১৯ অক্টোবর, ২০১৯ | ৪ কার্তিক, ১৪২৬ | ১৯ সফর, ১৪৪১


শিরোনাম
  ●  ফরিদ আহমেদ চৌধুরী ছিলেন একজন গুনি ও জাতীয় মাপের শিল্পী   ●  চট্টগ্রামের হকার্স মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৫টি ইউনিট   ●  চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশে বন্ধ হলো জনপ্রিয় গেইমস পাবজি   ●  টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গা পাচারকারী নিহত, ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার   ●  লোহাগাড়ায় অস্ত্র,রামদা ও ৯রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেফতার   ●  টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক কারবারি নিহত,আহত পুলিশ সুপারসহ ৪   ●  কক্সবাজারের মহেশখালীতে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ   ●  লোহাগাড়ায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীসহ আটক ৩   ●  উখিয়া ফোর মার্ডার : রিপু ও উজ্জ্বল বড়ুয়ার ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর   ●  টেকনাফে পচে যাচ্ছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ, কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ

ওভারলোড গাড়ি ঠেকাতে যন্ত্র বসছে মহাসড়কে

মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ির ওজন নিয়ন্ত্রণে দেশের ২১টি স্থানে বসছে এক্সেল লোড। অতিরিক্ত মালবোঝাই গাড়ির কারণে রাস্তা নষ্ট, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঠেকাতে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এক হাজার ছয়শ কোটি টাকার প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়েছে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ এটি বাস্তবায়নে কাজও শুরু করেছে। প্রকল্পটি শেষ হলে অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি নিয়ন্ত্রণসহ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশের মহাসড়কগুলোতে পন্যবাহী ট্রাকগুলো ধারণক্ষমতার অনেক বেশি পণ্য বহন করে। সর্বোচ্চ ১০ টন মালামাল বহনের ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানগুলিও অতিরিক্ত মুনাফা লাভে ২০ থেকে ৩০ টন মালামাল বহন করছে। একাধিকবার এটি থামানোর চেষ্টা করেও সুফল আসেনি।

এমতাবস্থায় চট্টগ্রাম, তামাবিল, মোংলাসহ বিভিন্ন মহাসড়কের ২১টি স্থানে রাস্তার প্রবেশ মুখে বসানো হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় মেশিন। ‘এক্সেল লোড’ নামে পরিচিত এই মেশিন অতিরিক্ত পন্যবাহী গাড়িগুলোকে আটকে দেবে। ফলে নির্ধারিত ওজনের বেশি মালামাল নিয়ে গাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে না। আর এতে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতাও কমে আসবে। সাশ্রয় হবে সড়ক মেরামত খাত।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্য মতে, বর্তমানে তাদের আওতাভুক্ত সড়ক রয়েছে ২১ হাজার ৩০২ কিলোমিটার। এসব রাস্তায় মালামালসহ সর্বোচ্চ সাড়ে ১৫ টনের গাড়ি চলাচলের কথা। কিন্তু ২০ থেকে ৩০ টন ওজনের গাড়িও চলাচল করছে সড়কে।

সাধারণত সড়কগুলো ১০ থেকে ২০ বছর আয়ুষ্কাল ধরে ডিজাইন করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি চলার কারণে আয়ুষ্কালের অনেকে আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায় সড়ক। অতিমাত্রায় ওভারলোড ট্রাক ও লরি চলার কারণে সড়কের ক্ষতি হচ্ছে। ওভারলোডের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনাও।

এ জন্য পণ্য পরিবহনের উৎসমুখে সড়কের ২১টি স্থানে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সম্প্রতি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে জুলাইয়ে ২০১৯ থেকে জুন ২০২২ সাল পর্যন্ত। ১ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পর অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত পরিবহন রোধ করা যাবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সহাসড়কে পণ্য পরিবহণের উৎসমূখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন হলে অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত পণ্য পরিবহণ করা যাবে না। এর ফলে সড়কসসূহের ক্ষতিগ্রস্ততা রোধ করা যাবে।

এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও খানিকটা দ্বিমতও দেখিয়েছেন বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান ট্রাক ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আব্বাস ফকির।

পরিবহন খাতের এ নেতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় ওজন সাড়ে ১৬ টন হয়ে যায় সেক্ষেত্রে কী হবে। মালিক কি একটন পণ্য রেখে আসবে? এ বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে সরকারকে। অল্প কিছু মাল বেশি হলে যেন সেটা বহন করার অনুমোতি দেয়। এছাড়া আমাদের কোনও আপত্তি নেই। এটা ভাল উদ্যোগ।’

