২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ১৯ মাঘ, ১৪২৯ | ১০ রজব, ১৪৪৪


শিরোনাম
  ●  প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানোন্নয়নে কক্সবাজার পৌর এলাকায় চলছে দরিদ্রবান্ধব নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কাজ   ●  পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে নিষিদ্ধ পলিথিন, হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ, জরিমানা   ●  বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদের নেতা   ●  হাতের কব্জির রগ কেটে মোবাইল-ল্যাপটপ ছিনতাই   ●  কক্সবাজারে ইয়াবার মামলায় ৮ রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন   ●  লোহাগাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে ‘পেট্রোলের আগুনে’ পুড়িয়ে মারার চেষ্টা!   ●  চকরিয়ার সাহারবিলে সড়ক উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন এমপি জাফর আলম   ●  রাইজিংবিডির বর্ষাসেরা প্রতিবেদক তারেককে আরইউসির শুভেচ্ছা   ●  স্ট্রীটফুড ও ড্রাই ফিস প্রশিক্ষাণার্থীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ ও সাপোর্ট প্রদান   ●  রামুতে দুই শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে পেল স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ

অনুপ্রবেশ বেড়েছে, শিবির ছাড়ছে রোহিঙ্গারা : রোহিঙ্গা প্রীতি জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী

Pic coxsbazar -08-03-2015.psd
মিয়ানমার থেকে সীমাা পেরিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া, লেদা শরণার্থী শিবিরকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে। সরকারের এখানকার শরণার্থী শিবির অন্যত্র স্থানাার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবরে অনেক রোহিঙ্গা শিবির ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব ব্যাপার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের মাঝে উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে সরকার সম্প্রতি কক্সবাজার ও বান্দরবান এলাকার স্থানীয় এক সংসদ সদস্যসহ ৫১ জন শীর্ষ রোহিঙ্গা বান্ধব গডফাদার তালিকা করলেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ থামানো যাচ্ছে না।
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের অবস্থান বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমাা থেকে সর্বোচ্চ ৩ কিলোমিটারের মধ্যে। আর টেকনাফের নয়াপাড়া ও লেদা শিবিরের অবস্থান সর্বোচ্চ দেড় কিলোমিটারের ব্যবধান। স্থল ও নাফ নদীর জলসীমা অতিক্রম করে স্থানীয় রোহিঙ্গা বান্ধব সিন্ডিকেট ও এখানে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় মিয়ানমার থেকে প্রায় প্রতিদিন শত শত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে এবং অনুপ্রবেশকারীরা প্রাথমিক ভাবে কুতুপালং, নয়াপাড়া ও লেদা শিবিরে অবস্থান নিয়ে থাকে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এ এসবের পিছনে শুধু ইন্ধন দিচ্ছে হাতে গুনা কয়েক’জন চিহ্নিত জনপ্রতিনিধি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সংশি¬¬ষ্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সহ সংশি¬ষ্টদের তালিকাভুক্ত শীর্ষ রোহিঙ্গা বান্ধব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদাপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ থাকা সত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে গত শুক্রবার কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীতে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিকদের পাচার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও দালাল চক্রের মাঝে বন্দুক যুদ্ধসহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিজিবি’র সুবেদার মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক সহ প্রায় ১০জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়     ইউপি চেয়ারম্যান সহ এজাহার নামীয় ৪৬ জনের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাত আরো ৩০/৩৫জনকে এ মামলায় আসামী করা হয়েছে। মামলা-২, তারিখ-৬/৩/১৫ইংরেজি। শুক্রবারের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আহত বিজিবি সুবেদার মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক ঢাকার সম্মিলিত সামরিক সিএমএইচএ শঙ্কামুক্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত অন্যতম রোহিঙ্গাবান্ধব উখিয়ার পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা গফুর উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যান সহ অন্য আসামীদের ধরতে পুলিশ ও বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যা বিজিবি’র সহযোগিতায় পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। উখিয়ার বালুখালী বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার মোঃ জাগির হোসেন বাদী হয়ে উখিয়া থানায় এ মামলাটি দায়ের করেছেন। বিজিবি দায়েরকৃত মামলায় নিরীহ ও ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন ব্যক্তিকেও আসামী করা হয়েছে বলে একাধিক গ্রামবাসি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তারা প্রকৃত জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
অন্যদিকে কুতুপালং শরণার্থী শিবির সংলগ্ন বস্তির নিয়ন্ত্রক রোহিঙ্গা জঙ্গির সাথে সংশি¬ষ্ট সন্ত্রাসী রাকিবুল¬াহ বাহিনী অত্যাচার, নির্যাতন, চাঁদাবাজী ও অপহরণের ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে বস্তির রোহিঙ্গারা শিবির ছাড়ছে বলে রোহিঙ্গা নেতা আবু নঈম, ডি-৪ ব¬কের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, রোহিঙ্গা বস্তি পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক, কমিটির নেতা মোঃ নূর, মোঃ জিয়া, আবু তৈয়ব, মনিরুজ্জামান, নূর হোসেন, আব্দুল আলমসহ রোহিঙ্গা নেতারা জানায়। তাদের মতে বাংলাদেশে নতুন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘ, র্আাজাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম এর সহায়তায় গেল বছরের জানুয়ারির ১০ তারিখ থেকে গননা করে তাদের তালিকাভূক্তির মাধ্যমে যাবতীয় শরণার্থী মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে মর্মে রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন আরএসওর পক্ষ হয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী রাকিব বাহিনী প্রধান রাকিবুল¬াহ অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে সীমাা পেরিয়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার অবস্থান কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তির আরএসও জঙ্গি সংশি¬ষ্টদের ইন্দনে সরকারের শরণার্থী স্থানাার প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্থ করতে ও মিয়ানমার থেকে নতুন ভাবে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের উৎসাহ যোগাচ্ছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটি ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা যে ক্ষতি এ দেশে করছে তা ভাষায় প্রকাশ করে শেষ হবে না। এমন কোন দিন নেই তারা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, অনৈতিক কর্মকান্ড সহ নানা অপরাধ করছে না। এরা আমাদের বোঝা, বিষফোঁড়া। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মাথা থেকে নামতে পারলেই শেষ।
কক্সবাজার ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লে:কর্ণেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ আগের মতই অব্যাহত রয়েছে। সীমাাে বিজিবি কঠোর অবস্থানে থাকার পরও চিহ্নিত কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তা থাকায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ পুরোপুরি রোধ করা যাচ্ছে না। এব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।