২০ জুন, ২০২৪ | ৬ আষাঢ়, ১৪৩১ | ১৩ জিলহজ, ১৪৪৫


শিরোনাম
  ●  পাহাড় ধ্বসঃ ৮ রোহিঙ্গাসহ নিহত ১০   ●  উখিয়ার ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধ্বসে ৭ রোহিঙ্গা সহ নিহত ৯   ●  রামুতে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা   ●  উখিয়া-টেকনাফের ৫ শতাধিক তরুন-তরুণীকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ‘সুশীলন’   ●  খাদ্যে ভেজাল রোধে সামাজিক আন্দোলন দরকার : খাদ্যমন্ত্রী   ●  ইজিবাইকের ছাদে তুলে ৮ বছরের শিশু নির্যাতন ভিডিও ভাইরাল: তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার   ●  ভবিষ্যতে প্রেস কাউন্সিলের সার্টিফিকেট ছাড়া সাংবাদিকতা করা যাবে না   ●  একমাসেও অধরা ঘাতক চক্র, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে পরিবারে হতাশ   ●  সমুদ্রকেই ঘিরে কক্সবাজারের অর্থনীতি   ●  সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য হাসিঘর ফাউন্ডেশনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান

ইয়াবার টাকায় মাটির ঘরে রাজার বেশে বসবাস

পেশায় তিনি ইজিবাইক চালক। নাম সৈয়দ নূর (৩৬)। বসবাস কক্সবাজারের টেকনাফ থানার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী গাজিপাড়ায়। মাটির ঘরে রোদ বৃষ্টি সামাল দিতে পলিথিন ঝুলিয়ে রাখা। সেই সৈয়দ নূর ইংরেজী নববর্ষে স্ত্রীকে দিয়েছেন ২২ ভরি ওজনের স্বর্ণের হার। যার দাম পড়েছে ১৪ লাখ টাকা। স্ত্রী প্রেমে ‘শাহজাহান’ বনে যাওয়া এ হতদরিদ্রের আসল চেহারা ধরা পড়েছে বৃহস্পতিবার পুলিশি অভিযানে। বিশাল ইয়াবা কারবারের হোতা তিনি। আলোচিত মাটির ঘরেই মিলেছে ১০ হাজার ইয়াবা।

সূত্র জানায়, দুই সপ্তাহ আগে টেকনাফে ইয়াবার বড় কারবারি নুর হাফেজ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। সে সময় পাওয়া কিছু তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের নজর পড়ে স্থানীয় ইজিবাইক চালক সৈয়দ নুরের দিকে। তবে তিনি বড় মাপের ইয়াবা কারবারি এমন ধারনা মেলেনি। সৈয়দ নুর বসবাস করেন একটি ছোট্ট মাটির ভাঙ্গাচোরা ঘরে। কথিত শ্রমজীবির সেই মাটির ঘরেই সন্দেহবশত পুলিশ হানা দেয় বৃহস্পতিবার। ১০ হাজার ইয়াবার একটি বড় চালানসহ সৈয়দ নুরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এরপর ঘরের মালামাল তল্লাশি করতে গিয়ে পুলিশের নজরে আসে আকর্ষণীয় একটি স্বর্ণের হার।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সৈয়দ নুর জানান, ইংরেজী নববর্ষে স্ত্রীকে উপহার দিয়েছেন ২২ ভরি ওজনের স্বর্ণের হারটি। ঘরেই পাওয়া যায় স্বর্ণালঙ্কার কেনার রশিদ। মূল্যমান দেখা যায় ১৪ লাখ টাকা। পুলিশ টাকার রশিদসহ হারটি জব্দ করেছে।
টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘সীমান্তে গত দুই বছর ধরে ইয়াবা আটকের অভিযান চালাচ্ছি। এবারের ঘটনা পুরোই আলাদা। আটক ইয়াবা কারবারি সৈয়দ নূরকে সন্দেহ করার মতো কোন উপাদানই ছিল না। দিনের আলোয় তিনি একজন ইজিবাইক চালক। বসবাস জীর্ন ঘরে। প্রত্যন্ত রঙ্গিখালী গাজিপাড়ার বাসিন্দা সৈয়দ নুর সম্পর্কে তথ্য মেলে ইয়াবা ডন নুর হাফেজ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হবার পর পরই। এখন নিশ্চিত হওয়া গেছে নুর একজন বড় মাপের ইয়াবা কারবারি।’

ইয়াবা কারবারি সৈয়দ নূরের গ্রেপ্তারসহ অবাক করা কাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। তিনি জানান, ইয়াবা কারবারিরা এখন কৌশল পরিবর্তন করেছেন। তারা প্রকাশ্যে দীনহীন জীবনযাপন করছেন। আগে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এলাকায় আলিশান ভবন নির্মাণ করে সবার নজরে পড়েছিলেন। সেসব ভবন অভিযানে ভেঙ্গে দেয়ার কারনে এখন তারা মাটি ও খড়ের ভাঙ্গাচোরা ঘরে বাসবাসেরকৌশল নিয়েছেন। সন্দেহের বাইরে থাকে তাদের এসব কলাকৌশল।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।