প্রকল্প অনুমোদনের সময় এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘খেয়াল রাখতে হবে কেউ যাতে টেম্পারিং করতে না পারে। এমন সিস্টেম করতে হবে যাতে লোক থাকুক আর নাই থাকুক এর উপর দিয়ে গাড়ি গেলেই যেন গাড়ির নাম, নাম্বার, ওজন এবং বিস্তারিত উঠে যায়। এসব তথ্য যেন কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো একটি জায়গা থেকে মনিটরিং করা হয়। তাছাড়া ট্রাক বা কাভার্ডভ্যানগুলো যেন নির্দিষ্ট মাপের তুলনায় বেশি না হয়।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (এআরআই) পরিচালক অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলে রাস্তার ক্ষতি হয়। এতে রাস্তা ভেঙ্গে যায়, আর ভাঙ্গা রাস্তার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক সময় ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাইয়ের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পণ্য পরিবহনে শৃঙ্খলা আসবে।’

যেসব সড়কে বসবে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র

ঢাকার কাঁচপুর-ভৈরব-জগদীশপুর-শায়েস্তাগঞ্জ-সিলেট-তামাবিল-জাফলং জাতীয় মহাসড়কের জগদীশপুরে একমুখি এক্সেল লোড; কুমিল্লার ময়নামতি-ব্রাহ্মণবাড়ীয়া মহাসড়কের ময়নামতিতে উভয়মুখি এক্সেল লোড; দৌলতদিয়া-ফরিদপুর-মাগুরা-ঝিনাইদহ-যশোর-খুলনা-মোংলা জাতীয় মহাসড়কের মোংলা (দীগরাজে) একমুখি এক্সেল লোড; কাশিনাথপু-দাশুরিয়া-নাটোর-রাজশাহী-নবাবগঞ্জ-কানসাট-সোনামসজিদ-বালিয়াদীঘি বর্ডার মহাসড়কে কয়লাবাড়ী (নবাবগঞ্জগামী) একমুখি এক্সেল লোড; ঢাকার যাত্রাবাড়ী-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম-টেকনাফ জাতীয় মহাসড়কে কেরানীহাট এরাকায় একমুখী এক্সেল লোড; রৌমারী-তুরা জেলা সড়কের তুরা এলাকায় রৌমারীগামীতে একমুখি এক্সেল লোড; ঢাকার মিরপুর-উথলী-পাটুরিয়া-নাটাখোলা-কাশিনাথপুর-বগুড়া-রংপুর-বেলডাঙ্গা-বাংলাবান্দা মহাসড়কের ভজনপুরে (পঞ্চগড়গামী) একমুখী এক্সেল লোড।

পানাম স্থলবন্দরের সামনে-হিলি এলজিইডি সড়কে হিলিতে একমুখী এক্সেল লোড; নকলা-নালিতাবাড়ী-নাকুগাঁও জাতীয় মহাসড়কের শিমুলতলায় (নকলগামী) একমুখী এক্সেল লোড; ফুলপুর-হালুয়াঘাট-তিনকুনি মোড় জিলা সড়ক গোবড়াকুড়া (মংমনসিংহগামী) একমুখী এক্সেল লোড, আলীপুর-ভোমরা স্থলবন্দর সংযোগের- নওবাদকাঠী (সাতক্ষীরাগামী) একমুখী এক্সেল লোড; সৈয়দপুর-নীলফামারী আঞ্চলিক সহাসড়কের কাজীরবাজারে উভয়মূখী এক্সেল লোড, জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল-জামালপুর সহাসড়কের বড় ইছাপুর (টাঙ্গাইলগামী) একমুখী এক্সেল লোড; ফেনী-পরশুরাম-বেলুনিয়া জেলা সড়কের বেলোনিয়ায় একমুখি এক্সেল লোড, চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা-জীবননগর-কোর্ট চাঁদপুর-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দর্শনায় উভয়মূখী এক্সেল লোড, ঢাকার যাত্রাবাড়ী-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম-টেকনাফ মহাসড়কে বন্দর সংযোগ সড়ক (ঢাকাগামী) একমুখী এক্সেল লোড; ঢাকার বনানী-জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মাষ্টারবাড়ী (উভয়মূখী) এক্সেল লোড।

ঢাকার যাত্রাবাড়ী-মাওয়া-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী জাতীয় সহাসড়কের রুহিতপুরে একমূখী এক্সেল লোড; ঢাকা যাত্রাবাড়ী- মাওয়া- ভাঙ্গা- বরিশাল পুটয়াখালী মহাসড়কের ভাঙ্গা (ঢাকাগামী) একমূখী এক্সেল লোড, ঢাকা- কুমিল্লা- চট্টগ্রাম- সীতাকুন্ড সড়কের দারোগারহাটে উভয়মূখী এক্সেল লোড, শেওলা-সুতারকান্দি জেলা সড়কে সুতরকান্দিতে উভয়মূখী এক্সেল লোড।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।