২২ জুন, ২০২৪ | ৮ আষাঢ়, ১৪৩১ | ১৫ জিলহজ, ১৪৪৫


শিরোনাম
  ●  সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ব্যাচ ২০১৯-এর ঈদ পূণর্মিলন অনুষ্ঠিত হয়েছে   ●  পাহাড় ধ্বসঃ ৮ রোহিঙ্গাসহ নিহত ১০   ●  উখিয়ার ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধ্বসে ৭ রোহিঙ্গা সহ নিহত ৯   ●  রামুতে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা   ●  উখিয়া-টেকনাফের ৫ শতাধিক তরুন-তরুণীকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ‘সুশীলন’   ●  খাদ্যে ভেজাল রোধে সামাজিক আন্দোলন দরকার : খাদ্যমন্ত্রী   ●  ইজিবাইকের ছাদে তুলে ৮ বছরের শিশু নির্যাতন ভিডিও ভাইরাল: তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার   ●  ভবিষ্যতে প্রেস কাউন্সিলের সার্টিফিকেট ছাড়া সাংবাদিকতা করা যাবে না   ●  একমাসেও অধরা ঘাতক চক্র, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে পরিবারে হতাশ   ●  সমুদ্রকেই ঘিরে কক্সবাজারের অর্থনীতি

ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে -মেয়র প্রার্থী সরওয়ার কামাল

