মূল খবরে যান

শিরোনাম
● নিরাপদ সড়ক গড়তে কক্সবাজারে বিআরটিএর সচেতনতামূলক সভা● কম খরচে প্রসূতি সেবা দিয়ে প্রশংসিত ডা. রোকসানা● শ্মশানের দেয়াল ভাঙার অভিযোগে ক্ষোভ, ৮ অক্টোবরের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে উখিয়ায় দুর্গাপূজা বন্ধের সিদ্ধান্ত● কৃষকের যত চ্যালেঞ্জ● খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছেন● ফাল্গুনী মেকওভার পার্লারে নিম্নমানের সাজ, নারীদের হয়রানি-হুমকি ‘আমাদের বিরুদ্ধে রিভিউ দিলেও আমাদের কিছু যায়-আসে না’● সম্প্রতি উখিয়ায় সার ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে “গণসংযোগ” ও “উখিয়া বার্তা” নামক অনলাইন সংবাদমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে● সাহসিকতা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে পিপিএম পদক পেলেন ওসি মনিরুল ইসলাম ভূইয়া● অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট মাহমুদুল হক সিকদারে’র জানাযার নামাজ সম্পন্ন● ঢাবি কক্সবাজার স্টুডেন্টস ফোরামের নতুন নেতৃত্বে এমরান-তারেক-সাহিক

দরিয়ানগরে পাখি প্রেমিকদের ভীড়

শেয়ার করুন

বিরল বর্ণের ও প্রজাতির নানা পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে ওঠেছে দরিয়ানগর এলাকা। আর তা দেখতে প্রতিদিনই ভীড় করছে প্রকৃতিপ্রেমী উৎসুক মানুষের দল।চলমান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে নানান পাখি ওই পাহাড়ের ঢালে গর্ত খুঁড়ে বাসা বেঁধেছে আর সেখানে ডিম পেড়ে বাচ্চা ফুটিয়েছে।এখন নানা জাতের পাখির ছানার কিচির-মিচির ধ্বনি নজর কাড়ছে পাখি প্রেমিকদের।
গতকাল বুধবার বিকালে বানরের পাহাড়ের পাখির কলতান উপভোগ ও পাখির ছবি তুলতে আসেন রাজধানী ঢাকার সৌখিন ফটোগ্রাফার ডা. বাপ্পী ও ডা. রানা। একদল পরিবেশবাদী নিয়ে আরো এসেছিলেন হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকাও।
ঢাকা থেকে পর্যটক ডা. বাপ্পী ও ডা. রানা জানান- খবর পেয়ে বুধবার বিকালে তারা বানরের পাহাড় দেখতে গিয়েছিলেন। সে সাথে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও। আর ওই এলাকা থেকে তারা অনেক পাখির ছবি তুলেছেন। যারমধ্যে রয়েছে বিরল প্রজাতির সানবার্ডও। এছাড়া সুঁইচোরা, শালিক, কাঠশালিক, স্পটেট কিংশ ফিশার বা মাছ রাঙা, চড়–ই ও মুনিয়া পাখির ছবি তুলেছেন তারা।
কক্সবাজার হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা জানান- বুধবার বিকালে ‘বানরের পাহাড়ে’ পাখি দেখতে গিয়ে পাখির ঝাঁক ও তাদের কলরব দেখে বিমোহিত হন।পাহাড়টির জীববৈচিত্র্য পর্যটন ও পরিবেশের স্বার্থে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
জানা যায়, গত এপ্রিল মাস থেকে নানা বিরল প্রজাতির পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে ওঠেছে কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগরের ‘বানরের পাহাড়’। সেসাথে গতবছরের জুলাই মাসে পালিয়ে যাওয়া বানরের দলও ফিরেছে নতুন অতিথিসহ। চলমান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে বিরল বর্ণের নানা প্রজাতির পাখি এই পাহাড়ের খাড়া গায়ে গর্ত খুঁড়ে বাসা বাঁধে এবং ডিম দেয়ার পর বাচ্চা ফোটায়। আসছে ঘোর বর্ষার আগেই বাচ্চা বড় করে এসব পাখি নিরাপদ আবাসে ফিরবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান- চলতি মাসের শেষ দিকে এসব পাখি বাচ্চা নিয়ে অন্যত্র চলে যাবে। এগুলো চলে যাওয়ার পর ফিরবে বাতাসী পাখি ও মাছরাঙা। ইতোমধ্যে কিছু কিছু মাছরাঙা ও বাতাসীর দেখাও মিলছে; যে পাখিগুলো নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে একই কায়দায় বংশ বিস্তার করে অন্যত্র চলে গিয়েছিল।
কক্সবাজার শহরের কলাতলী মোড় থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণে মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন দরিয়ানগর বানরের পাহাড়টি বড়ছড়া খালের উত্তর পাশ থেকে শুকনাছড়ি পর্যন্ত প্রায় ১০ একর এলাকা জুড়ে অবস্থিত। জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ এই পাহাড়ে রয়েছে ঘন বাঁশবন ও সেগুন বাগান ছাড়াও নানা প্রজাতির বৃক্ষ ও গুল্মের সমাহার। এই পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে বাস করে নানা প্রজাতির পাখি। বিভিন্ন গাছেও বাসা বেঁধে থাকে পাখির দল। এরই মাঝে এখানে বাস করে বন্য বানরের কয়েকটি দলও। বানরের কয়েকটি দল ইতোমধ্যে বাচ্চা প্রসব করেছে। আর সেইসব বাচ্চাকে বুকে আঁকড়ে মা বানরের দুগ্ধ দান ও পাহাড়ের গায়ে বিচরণের দৃশ্য মন কাড়ছে দরিয়ানগরের শিশুদের। এসব পাখি দেখতে আসছে পর্যটকরাও।

শেয়ার করুন