৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ২০ মাঘ, ১৪২৯ | ১১ রজব, ১৪৪৪


শিরোনাম
  ●  প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানোন্নয়নে কক্সবাজার পৌর এলাকায় চলছে দরিদ্রবান্ধব নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কাজ   ●  পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে নিষিদ্ধ পলিথিন, হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ, জরিমানা   ●  বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদের নেতা   ●  হাতের কব্জির রগ কেটে মোবাইল-ল্যাপটপ ছিনতাই   ●  কক্সবাজারে ইয়াবার মামলায় ৮ রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন   ●  লোহাগাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে ‘পেট্রোলের আগুনে’ পুড়িয়ে মারার চেষ্টা!   ●  চকরিয়ার সাহারবিলে সড়ক উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন এমপি জাফর আলম   ●  রাইজিংবিডির বর্ষাসেরা প্রতিবেদক তারেককে আরইউসির শুভেচ্ছা   ●  স্ট্রীটফুড ও ড্রাই ফিস প্রশিক্ষাণার্থীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ ও সাপোর্ট প্রদান   ●  রামুতে দুই শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে পেল স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ

উখিয়া-টেকনাফের ২ রোহিঙ্গা শিবিরের শরণার্থীদের স্থায়ী করণের পায়ঁতারা

shomoy
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ২টি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নিয়োজিত এনজিও সংস্থা ইউএনএইচসিআর কক্সবাজার কার্যালয়ের দায়িত্বরত কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিসহ রাষ্ট্রদ্রোহ মূলক কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে। এ সংক্রান্ত ঘটনায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।
উখিয়া ও টেকনাফের ২ শরণার্থী শিবিরে প্রায় ৩৫ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছে। এসব রোহিঙ্গাদের দেখা শুনা করার দায়িত্ব একমাত্র এনজিও সংস্থা ইউএনএইচসিআরের। এ সুবাদে কক্সবাজারস্থ ইউএনএইচসিআর কার্যালয়ের কর্মরত গ্রেড ফাইভ লেভেলের কর্মকর্তা নূরুল হুদা, প্রোডাক্টশন বা ফিল্ড অফিসার মিরহাজ ও মোঃ ওসমানসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করার নামে মামলা, হামলা, মানবপাচার, রোহিঙ্গাদের পার্সপোট সংগ্রহ করে দেওয়া, রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করণের ষড়যন্ত্র, দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ব বিদ্যালয়ে রোহিঙ্গা ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখা চালিয়ে যাওয়ার কাজে সহযোগিতা সহ বহু রাষ্ট্রদ্রোহ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন উপায়ে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
সাধারণ শরণার্থীদের অভিযোগ, প্রবাসে অবস্থানরত কোন রোহিঙ্গা কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে ক্যাম্প ম্যানেজম্যান্ট কমিটি (সিএমসি)র কমিটিতে রাখার কোন নিয়ম বা বিধান  না থাকলেও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ইউএনএইচসিআর এনজিও সংস্থার ওই সব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা তোয়াক্কা না করে সিএমসি কমিটিতে অসংখ্য রোহিঙ্গা প্রবাসীকে অর্ন্তভূক্ত করে। এছাড়াও একজন শরণার্থী কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির থেকে ১০ বছর আগে বিদেশ গিয়েছেন। বিদেশ গেলে ওই রোহিঙ্গার আর শরণার্থীর মর্যাদা পাবে না। কিন্তু কক্সবাজারস্থ ইউএনএইচসিআর কার্যালয়ের ওই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে পুনরায় ওই বিদেশ ফেরত রোহিঙ্গাদের শরণার্থীর মর্যাদা দিয়ে ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, যে সব রোহিঙ্গা বাংলাদেশী পার্সপোট ব্যবহার করে বিদেশে অবস্থান করছে ওই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা জনপ্রতিনিধিদের রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে ভুল তথ্য দিয়ে তাদেরকে রাষ্ট্রদ্রোহ মূলক কর্মকান্ডে সহযোগিতা করছে।    উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের মোঃ নূরুল আমিন জানান, ২০১৪ সালে ইউএনএইচসিআর এনজিও সংস্থা কর্তৃক ৫ থেকে ৬ হাজার রোহিঙ্গাকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসে। মূলত এসব রোহিঙ্গারা কুতুপালং শিবিরে অবস্থান না করলেও তাদের আত্মীয় ও পরিবার-পরিজন ওই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কমিশন দিয়ে প্রতিমাসে রেশন সামগ্রী থেকে শুরু করে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে আসছে। বিদেশে কোন রোহিঙ্গা বাংলাদেশী পার্সপোট নিয়ে গেলে তাকে শরণার্থীর নিবন্ধন বহি থেকে বাদ দেওয়ার কথা। এ ক্ষেত্রে ওই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা অত্যান্ত সুকৌশলে ওই সংস্থাটির উর্ধ্বতনদের ফাঁিক দিয়ে দিনের পর দিন দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে ইউএনএইচসিআর সংস্থাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। বিনিময়ে এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা লাখ লাখ টাকা রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অজুহাতে হাতিয়ে নিয়েছেন। টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরের আমান উল্লাহ আমান ও মোঃ রফিক জানান, ২টি রোহিঙ্গা শিবিরে ইউএনএইচসিআরের দুর্নীতিবাজ ওই কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদেরকে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় পাচার করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে ইতিপুর্বে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহী মূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে প্রতিবেদন দেয়। দ্রুত সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে ইউএনএইচসিআরের রাষ্ট্রদ্রোহ মূলক কর্মকান্ড বন্ধ ও রোহিঙ্গাদের স্থানীয় করণের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার দাবী জানান।
কুতুপালং ক্যাম্প পুলিশের আইসি শহীদুল হক বলেন, ইউএনএইচসিআরের এসব কর্মকান্ডের ব্যাপারে ক্যাম্প ইনচার্জ অবগত রয়েছেন। তিনি এটার বিষয়ে ভাল জানবেন।
কুতুপালং শরণার্থী শিবির ইনচার্জ এসএম সরওয়ার আলমের নিকট এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউএনএইচসিআরের ওই কর্মকর্তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতনদের জানাবেন বলে তিনি জানান। এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মুঠো ফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও ইউএনএইচসিআরের কক্সবাজারস্থ হেড অব সাব ম্যামো বিদেশে অবস্থান করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।