১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ১৮ মাঘ, ১৪২৯ | ৯ রজব, ১৪৪৪


শিরোনাম
  ●  পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে নিষিদ্ধ পলিথিন, হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ, জরিমানা   ●  বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদের নেতা   ●  হাতের কব্জির রগ কেটে মোবাইল-ল্যাপটপ ছিনতাই   ●  কক্সবাজারে ইয়াবার মামলায় ৮ রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন   ●  লোহাগাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে ‘পেট্রোলের আগুনে’ পুড়িয়ে মারার চেষ্টা!   ●  চকরিয়ার সাহারবিলে সড়ক উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন এমপি জাফর আলম   ●  রাইজিংবিডির বর্ষাসেরা প্রতিবেদক তারেককে আরইউসির শুভেচ্ছা   ●  স্ট্রীটফুড ও ড্রাই ফিস প্রশিক্ষাণার্থীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ ও সাপোর্ট প্রদান   ●  রামুতে দুই শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে পেল স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ   ●  সেন্টমার্টিনে রিসোর্ট নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর

কক্সবাজারে অধিকাংশ ট্রলারের লাইসেন্স নেই : সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব

coxsbazar pic (1)  6.3.15.psd
কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকার বিভিন্নস্থানে মাছ আহরণকারী ও যাত্রী বহনকারী অধিকাংশ ট্রলারের ফিটনেস সার্টিফিকেট ও লাইসেন্স নেই। সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫ হাজার নৌযান তথা ট্রলার সমুদ্রে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত। কিন্তু এসবের বেশির ভাগেরই রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও লাইসেন্স নেই। গত কয়েক বছরে অনেক চেষ্টা করে হাজারের মতো ট্রলারকে লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাদ বাকি প্রায় কয়েক হাজার ট্রলারের লাইসেন্স নেই। এছাড়া যাত্রী বহনকারী মহেশখালী-কুতুবদিয়ার অনেক ট্রলারের লাইসেন্স নেই বলে জানা যায়।
সূত্রটি আরো জানায়, কক্সবাজারের টেকনাফের সাগর ও নদীতে মাছ ধরায় নিয়োজিত ট্রলারগুলোর রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স কিছুই নেই। সেখানে যান্ত্রিক নৌযানের সংখ্যা ৮৭৬ ও অযান্ত্রিক নৌযানের সংখ্যা ২৫৫টি। রেজিস্ট্রেশন-লাইসেন্স ছাড়াই এগুলো চলছে যুগের পর যুগ। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর উদ্যোগ নিয়েও টেকনাফের এসব ফিশিং ট্রলারকে রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্সের আওতায় আনতে পারেনি।
কক্সবাজার উপকূলের এসব অবৈধ নৌযানকে যদি লাইসেন্স এর আওতায় আনা যায় বার্ষিক লাইসেন্স ফির পরিমাণ ভেদে গড়ে ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব। কিন্তু প্রতিবছর এ পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
অন্যদিকে প্রতিবছর মাছ ধরতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অনেক ট্রলার সাগরে মাঝি-মাল্লা নিয়ে ডুবে যাচ্ছে। এতে প্রাণহানিও ঘটছে। কিন্তু নিবন্ধন বা লাইসেন্স না থাকায় সরকারও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারছে না, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তকে ক্ষতিপূরণ দিতে পারছে না।
সূত্রটি জানায়, এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মাছ ধরা ট্রলারের লাইসেন্সের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে। শ্রীঘ্রই মৎস্য অধিদপ্তর একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করতে যাচ্ছে।

