২৩ মে, ২০২৪ | ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ১৪ জিলকদ, ১৪৪৫


শিরোনাম
  ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ আরসা সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার    ●  নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার প্রথম নির্বাচনে সহিংসতায় যুবক খুন; বসতবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ    ●  এভারকেয়ার হসপিটালের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহেরা নাজরীন এখন কক্সবাজারে   ●  কালেক্টরেট চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সভাপতি আব্দুল হক, সম্পাদক নাজমুল   ●  ক্যাম্পের বাইরে সেমিনারে অংশ নিয়ে আটক ৩২ রোহিঙ্গা   ●  চেয়ারম্যান প্রার্থী সামসুল আলমের অভিযোগ;  ‘আমার কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে’   ●  নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সবকিছু কঠোর থাকবে, অনিয়ম হলেই ৯৯৯ অভিযোগ করা যাবে   ●  উখিয়া -টেকনাফে শাসরুদ্ধকর অভিযানঃ  জি থ্রি রাইফেল, শুটারগান ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৫   ●  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হেড মাঝিকে  তুলে নিয়ে   গুলি করে হত্যা   ●  যুগান্তর কক্সবাজার প্রতিনিধি জসিমের পিতৃবিয়োগ

কক্সবাজার ও চট্রগ্রামের ১২ পুলিশ সদস্য জিঁয়ে রেখেছে ইয়াবা ব্যবসা

Yaba1434961529
দেশে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার অন্যতম ব্যবসায় পরিণত হয়েছে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা ব্যবসা। আর এ লোভ সামলে রাখতে না পেরে রীতিমত সিন্ডিকেট করে এ ব্যবসায় নেমে পড়েছেন কতিপয় পুলিশ সদস্য।
গত রোববার ভোররাতে চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭ কর্তৃক প্রায় ২৭ কোটি টাকা মুল্যের ইয়াবাসহ চট্টগ্রাম পুলিশের বিশেষ শাখার এক এএসআই-কে গ্রেফতারের পর ইয়াবা ব্যবসায় পুলিশি সিন্ডিকেটের সন্ধান পায় র‌্যাব। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার কেন্দ্রিক অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। শুধুমাত্র বড় বড় ইয়াবার চালান নির্বিঘেœ পাচার করে সিন্ডিকেটের পুলিশ সদস্যরা প্রতিমাসে এক কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করছেন বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন জানান, গত রোববার প্রায় ২৭ কোটি টাকা মুল্যের ৬ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটের একটি বৃহৎ চালান আটকের পর এর পাচারকারী চক্রে পুলিশের একটি সিন্ডিকেটের সন্ধান পাওয়া যায়। এই সিন্ডিকেটের একজন প্রভাবশালী সদস্য পুলিশের বিশেষ শাখার এএসআই মাহফুজুর রহমান। রোববার একটি এলিয়ন ব্র্যান্ডের প্রাইভেটকার যোগে (ঢাকা মেট্রো গ-১৭-১৭১৮) কক্সবাজার থেকে ঢাকায় পাচারের সময় ২৭ কোটি টাকার ইয়াবাসহ ফেনী জেলার লালপোল নামক এলাকা থেকে এএসআই মাহফুজ ও তার গাড়ি চালককে আটক করতে সক্ষম হয় র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, এএসআই মাহফুজুর রহমানকে বহনকারী প্রাইভেটকারটি তল্লাশি করে ৬ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ছাড়াও ইয়াবা ব্যবসার টাকা লেনদেনের ২৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকার একটি হিসাব বিবরণীও পাওয়া গেছে। এই হিসাব বিবরণীতে রয়েছে ইয়াবা ব্যবসার সিন্ডিকেট সদস্যদের নাম। এ ছাড়া গাড়ি থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা, ৪টি মোবাইল ফোন এবং ৮টি ক্রেডিট কার্ডও উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাবের হাতে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এএসআই মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন ২০১১ এবং ২০১৩ সালে কক্সবাজার ও টেকনাফ উপজেলায় কর্মরত থাকার সময় থেকেই তিনি ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। টেকনাফ ও কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতার সুযোগে কোটি টাকা আয়ের হাতছানিতে ইয়াবা ব্যবসায় নিজেই সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এএসআই মাহফুজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটককৃত এএসআই মাহফুজ, এস আই বেলাল ও এএসআই আশিক নামের তিন পুলিশ কর্মকর্তা একসময় কক্সবাজারের টেকনাফে কর্মরত ছিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় তারা স্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে যুক্ত হন। পরে মাহফুজুর, আশিক ও বেলাল মিলে আরও কয়েকজনকে যুক্ত করে নিজেরাই একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এরপর থেকে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে তারা নিরাপদে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। নিজেরা পুলিশ সদস্য হওয়ায় তারা ছিলেন সন্দেহের বাইরে এবং তাদের ব্যবসা চলছিল নিরবিচ্ছিন্ন। গত দুই বছরে ইয়াবা ব্যবসার মাধ্যমে পুলিশি সিন্ডিকেটের প্রতিটি সদস্য প্রতিমাসে এক কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করতো বলে জানা গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইয়াবা ব্যবসায় পুলিশি সিন্ডিকেটের সদস্যদের প্রতিমাসে কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।

