২২ মে, ২০২৪ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ১৩ জিলকদ, ১৪৪৫


শিরোনাম
  ●  নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার প্রথম নির্বাচনে সহিংসতায় যুবক খুন; বসতবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ    ●  এভারকেয়ার হসপিটালের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহেরা নাজরীন এখন কক্সবাজারে   ●  কালেক্টরেট চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সভাপতি আব্দুল হক, সম্পাদক নাজমুল   ●  ক্যাম্পের বাইরে সেমিনারে অংশ নিয়ে আটক ৩২ রোহিঙ্গা   ●  চেয়ারম্যান প্রার্থী সামসুল আলমের অভিযোগ;  ‘আমার কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে’   ●  নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সবকিছু কঠোর থাকবে, অনিয়ম হলেই ৯৯৯ অভিযোগ করা যাবে   ●  উখিয়া -টেকনাফে শাসরুদ্ধকর অভিযানঃ  জি থ্রি রাইফেল, শুটারগান ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৫   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হেড মাঝিকে  তুলে নিয়ে   গুলি করে হত্যা   ●  যুগান্তর কক্সবাজার প্রতিনিধি জসিমের পিতৃবিয়োগ   ●  জোয়ারিয়ানালায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত রামু কলেজের অফিস সহায়ক

বাঁকখালী নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে কউক ও বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবরে বাপার স্মারকলিপি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি;

কক্সবাজার শহরের প্রধান নদী বাঁকখালী দিয়ে আশির দশকের যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল করত চট্টগ্রাম পর্যন্ত। নদীর কস্তুরাঘাট থেকে জাহাজ চলত টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলাতেও। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে দখল, দূষণ ও নদীসংলগ্ন প্যারাবন উজাড়ের মাধ্যমে এ নদীকে হত্যা করা হয়েছে।

নদীর দখল উচ্ছেদ ও দূষণমুক্ত করে নদীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ২০১৪ সালে হাইকোর্ট নির্দেশনা দিলেও সম্প্রতি সময়ে শহরের কস্তুরাঘাট এলাকায় কিছু অংশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও তালিকাভূক্ত দখলদারদের অবৈধ স্থাপনা গুলো এখনো পূর্ণাঙ্গ ভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়নি।
যার ফলে থেমে নেই শহরের পেশকার পাড়া, নুনিয়ারছড়া বাঁকখালী অংশে প্যারাবন উজাড় করে প্লট বানিয়ে পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ। এসব বন্ধে জেলা প্রশাসন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) বিআইডব্লিউটিএর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বাঁকখালী নদী জায়গায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার পক্ষ থেকে পৃথকভাবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বরাবরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। গতকাল ২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা ১ টায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান কমোডর নুরুল আবছারের হাতে উক্ত স্মারকলিপি তুলে দেন জেলা বাপা সভাপতি দৈনিক রূপালী সৈকত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ফজলুল কাদের চৌধুরী,জেলা বাপার সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম।

এসময় অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বাপার সহ সভাপতি ফরিদুল আলম শাহিন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম জসিম উদ্দিন, জেলা খেলাঘরের প্রেসিডিয়াম সদস্য ধ্রুব সেন,জেলা সদস্য ফাতেমা আক্তার শাহী, রুজি আক্তার, সদর উপজেলা বাপা সভাপতি এনামুল হক চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সামস্, শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক ইরফান উল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক হায়দার, সাংগঠনিক সম্পাদক উসেন থোয়েন,কক্সিয়ান এক্সপ্রেস সদস্য মকসুদুর রহমান অভি,আবছার বিন নাছের,ফয়সাল বিন আমান,চাষি দিদারুল আলম, আমিন উল্লাহ প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে নদীতে বিদ্যমান সব দখলদার ও স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দূষণের উৎস বন্ধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নদী ও নদীর তীর ভিন্ন উদ্দেশ্যে ইজারা প্রদান বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট আরেক আদেশে কক্সবাজার পৌরসভাকে বাঁকখালী নদীতে বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনোটাও মানা হচ্ছে না। বর্তমানে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি নদীর বুকে সৃজিত প্যারাবন কেটে সেখানে প্লট বানিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করছে প্রভাবশালী মহল। প্লটে এখনো জোয়ারের পানি উঠছে এবং সেখানে কেটে ফেলা প্যারাবনের গাছ স্পষ্ট দৃশ্যমান আছে।

স্মারকলিপিতে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে বাঁকখালী নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, খুরুশকুল ব্রীজ থেকে নুনিয়ারছড়া বাঁকখালী মোহনা পর্যন্ত নদীর তীর ও নদী সংলগ্ন প্যারাবন দখল ও দূষণমুক্ত করা, প্যারাবন দখল করে তৈরি স্থাপনা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পুনরায় বনায়ন, দখলদারদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা ইত্যাদি।

যে নদীর তীরে গড়ে উঠেছিলো পর্যটন শহর কক্সবাজার,সেই বাঁকখালী নদীর প্রাকৃতিকভাবে গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় গড়ে ওঠা নদীর বিস্তৃত তীরভূমি দখল করে নিয়েছে অনেক প্রভাবশালী কতিপয়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী দখলবাজরা দখল করা নদীর জায়গা পৈতৃক সম্পত্তির মতো করে নন জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে নোটারী: পাবলিকের মাধ্যমে চুক্তিপত্র সম্পাদন করে উচ্চমূল্যে বেচা-বিক্রি করে নিরীহ লোকজন থেকে হাতিয়ে নিয়েছে শতকোটি টাকা।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযান চলার পরপরই উচ্ছেন অভিযান বন্ধ করতে নানামুখী চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা এক হয়ে যাব। এবং উচ্ছেদ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপরে মানষিক চাপ সৃষ্টি করছেন উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য। যার ফলে জেলা প্রশাসন দুইদিন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পর বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে যায় । এতে জনমনে নানারকম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বাঁকখালী নদীর বাংলাবাজার থেকে শুরু করে জেলা শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া পর্যন্ত নদীর তীরভূমিতে শত শত অবৈধ স্থাপনা আজো পর্যন্ত বিদ্যমান।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।