coxsbazar  pic  (2) (dipan)  6.3.15.psd

ৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ  বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নৌবাণিজ্য অধিদপ্তর নৌযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার পর মৎস্য অধিদপ্তর ফিশিং লাইসেন্স দেয়। তবে দুই মন্ত্রণালয়ের রশি টানাটানির কারণে সব নৌযানকে লাইসেন্সের আওতায় আনা যাচ্ছে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য অধিদপ্তরকে একক ক্ষমতা দিয়ে ফিশিং ট্রলারগুলোকে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দিন কয়েক আগে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিপ অনুযায়ী বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ৫৭ হাজার ৮৬৩টি নৌযান মাছ ধরায় নিয়োজিত রয়েছে। এসবের মধ্যে অযান্ত্রিক নৌযানের সংখ্যা ২৭ হাজার ৬৯৯, আর যান্ত্রিক নৌযানের সংখ্যা ৩০ হাজার ১৬৪টি।
কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে গত পাঁচ বছরে মাত্র ৫’শ যান্ত্রিক নৌযানের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। অন্যগুলোর লাইসেন্স নেই। ফলে লাইসেন্সবিহীন নৌযান দিয়ে বছরে কী পরিমাণ মাছ ধরা হয়, এগুলোতে লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে কি না সে সব বিষয়ে নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। অন্যদিকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায় সরকার।
সূত্র জানায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ পর্যন্ত  বড় ফিশিং ট্রলারকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। অথচ এ রকম ট্রলার রয়েছে অসংখ্য। এছাড়াও ছোট ট্রলারগুলো লাইসেন্সের আওতার বাইরেই রয়ে গেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যান্ত্রিক ট্রলারের রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্সিংয়ের জন্য ৫০ টাকা মূল্যের দুটি স্ট্যাম্প, নৌযান নির্মাতার নাম-ঠিকানা, মালিকের নাম-ঠিকানা, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি, নৌযানের নাম, এর দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-গভীরতা, নৌযানে ব্যবহৃত ইঞ্জিনের মডেল নম্বর ও অশ্বশক্তি, নিয়োজিত মাঝির নাম-ঠিকানা, গ্রস-টনেজ হারে নৌযানের রেজিস্ট্রেশন ফি, ইঞ্জিন কেনার রসিদ, নামসহ নৌযানের ছবি ইত্যাদি জমা দিতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না, শুধু নৌযানের আয়তন অনুসারে লাইসেন্স ফি দিতে হয়। রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স দুটোই প্রতিবছর নবায়ন করতে হয়। লাইসেন্স ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফিশিং ট্রলারগুলোকে ‘চিংড়ি’ ও ‘সাদা মাছ’- এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। সাদা মাছের চেয়ে চিংড়ির লাইসেন্স ফি কিছুটা বেশি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মাছ ধরার ট্রলারগুলোর লাইসেন্সের জন্য প্রথমে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হতে হয়। এতে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে উপকূলীয় জেলাগুলোতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও সুফল আসছে না। রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস পরীক্ষার রিপোর্টের  জন্য ট্রলারের মালিকদের নৌবাণিজ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও খুলনা অফিসের ওপর নির্ভর করতে হয়।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক আদালতে বঙ্গোপসাগরে সীমানাসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় সাগরে মৎস্য আহরণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যৌক্তিক মাত্রায় মৎস্য আহরণ, সমুদ্রে নৌডাকাতি বন্ধ, জেলেদের জীবিকা নিশ্চিত করার স্বার্থে সব যান্ত্রিক নৌযানকে লাইসেন্সের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলা হবে। এর দায়িত্বে থাকবে মৎস্য অধিদপ্তর।
লাইসেন্সের আওতায় না থাকার কারণে অনেক নৌযান গভীর সমুদ্রে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সরকারের কাছে সেসবের সঠিক তথ্য আসছে না। ২০-২৫ বছরের পুরনো জাহাজেরও লাইসেন্স নবায়ন করা হয় না। এ পরিপ্রেক্ষিতে উপকূল ও গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম মনিটর করতে সরকার ইতোমধ্যে ১৩ সদস্যের একটি কমিটিও করে দিয়েছে।
জানা গেছে, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়ে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে অন্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ কারণে সরকার পুরনো বড় ফিশিং ট্রলারের লাইসেন্স নবায়ন করছে না। তবে নতুন করে তৈরি করা হলে সেসব নৌযানের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।