২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ১৯ মাঘ, ১৪২৯ | ১০ রজব, ১৪৪৪


শিরোনাম
  ●  প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানোন্নয়নে কক্সবাজার পৌর এলাকায় চলছে দরিদ্রবান্ধব নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কাজ   ●  পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে নিষিদ্ধ পলিথিন, হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ, জরিমানা   ●  বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদের নেতা   ●  হাতের কব্জির রগ কেটে মোবাইল-ল্যাপটপ ছিনতাই   ●  কক্সবাজারে ইয়াবার মামলায় ৮ রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন   ●  লোহাগাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে ‘পেট্রোলের আগুনে’ পুড়িয়ে মারার চেষ্টা!   ●  চকরিয়ার সাহারবিলে সড়ক উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন এমপি জাফর আলম   ●  রাইজিংবিডির বর্ষাসেরা প্রতিবেদক তারেককে আরইউসির শুভেচ্ছা   ●  স্ট্রীটফুড ও ড্রাই ফিস প্রশিক্ষাণার্থীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ ও সাপোর্ট প্রদান   ●  রামুতে দুই শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে পেল স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ

উখিয়া-টেকনাফের ৩ হাজার মামলার অর্ধলক্ষাধিক ফরিয়াদির হাজিরা নিয়ে চরম ভোগান্তি

shomoy

কক্সবাজারে বিচারক সংকটের কারনে উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় ৩ হাজার মামলার ফরিয়াদি আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। আর্থিক, মানসিক ও সময়ের অপচয় করে দিনের পর দিন কক্সবাজারে হোটেল ভাড়া দিয়ে ৩ হাজার মামলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক আসামী এ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। টেকনাফ থেকে বিভিন্ন মামলার ফরিয়াদিদের একদিন আগেই বাড়ি ঘর ছেড়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে পর দিন আদালতে হাজিরা দিতে হয়। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল উখিয়া-টেকনাফে পুনরায় ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত গুলো সচল করে তুলবে। কিন্তু এসব নিরীহ ফরিয়াদিদের দাবীর কথা কেউ শুনছেন না। বরং রীতিমত এসব ফরিয়াদিরা উল্টো বিভিন্ন ভাবে আর্থিক ও মানসিক ভাবে হয়রানীগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উখিয়ার এক মামলার ফরিয়াদি জানান, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় সরকার দলীয় মহাজোট প্রার্থী আব্দুর রহমান বদির প্রতিশ্র“তি ছিল তার মেয়াদে যেভাবে হোক টেকনাফ ও উখিয়ায় আদালত পুনঃ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। বর্তমানে এমপি বদি ক্ষমতার ৭ বছর পার করলেও উখিয়া-টেকনাফের ৩ হাজার মামলার অর্ধলক্ষাধিক ফরিয়াদির দাবী পুরণ হয়নি।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল (বামাকা) উখিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ ছৈয়দুজ্জামান জানান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত নং -২ (উখিয়া) এ জেনারেল ১১৪৯ ও বিচার ফাইলে ৮৭১ টি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারধীন রয়েছে। এসব মামলার ফরিয়াদিরা সবাই যে অভিযুক্ত বা দোষী হবে তা কিন্তু নয়। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নিরীহ জনসাধারণ মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে থাকে। এ সব বিচারের ক্ষেত্রে ফরিয়াদিরা আদালত থেকে খালাস পেয়ে যায়। ফরিয়াদিদের দীর্ঘদিনের দাবীটি পুরণের জন্য স্থানীয় সাংসদ আব্দুর রহমান বদিসহ সচেতন নাগরিকেরা উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিয়ে তা অচিরেই পুরণ করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, আমার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার অসংখ্য ফরিয়াদির হয়রানীর বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত গুলো পুনঃ প্রতিষ্ঠা বা চালু করার প্রক্রিয়া বা দাবী বাস্তবায়নে তার সরকার আন্তরিক রয়েছে।
টেকনাফ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও মানবাধিকার কর্মী মোঃ জোবাইর বলেন, কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত নং-৩ (টেকনাফ) এ জেনারেল ফাইলে ১৮৭৮ টি ও বিচার ফাইলে ৬২৮ টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এ সব মামলায় ফরিয়াদিদের বাড়ি ঘর ছেড়ে একদিন আগেই আদালতে হাজিরা দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হয়। তিনি টেকনাফ এলাকার ৩ লক্ষাধিক জনসাধারণের ভোগান্তি, মামলা জট ও আর্থিক হয়রানী থেকে রক্ষা পেতে সরকার সংশি¬ষ্ঠদের আন্তরিক প্রচেষ্ঠা গ্রহণ করে জনগণকে মুক্তি দিতে হবে।
এদিকে কক্সবাজার জেলায় আদালতের বিন্যাস অনুযায়ী মোট ১২ জন বিচারক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে নিয়মিত রয়েছে ৭ জন। এতে নতুন করে মামলা দায়ের, চার্জশিট ও জবানবন্দি গ্রহণ, স্বাক্ষ্য গ্রহণ, জামিন ও নিয়মিত মামলার শুনানিসহ অন্যান্য কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কক্সবাজার আদালতের ৭ জন বিচারক।
এরকম অসংখ্য মামলা বছরের পর বছর ধরে ঝুলে রয়েছে বিচারক সংকটের কারণে। সবচেয়ে বেহাল অবস্থা বন মামলার। এ আইনে মামলার নিস্পত্তির বড় সমস্যার নাম বনবিভাগ। এ মামলার স্বাক্ষী ও বাদী সবাই বনবিভাগের। অথচ তারা মামলাটি দায়ের করার পর থেকে আর খবর রাখে না। ফলে ঝুলে রয়েছে ১৫ বছর আগের অনেক মামলা।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট একে আহমদ হোসাইন বলেন, বিচারক সংকট ও মামলা জট কমাতে ইতিমধ্যে জেলা আইনজীবি সমিতির আইনজীবিরা কর্ম তৎপরতা শুরু করেছেন। আইনমন্ত্রী ও আইন সচিবের সমন্বয়ে এ সংকট দুরীকরণের জন্য আইন জীবিরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি জানান। আশা করা যাচ্ছে শূন্য পদে দ্রুত বিচারক নিয়োগ দিয়ে সরকার এ সমস্যা সমধানে এগিয়ে আসবে।
কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের আইনজীবি এড. আব্দুল মান্নান বলেন, জেলায় দ্রুততম সময়ে বিচারক নিয়োগ দিলে এ সংকট বা মামলা জটের অবসান ঘটবে।
বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইতিমধ্যে গত ৫ মার্চ উর্ধ্বতনের নিকট একটি পত্র প্রেরণের কথাও নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।