২০ এপ্রিল, ২০২৪ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩১ | ১০ শাওয়াল, ১৪৪৫


শিরোনাম
  ●  কক্সবাজার পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুলের বরণ ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী মনতোষের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত   ●  জলকেলি উৎসবের বিভিন্ন প্যান্ডেল পরিদর্শনে মেয়র মাহাবুব   ●  উখিয়া সার্কেল অফিস পরিদর্শন করলেন ডিআইজি নুরেআলম মিনা   ●  ‘বনকর্মীদের শোকের মাঝেও স্বস্তি, হত্যার ‘পরিকল্পনাকারি কামালসহ গ্রেপ্তার আরও ২   ●  উখিয়া নাগরিক পরিষদ এর ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত   ●  আদালতে ফরেস্টার সাজ্জাদ হত্যার দায়স্বীকার সেই ডাম্পার চালক বাপ্পির   ●  ‘অভিযানে ক্ষুব্ধ, ফরেস্টার সাজ্জাদকে পূর্বপরিকল্পনায় হত্যা করা হয়’   ●  ফাঁসিয়াখালীতে পৃথক অভিযানে জবর দখল উচ্ছেদ, বালিবাহী ডাম্পার জব্দ   ●  অসহায়দের পাশে ‘রাবেয়া আলী ফাউন্ডেশন’   ●  ফরেস্টার সাজ্জাদ হত্যার মূল ঘাতক সেই বাপ্পী পুলিশের জালে

কক্সবাজার সাব- রেজিষ্ট্রার কার্যালয় গুলোতে কর্মরত ১১০ জন নকল নবিসরা অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে

