মূল খবরে যান

শিরোনাম
● অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট মাহমুদুল হক সিকদারে’র জানাযার নামাজ সম্পন্ন● ঢাবি কক্সবাজার স্টুডেন্টস ফোরামের নতুন নেতৃত্বে এমরান-তারেক-সাহিক● উখিয়া প্রেসক্লাবে নতুন নেতৃত্বের শপথ, দায়িত্ব হস্তান্তর ও নবীন সদস্য বরণ● বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক হলেন সোহেল● দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশন নির্বাচনে সভাপতি পদে এগিয়ে আবুল হাশেম● সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাবের এর নেতৃত্বে উখিয়া উপজেলার বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতাল ও ডায়াগন্টিক সেন্টার পরিদর্শন● কক্সবাজার পুলিশ সুপারকে ঘিরে তিনজনের বদলি-পদায়ন বাণিজ্য● পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু● উখিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আলোচনা, রক্তদান ও উন্নত খাবার বিতরণ● আলোচিত ৫০ হাজার পিস ইয়াবা আটকের মামলায় নাম নেই ইয়াবার মুল মালিক ডালিম ও ভুট্টোর

পর্যটন স্পটগুলোর গল্প বলবেন কারা?

শেয়ার করুন

কক্সবাজার সময় ডেস্কঃ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের স্থানগুলোও পর্যটকদের আকর্ষণের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কিন্তু পর্যটকরা এই ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো দেখতে এলেও এসব স্থানের ইতিহাস তাদের বলার মতো কেউ নেই।  এ জন্য নেই কোনও প্রশিক্ষিত ট্যুরিস্ট গাইড। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন,  পর্যটকদের কাছে পর্যটন স্পটগুলোর ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরতে শিগগিরই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

জানা গেছে, দেশের প্রায় সাড়ে চারশ ঐতিহাসিক নিদর্শন, জাদুঘর, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের স্থান রয়েছে। এছাড়া, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, অপরাজেয় বাংলাসহ রয়েছে অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থাপনা। সারাদেশে রয়েছে ১৭টি  প্রত্বতত্ত্ব জাদুঘর। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগের লালবাগ জাদুঘর, বালিয়াটি জাদুঘর, রাজশাহী বিভাগের পাহাড়পুর জাদুঘর, মহাস্থান জাদুঘর, রবীন্দ্রকাচারী বাড়ি জাদুঘর, রংপুর বিভাগের তাজহাট জমিদার বাড়ি জাদুঘর, খুলনা বিভাগের রবীন্দ্রকুঠিবাড়ি জাদুঘর, এমএম দত্তবাড়ি জাদুঘর, রবীন্দ্রনাথের শ্বশুর বাড়ি, চট্টগ্রাম বিভাগের ময়নামতি জাদুঘর, বরিশাল বিভাগের শেরেবাংলা স্মৃতি জাদুঘর উল্লেখযোগ্য।

পর্যটকদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে যাচ্ছেন। তবে এসব স্থানের নেই ট্যুরিস্ট গাইড। ইতিহাস, ঐতিহ্য  জানার জন্য কোনও কোনও স্থানে থাকা ফলকই ভরসা। ফলে পর্যটকদের কাছে ইতিহাস, ঐতিত্যের প্রকৃত গল্পই থেকে যায় অজানা।

তবে যেসব ট্যুর অপারেটর বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে কাজ করেন, তারা নিজ উদ্যোগেই ব্যবস্থা করছেন ট্যুরিস্ট গাইডের।  বিদেশি পর্যটকরা এলে তাদের কাছে তথ্য তুলে ধরতে কাজ করেন এসব গাইড।

এ প্রসঙ্গে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিচালক তাসলিম আমিন শোভন বলেন,  ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন আছে, তেমনি আমাদের আছে প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নির্দশনও রয়েছে। প্রতিটি স্থাপনার পেছনে গল্প আছে, যা জানতে চান পর্যটকরা। আমরা যারা বিদেশি পর্যটক নিয়ে কাজ করি, তাদের নিজস্ব গাইড। তবে সব ট্যুরস্টি  ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে আসেন না, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও আসেন কেউ কেউ। তাদের জন্য ঐতিহাসিক স্থাপনার গল্প তুলের ধরার কেউ নেই। এ বিষয়ে উদ্যোগ প্রয়োজন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাকের আহমেদ বলেন, ‘একজন বিদেশির কাছে শহীদ মিনার কিংবা স্মৃতি সৌদ শুধুই স্থাপনা, কিন্ত প্রতিটি স্থাপানার পেছনে পটভূমি আছে।  পেছনের গল্প জানতে পারলে দর্শনার্থীর কাছে স্থানটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’

অধ্যাপক ড. শাকের আহমেদ বলেন, ‘দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শন, জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব স্থান শুধু দেখার বিষয় নয়, জানাও বিষয় রয়েছে। পুরনো একটি ভবন কিংবা স্থাপনা কেন দেখবেন একজন পর্যটক, তার কাছে স্থাপনার পেছনের গল্প তুলে ধরা প্রয়োজন। এ জন্য ট্যুরিস্ট স্পটে গাইড দরকার যারা গল্প বলবেন।  দক্ষ ট্যুরিস্ট গাইড গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে অভিজ্ঞ ট্যুরিস্ট গাইড তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।’

শেয়ার করুন