২০ জুন, ২০২৪ | ৬ আষাঢ়, ১৪৩১ | ১৩ জিলহজ, ১৪৪৫


শিরোনাম
  ●  পাহাড় ধ্বসঃ ৮ রোহিঙ্গাসহ নিহত ১০   ●  উখিয়ার ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধ্বসে ৭ রোহিঙ্গা সহ নিহত ৯   ●  রামুতে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা   ●  উখিয়া-টেকনাফের ৫ শতাধিক তরুন-তরুণীকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ‘সুশীলন’   ●  খাদ্যে ভেজাল রোধে সামাজিক আন্দোলন দরকার : খাদ্যমন্ত্রী   ●  ইজিবাইকের ছাদে তুলে ৮ বছরের শিশু নির্যাতন ভিডিও ভাইরাল: তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার   ●  ভবিষ্যতে প্রেস কাউন্সিলের সার্টিফিকেট ছাড়া সাংবাদিকতা করা যাবে না   ●  একমাসেও অধরা ঘাতক চক্র, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে পরিবারে হতাশ   ●  সমুদ্রকেই ঘিরে কক্সবাজারের অর্থনীতি   ●  সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য হাসিঘর ফাউন্ডেশনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান

কক্সবাজারে পাঁচ সহকর্মীর পিপিএম-আইজিপিএস ব্যাজ প্রাপ্তি অন্য পুলিশদের অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে

সায়ীদ আলমগীর : দায়িত্ব পালনকালে সততা, দক্ষতা ও সাহসিকতার প্রমাণ পাওয়ায় কর্মক্ষেত্রের জন্য সর্বোচ্চ সম্মানজনক রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) ও আইজিপিএস ব্যাজ পাচ্ছেন কক্সবাজারের পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা। এদের মধ্যে পিপিএম পাচ্ছেন- কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হোছাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী ও মহেশখালী থানার কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাওন দাশ এবং আইজিপিএস ব্যাজ পাচ্ছেন- সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া-পেকুয়া) কাজী মো. মতিউল ইসলাম, টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইন উদ্দিন খান ও কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ফেরদৌস।
সোমবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ‘পুলিশ সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে কুচকাওয়াজ শেষে পিপিএম’র জন্য মনোনীতদের পদক পরাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর আইজিপিএস ব্যাজ পরিয়ে দেবেন মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। এবারে পিপিএমের জন্য মনোনীতদের মাঝে সর্বকনিষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা এসআই শাওন দাশ। তিনি ২০১৩ সালে বাহিনীতে যোগ দেন। প্রশিক্ষণের পর তিনি রামু ও উখিয়া থানায় দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে মহেশখালী থানায় (কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ) সংযুক্ত রয়েছেন। তার নেতৃত্বে মহেশখালীর অন্তত ১৫ জন শীর্ষ অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে। উদ্ধার হয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র।
শাওন দাশ বলেন, কোন কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার মানে হল দায়িত্ব বেড়ে যাওয়া। পিপিএম পাওয়ায় নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। এ পদক সামনের দিনগুলোতে দেশ’র জন্য সততার সাথে লড়ার অনুপ্রেরণা যোগাবে।
সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার এইচ এম রায়হান কাজেমী বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ গঠনের পর পরই পুস্টিং নিয়ে কক্সবাজার আসি। সবার সহযোগিতায় বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতকে পর্যটক বান্ধব করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরমাঝে অনেক পর্যটকের হারানো মূল্যবান মালামাল উদ্ধার, হারানো শিশুকে খোঁজে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরসহ অনেক কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে। এর স্বীকৃতি স্বরূপ এ পদকের মনোনীত আরো দায়িত্ব বেড়েছে বলে মনে করছি।
আইজিপিএস ব্যাজের জন্য মনোনীত কুতুবদিয়া থানার ওসি দিদারুল ফেরদৌস দু’বার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করেছেন। মহেশখালী থানায় ওসি-তদন্ত হিসেবে কাজ করেছেন দুই বছর। একই ব্যাজের জন্য মনোনীত চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ মতিউল ইসলাম কয়েক বছর আগে কক্সবাজার সদর থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরেক কর্মকর্তা টেকনাফ থানার ওসি মাইন উদ্দিন খানও শান্তিমিশনে কাজ করে এসেছেন। বিশ্বময় প্রশিক্ষণেলব্দ জ্ঞান নিজ নিজ কর্মস্থলে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশংসা অর্জন করছেন তিনি। বিশেষ করে চলমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে নৌকাডুবির ঘঁনায় শতাধিক মরদেহ উদ্ধার ও দাফনে কৃতিত্ব দেখিয়ে দেশময় সবার নজরে আসেন ওসি মাইন উদ্দিন খান। যার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি আইজিপিএস ব্যাজে ভূষিত হয়েছেন।
কক্সবাজার পুলিশে একসাথে একাধিক জন রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হওয়ার এটিই প্রথম নজির। ভাল কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ রাষ্ট্রীয় ও ডিপার্টমেন্টাল পদক পাওয়ার তথ্যটি প্রচার পাবার পর থেকে জেলায় কর্মরত অন্যদের মাঝেও অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত বড়ুয়া। তিনি বলেন, যখন থেকে পদকে মনোনীত সহকর্মীদেও নাম ঘোষণা এসেছে তখন থেকে নিয়মিত দায়িত্বে পাশাপাশি অন্যান্য কর্মতৎপরতাও বাড়িয়েছে সব থানা-তদন্ত কেন্দ্র ও ফাঁড়িতে কর্মরতরা। এটি ডিপার্টমেন্টের জন্য শুভনীয় বলে মনে করেন তিনি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।