২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ১৯ মাঘ, ১৪২৯ | ১০ রজব, ১৪৪৪


শিরোনাম
  ●  প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানোন্নয়নে কক্সবাজার পৌর এলাকায় চলছে দরিদ্রবান্ধব নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কাজ   ●  পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে নিষিদ্ধ পলিথিন, হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ, জরিমানা   ●  বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদের নেতা   ●  হাতের কব্জির রগ কেটে মোবাইল-ল্যাপটপ ছিনতাই   ●  কক্সবাজারে ইয়াবার মামলায় ৮ রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন   ●  লোহাগাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে ‘পেট্রোলের আগুনে’ পুড়িয়ে মারার চেষ্টা!   ●  চকরিয়ার সাহারবিলে সড়ক উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন এমপি জাফর আলম   ●  রাইজিংবিডির বর্ষাসেরা প্রতিবেদক তারেককে আরইউসির শুভেচ্ছা   ●  স্ট্রীটফুড ও ড্রাই ফিস প্রশিক্ষাণার্থীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ ও সাপোর্ট প্রদান   ●  রামুতে দুই শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে পেল স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ

নাইক্ষ্যংছড়িতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করা হয়নি

SAMSUNG CAMERA PICTURES
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর থেকে ৮৮ কিলোমিটার অদূরে কক্সবাজারের উখিয়ার নিকটস্থ সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড়ে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে প্রায় ১০ হাজার একর সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বনসম্পদসহ অসংখ্য জীব বৈচিত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এসময় ১ জন অগ্নিদগ্ধসহ ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ উখিয়ার দরগাহপালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে আশংকাজনক অবস্থায় থাকলেও উপজেলা প্রশাসন এ পর্যন্তও ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে তাদেরকে সাহায্য সহযোগীতা করেনি। তবে বান্দরবান জেলা প্রশাসক বলছে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করতে ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিন ঘটনাস্থল নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের শিলের বাঁধ, চিক্কুমের পাহাড়, হাদিন্যার বুইজ্যার ঘোনাসহ নজির আহমদের বাগান এলাকা ঘুরে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১০ মার্চ মঙ্গলবার সীমান্তের ৪৩ নং পিলারের নিকটস্থ অলি ফকিরের ছনখোলা থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়। ক্রমশ এ আগুনের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৪৩নং পিলার থেকে ৪১নং পিলার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আগুনের লেলিহান শিখাঁ ছড়িয়ে পড়ে। ফরিদ আহমদের আম বাগানের পাহারাদার আব্দুন্নবী জানায়, সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে টাইপালং গ্রামের নুরুল আমিনের ২৫ একর আম বাগান, টাইপালং গ্রামের জসিম উদ্দিন, দরগাহবিল গ্রামের ছুরুত আলম, টাইপালং গ্রামের প্রতিবন্ধী আব্দুর রহমান, তুলাতলী গ্রামের সিরাজ মিয়া, দরগাহবিলের বদিউর রহমান, মেহের আলী, মোঃ শরিফ, ফকির আহমদ, ছৈয়দ নূর, রেজুপাড়া এলাকার হায়দার আলী, তুমব্র“ এলাকার আবু তাহের, উখিয়ার উয়ালাপালং গ্রামে জামাল উদ্দিন সিকদারের ২৫ একর রাবার বাাগনসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজনের  ব্যক্তি মালিকানাধীন ছনখোলা, আমবাগান, আকাশমনি, গর্জন বাগান, সেগুন বাগান ও কলা বাগানসহ প্রায় ৫ হাজার একর সরকারি বনসম্পদ ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বনজ, ফলজ বাগান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ওই সময় আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে টাইপালং গ্রামের মাস্টার নুরুল আমিন (৩৭) অগ্নিদগ্ধ হয়। এছাড়াও আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয়েছে, টাইপালং গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩০), তুলাতলীপাড়া গ্রামের নাসির উদ্দিন (৩৫), সাহাব উদ্দিন (২৮), বাদশাহ মিয়া (৩০), নুরুল ইসলাম(৩৬)। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের ৭ সদস্যের একটি দল আগুন নেভানোর জন্য ঘটনাস্থলে রওনা হয়ে মাঝপথে দূর্গম পাহাড়ি পথে আটকা পড়ে যায়। ফলে তাদের পক্ষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে সপ্তাহ ব্যাপী এ আগুন পাহাড়ে ধাঁও ধাঁও করে জ্বলার পর আগুনের তীব্রতা করে যায়। এতে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন রাবার ও সেগুন বাগান সহ প্রায় ১০ হাজারের অধিক একর বনসম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গত ১১ মার্চ বুধবার বেলা ১১ টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আমতলী বিজিবি, থোয়াঙ্গ্যাঝিরি বিজিবি, ঘুমধুম পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও জানান, ৪৩ নং সীমান্ত পিলার সংলগ্ন অলি ফকিরের ছনখোলা থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে প্রায় ৫ হাজার একর সরকারি বনসম্পদ ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগান পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যেতে না পারায় তাদের পক্ষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে তাদেরকে যথাযথ সাহায্য সহযোগীতার আশ্বস্ত করে ঘটনার ২ সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও আগুনে পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করেনি। বান্দরবান জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ে আগুনে বনসম্পদ পুড়ে যাওয়ার কথা জানার পরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করতে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়েত মোঃ শাহেদুল ইসলাম এখনো আগুনে পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনদের তালিকা তৈরি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসক ৫ হাজার একর সরকারি ও ব্যক্তিমালিকাধীন বাগান পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করলেও ক্ষতিগ্রস্থদের তথ্যমতে আগুনে প্রায় ১০ হাজার একর বনসম্পদ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।