না থাকতে ভয় দেখানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিয়মিত এই ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি ১নং ওয়ার্ডে গিয়ে নৌকার প্রার্থী মুজিবুর রহমান নিজেই যারা নৌকায় ভোট দেবে না তাদেরকে কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছেন।
লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র বর্তমানে কক্সবাজারে হাজার হাজার বিদেশী লোকজন অবস্থান করছেন। একইভাবে সারা বিশ্বজুড়ে কক্সবাজার এক নামে পরিচিতি লাভ করেছে। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে কক্সবাজারের সুন্দর পরিবেশ বিনষ্ট হলে কক্সবাজারের উপর বৈশ্বিকভাবে নীতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই আপনারা ক্ষমতার অপব্যহার করে ভোটে প্রভাব বিস্তার করবেন না।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের রাজনীতিতে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং সহাবস্থানের একটা ঐহিত্য আছে। আমরা সারাজীবন এই অবস্থানকে লালন করে রাজনীতি করে আসছি। কিন্তু এভাবে যদি বিএনপি ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের হুমকি প্রদর্শন করা হয় তাহলে সেই ঐতিহ্য বিনষ্ট হয়ে যাবে। এতে করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মারাত্মক ক্ষতি হবে।
ইভিএম কেন্দ্র প্রসঙ্গে কাজল বলেন, তিন কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ষড়যন্ত্রের আভাস রয়েছে। কেননা এক ওয়ার্ডের তিনটি কেন্দ্রেই ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করার কোনো ধরণের যৌক্তিকতা নেই। মূলত ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট কম কাস্ট হয়। তাই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রফিকুল ইসলামের নিজ এলাকা ১১ ওয়ার্ডের সাবকেন্দ্রসহ তিনটি কেন্দ্রেই ইভিএম- এ ভোট নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তা কখনো হতে পারে না। প্রয়োজন হলে সব মেয়র প্রার্থী নিজ কেন্দ্রই একটি করে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নিতে হবে।

বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলামকে সবার থেকে যোগ্য দাবি করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, নির্বাচনে সব প্রার্থীর মধ্যে রফিকুল ইসলামই সেরা। কেননা একটানা তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ২৭ বছর তিনি জনপ্রতিনিত্ব করে আসছেন। এই দীর্ঘ সময়ে সব কাউন্সিলরদের মধ্যে রফিকুল ইসলামই একমাত্র জনগণকে সেরা সেবা দিয়েছেন। তিনি কখনো টেন্ডাবাজি করেনি। নিয়মিত সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অফিস করেছেন। এর বাইরেও জনগণের প্রয়োজনে যখন যেখানে দরকার ছুটে গেছেন। সর্বোপরি পৌর সেবার কার্যক্রম সম্পর্কে রফিকুল ইসলাম একজন দক্ষ মানুষ। তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে সঠিক সময়ে যথাযথ সেবা পাবেন পৌরবাসী।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী চরমভাবে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছে। মাত্র পাঁচটি নির্বাচনী ক্যাম্প অফিস করার নিয়ম থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমান ১’শটির বেশি ক্যাম্প স্থাপন করেছে। রঙিন ব্যানার-পোস্টার সাটাই করেছে, রাস্তায় প্রদর্শন করা হচ্ছে বড় আকারের কাঠের নৌকা। সব কিছু নির্বাচনী আচরণ বিধির বাইরে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এসব দেখেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে কারচুপি এবং প্রভার বিস্তার কোনোভাবে সহ্য করা হবে না। যদি তা করা হয় তাহলে বিএনপি নেতাকর্মীরা সর্বাত্মক শক্তি দিয়ে তা প্রতিরোধ করবে। প্রয়োজনে গণ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এতে কক্সবাজারের শান্ত পরিবেশ নষ্ট হলে তার দায় আওয়ামী লীগকে নিতে হবে।

বিএনপি মনোনিত মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, জীবনের দীর্ঘ ২৭টি বছর জনগণের সেবায় কাটিয়ে দিয়েছি। এই সময়ে রাত-দিন বাছবিচার না করে জনগণের দুঃখ-দুর্দশায় ছুটে গেছি। এর প্রতিদানও পেয়েছি। জনগণ আমার এই সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে বার বার ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। মেয়র নির্বাচিত হলে পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পৌরবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাবো ইন্শাল্লাহ।

সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন পৌর নির্বাচনে সব অপ্রীতির পরিস্থিতি এড়িয়ে সুন্দর, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন বিএনপি নেতারা।

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদ ইউসুফ বদরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এটিএম নূরুল বশর চৌধুরী, ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. শামীম আরা স্বপ্না, সদস্য সচিব ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোহাম্মদ আলী।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম মোকতার আহমদ, জেলা যুবদলের সভাপতি সৈয়দ আহমদ উজ্জল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমীর আলী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাসেদুল হক রাসেল, সিনিয়র সহ-সভাপতি সরওয়ার রোমন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজারে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার অর্ধশত সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। ###

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।