আটকের পর এএসআই মাহফুজ র‌্যাবকে জানিয়েছেন, গত শনিবার ৬ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা তিনি কক্সবাজারের বাহারছড়ায় সার্কিট হাউজ রোডে ১৫২ নম্বর হাজী আমির ম্যানশনে অবস্থিত পুলিশের এস আই বেলালের বাসা থেকে গাড়িতে তুলেছেন। প্রতিবারই তিনি বেলালের বাসা থেকেই ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করতেন। পুলিশ কর্মকর্তার বাসা হওয়ায় তাদের কেউই সন্দেহ করত না বলে মাহফুজুর র‌্যাবকে জানান। মাহফুজ আরও জানান, ইয়াবার চালানটি কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এস আই মো. বেলাল এবং কুমিরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মো. আশিক তাকে ঢাকায় পৌঁছে দিতে বলেন। ঢাকায় মাহফুজের কাছ থেকে হাইকোর্টের এক আইনজীবীর মুহুরি মো. মোতালেব, অ্যাডভোকেট জাকির, কনস্টেবল শাহীন, কাসেম ও গিয়াসের এগুলো বুঝে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঢাকা যাওয়ার পথে ফেনীর লালপোল নামক এলাকায় এসে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে যান এএসআই মাহফুজ।

চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭ এর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী ‘ইয়াবা সিন্ডিকেট’ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পাচার করে আসছিল। এ সিন্ডিকেটে গুরুত্বপূর্ণদের মধ্যে আছেন, কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক এস আই (বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশে কর্মরত) বেলাল হোসেন, হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, সীতাকুন্ডের কুমিরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই (বর্তমানে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশে কর্মরত) আশিক হোসেন, হাইকোর্টের মুহুরি আব্দুল মোতালেব, ঢাকার এসবি’র টেকনিক্যাল সেকশনের এএসআই মাহফুজুর রহমান এবং কনস্টেবল কাশেম, গিয়াস ও শাহিন। এ ছাড়াও আছেন তোফাজ্জল হোসেন, আজাদ, গোবিন্দ, সেলিম, বিল্লাল ও কুমিল্লার মামা হান্নান। পুলিশ-আইনজীবী, আদালতের কর্মচারিসহ বিভিন্ন পেশার লোকজনের সমন্বয়ে গড়ে উঠা এই সিন্ডিকেটটি গত তিন মাসে প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকার ইয়াবা কিনে বাজারে সরবরাহ করেছে বলে এএসআই মাহফুজের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া হিসাব বিবরণী থেকে তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।

এদিকে রোববার ২৭ কোটি টাকার ইয়াবার চালানসহ পুলিশের এএসআই গ্রেফতারের পর সমগ্র চট্টগ্রামে এই নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনেকটা নড়েচড়ে বসেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা তাদের লজ্জার কথা প্রকাশ করে বলেছেন- কয়েকজন পুলিশ সদস্যের অপকর্মের কারণে চট্টগ্রাম কক্সবাজারের পুলিশ সদস্যরা চরম লজ্জার মধ্যে পড়ে গেছে। অপরদিকে, পুলিশের ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যদের ব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু করে তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে র‌্যাব। এই সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য প্রভাবশালী হওয়ায় তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে র‌্যাব তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছে।

 

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।