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সব মানুষের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কক্সবাজার পৌরসভার ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবা বিকেন্দ্রিকরণে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের মেয়র পদপ্রার্থী ও সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল। পৌরসভার উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাও পেশ করেছেন তিনি।
শনিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সরওয়ার কামাল বলেন, ২০১১ সালের নির্বাচনে পৌরসভার মানুষ বিপুল ভোটে আমাকে মেয়র নির্বাচিত করেছিল। সরকারের সাথে সুসম্পর্ক রেখে আমি পৌরসভার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখি।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পৌরসভায় যে সমস্ত উন্নয়ত প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে তার অধিকাংশই আমার সময়কালের পরিকল্পনা। বিশেষ করে, মিঠাছড়িতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থার স্থান নির্ধারণ আমার মাধ্যমেই শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সরওয়ার কামাল বলেন, আমি এবার মেয়র নির্বাচিত হলে যেসব বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে তা হলো-
১. জাতীয়তা সনদ, জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ ও অন্যান্য নাগরিক সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ১২টি ওয়ার্ডে সেবাকেন্দ্র স্থাপন
২. চাপিয়ে দিয়ে নয়, আলোচনা সাপেক্ষে টেক্স নির্ধারণ
৩. ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং টেক্স/পৌরকর সহনীয় মাত্রায় রাখা
৪. খাল ও খেলারমাঠ দখলমুক্তকরণ
৫. উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণ
৬. ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ
৭. সবুজ শহর গড়ার লক্ষ্যে ব্যাপকভিত্তিক বৃক্ষরোপণ
৮. পৌর শিশুপার্ক ও বিনোদনকেন্দ্র স্থাপন
৯. বর্জ্য ও আবর্জনা অপসারণে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ
১০. রিসাইক্লিং সেন্টার স্থাপন ও পশু জবাইয়ের জন্য আধুনিক স্লটার হাউজ নির্মাণ
১১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পাবলিক প্লেসসমূহে ‘ফ্রি এন্ড সেইফ’ ওয়াইফাই চালু
১২. শিক্ষিত বেকার যুবকদের ফ্রি ল্যান্সিং প্রশিক্ষণের আওতায় আনা
১৩. ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবা বিকেন্দ্রিকরণ
১৪. পৌরসভার কর্মীদের পে-রোল ও কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার সার্ভিসের আওতায় আনা
১৫. নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং তার সমাধান
১৬. পৌর এলাকার বিভিন্ন স্তরের সুধীজনদের সমন্বয়ে পরামর্শমূলক কমিটি গঠন
১৭. প্রাক্তন মেয়রের অসমাপ্ত কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সমাপ্তকরণ
১৮. টমটম, অটোরিকশা চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পর্যটকমুখি সেবা নিশ্চিত করা
১৯. সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় পুরো পৌর এলাকাকে সিসি ক্যামেরায় আওতায় আনা
২০. দুর্যোগকালে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ‘সেবা টিম’ গঠন
২১. পৌরসভার বাজেটে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন জনগোষ্ঠী, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সহযোগিতার খাতসহ চাকুরির বিশেষ কোটা প্রবর্তন
২২. সকল অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে পৌরসভার দীর্ঘ মেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা ইত্যাদি।
২৩. বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চিকিৎসা ভাতা চালু করা হবে।
২৪. নারীবান্ধব আলাদা সেবা সেন্টার স্থাপন
২৫. মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে সহায়তা প্রদান
২৬. পৌরসভার উদ্যোগে মহিলা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ।
নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, জনগণ যাতে সঠিকভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটকেন্দ্রে রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা পেশিশক্তির মহড়া যাতে না হয়। কারণ, এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে সারাদেশে প্রভাব পড়বে। সরকারের সুনাম ক্ষুন্ণ হবে।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে নি। আশা করছি, নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন পৌরবাসীকে উপহার দিবে। এই আশায় ইতোমধ্যে আমি কাজ শুরু করেছি।
আমি পৌরসভার সকল ধর্ম ও মতের মানুষের সাথে কথা বলেছি। তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমাকে নিয়ে আশান্বিত সবস্তরের মানুষ। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কক্সবাজার পৌরবাসী পাশে ছিলাম। দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। কক্সবাজার পৌরসভায় দায়িত্বকালীন সেটি প্রমাণ করেছি।
সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের মেয়র প্রার্থী সরওয়ার বলেন, ইউজিপ-২ প্রকল্প, শহরের অলিগলিতে যেসব কাজ দৃশ্যমান সব আমার দ্বারাই হয়েছে। ইউজিপ-৩ প্রকল্প এসএম পাড়া থেকে উপজেলা, বিডিআর ক্যাম্প, আলীর জাঁহাল সংযোগ রাস্তা, সিটি কলেজ থেকে জেলখানা সংযোগ রাস্তা, হোটেল মোটেল জোনের সকল রাস্তা এবং ড্রেন, কলাতলী, আদর্শগ্রাম, লাবনী পয়েন্টের ড্রেনসহ সব রাস্তা আমার সময়কালের। বিমানবন্দর সড়ক, নতুন বাহারছড়া, নাজিরারটেক, বদরমোকাম-টেকপাড়া সংযোগ রাস্তাসহ যে সমস্ত বড় ড্রেন ও সড়ক হয়েছে সব আমার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় কাজগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে।
আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর মসজিদ ও কবরস্থানের পাশাপাশি সকল মন্দিরের রাস্তাসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজ করেছি। সকল ধর্মের মানুষের পাশে থেকেছি। পৌরপরিষদে অসাধারণ চেইন অব কমাণ্ড ছিল। নিত্যনৈমেত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নিয়মিত অফিস করেছি। নাগরিক সেবা সকলের দ্বারে পৌঁছিয়ে দিয়েছি। সেবা নিয়ে কাউকে ভোগান্তি পোহাতে হয় নি।
জননেতা সরওয়ার কামাল বলেন, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শহর হিসেবে কক্সবাজার ইতোমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে। এখানে দেশিবিদেশি পর্যটক আসছে। তাদের সেবা দেওয়ার জন্য কক্সবাজারকে ‘পর্যটকবান্ধব নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে। জনগণের মতামতকে প্রধান্য দেওয়া হবে। সকল মত ও ধর্মের মানুষের সমন্বয়ে কমিটি করে একটি আধুনিক পৌরসভা সাজাতে সবার সমর্থন ও পরামর্শ চাই।
সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের আহবায়ক মমতাজুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ারেছ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার মুহাম্মদ তৈয়ব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছৈয়দ আলম, মোহাম্মদ আলম, সাবেক ব্যাংকার শামসুল হুদা, সমাজসেবক রফিক উল্লাহ মুকুল, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, রিয়াজ মুহাম্মদ শাকিলসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার মান্যগণ্য ব্যাক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।