কক্সবাজারের ৮ টি উপজেলার সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে কর্মরত এক্সট্রা মোহরার (নকল নবিস) ১১০ জন কর্মচারীর পরিবারে র্দুদিন চলছে। সরকারী সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এসব কর্মচারীদের পরিবার পরিজন চরম অনিশ্চিয়তায় দিন কাটাচ্ছে।
একাধিক কর্মচারী আক্ষেপ করে বলেন, সরকার এক্সট্রা মোহরারদের চাকুরী স্থায়ী করণের রাজস্ব খাতে নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকলেও কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিষয়টি দিনের পর দিন ঝুলে থাকায় বঞ্চিত হয়ে আসছে এসব নকল নবিস। গত ৫ ফেব্র“য়ারি বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার নকল নবিস এসোসিয়েশন কক্সবাজার জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ০৫.১৫৪.০১৫.০১.০২.০০৬,২০০৭-৩৫২, তাং-১২-১২-২০১৩ ইং স্মারক মুলে ও নিবন্ধন পরিদপ্তরের স্মারক নং-নিপ/রেজিঃ শাখা-৪/১১৩৯৫, ১৯-১০-২০১৪ইং তারিখে তালিকা ভুক্ত এক্সট্রা মোহরার হতে স্থায়ী মোহরার এর পদ সৃজন ও রাজস্ব খাতে অন্তভূক্ত করণের আবেদন করেন।
এদিকে কক্সবাজার সহ দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলার মধ্যে ৩টি পার্বত্য জেলা ব্যধিত ৬১টি জেলায় ৪৯৩টি সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে ১৫ হাজার নকল নবিস কর্মরত রয়েছে। এসব নকল নবিসদের প্রায় অর্ধেকই নারী। এক্সট্রা মোহরারদের চাকুরী রাজস্ব খাতে অন্তভূক্ত না হওয়ায় তারা বর্তমানে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষা সহায়ত ভাতা, মহার্ঘ ভাতা, টিফিন ভাতা এমন কি বিনা পারিশ্রমিকে নারী এক্সট্রা মোহরারদের মাতৃকালীন ছুটি সহ বিবিধ সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এছাড়াও নকল নবিসদের বয়স সীমা ৬০ বছর অতিক্রম হওয়ার পর তাদেরকে কর্মমুক্ত করে দেওয়া হয়। চাকুরী ছেড়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। অবসরকালীন ভাতাও জুটছেনা তাদের ভাগ্যে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসা এসব নকল নবিস কর্মরত অবস্থায় রোগ-ব্যধি বা অন্য কোন কারণে মৃত্যু বরণ করলে পরিবার-পরিজনকে করুণ পরিনতি ভোগ করতে হয়।
বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার (নকল নবিস) কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মিনার মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন বলেন, রেজিষ্ট্রেশন আইনের মূল উদ্দেশ্য মোহরার (স্থায়ী নকল নবিস) দ্বারা রেজিষ্ট্রেশনকৃত দলিলের নকল কাজ সম্পন্ন করা। অ-বিনাস যোগ্য স্থায়ী রেকর্ড সৃষ্টির মত গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেন। অথচ নকল নবিসদের মত অস্থায়ী কর্মচারীর দ্বারা একাজটি সম্পন্ন করা রেজিষ্ট্রেশন আইনের পরিপন্থি।
সরকারী সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের মোহরারগণ তাদের চাকুরী স্থায়ী করণের দাবী জানিয়ে আসলেও কাজটি বাস্তবায়নে ধীরগতি কারণে কার্যত নকল নবিসগণ দিনের পর দিন বঞ্চিত হয়ে আসছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসন আমলে এক্সট্রা মোহরারগণ স্মরনাপন্ন হলে তিনি দয়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সরকারী কমৃকর্তাদের চাকুরী স্থায়ী করণের নির্দেশ দেন। কিন্তু ১৫ আগষ্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নকল নবিসদের প্রাণের দাবী চাকুরী স্থায়ী করণের বিষয়টি কালো মেঘে ঢাকা পড়ে যায়। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সনে আইন প্রণয়ন করলেও আজ পর্যন্ত সেই আইনের বাস্তবায়ন হয়নি।
বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার (নকল নবিস) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি রবিন্দ্র নাথ দে বলেন, ১৯৮৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এক্সট্রা মোহরার এসোসিয়েশনের সাথে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে রেজিষ্ট্রেশন বিভাগীয় কর্মচারী এবং এক্সট্রা মোহরার (নকল নবিস) এসোসিয়েশন পুনরায় যৌথ ভাবে চাকুরী স্থায়ী করণের দাবী নামা পেশ করে একটি কমিটি গঠন করেন। উক্ত কমিটি এক্সট্রা মোহরারদের স্কেল ভুক্ত করার সুপারিশ করেন। পরবর্তী সময়ে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নকল নবিস জানান, গত ১০ জানুয়ারি ২০১৩ইং এসোসিয়েশনের পক্ষ হতে আরো একটি দাবী নামা তৎকালীন আইন মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদ ও প্রতিমন্ত্রী এডঃ কামরুল ইসলামের নিকট পেশ করেন। এসময় আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ছৈয়দ আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। উক্ত কমিটি গত ২০১৩ সালের ২৯ আগষ্ট সুপারিশক্রমে তা নিবন্ধন কার্যালয়ের মহাপরিদর্শক যাচাই বাছাই করে ১০ হাজার ৩৩২ জন এক্সট্রা মোহরারকে স্কেল ভুক্ত করার একটি প্রস্তাব আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। আইন মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হলে ওই মন্ত্রণালয় কিছু তথ্য-উপাত্ত চেয়ে প্রস্তাবটি ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের ১২ তারিখ ফেরত পাঠান। জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চাওয়া তথ্যাদি পুরণ করে প্রস্তাবটি ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠনো হয়। এ প্রেক্ষিতে যাচাই বাছাই করে আইন মন্ত্রণালয় হতে ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি প্রস্তাবটি জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
সব শেষে এক্সট্রা মোহরারদের কাজের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দুরিকরণ এবং জনগণের রেজিষ্ট্রিকৃত দলিলে নির্ভূল স্থায়ী রেকর্ড সৃষ্টির নকল নবিসদের চাকুরী রাজস্ব খাতে অন্তভুক্ত ও এক্সট্রা মোহরার পদ সৃজন করে সরকারের দিন বদলের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন চান এসব নকল নবিস কারকরা।
কক্সবাজার জেলা রেজিষ্ট্রার মোঃ আশরাফুজ্জামান বলেন, এক্সট্রা মোহরার বা নকল নবিসদের চাকুরী জাতীয় করণের বিষয়টি শুধু মাত্র ঘোষনার বাকি। সংশ্লিষ্টরা আন্তরিক হলে দ্রুত বাস্তবায়ন হয়ে প্রস্তাবটি আলোর মুখ দেখবে বলে তিনি আশা করেন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।