১৯ অক্টোবর, ২০১৯ | ৪ কার্তিক, ১৪২৬ | ১৯ সফর, ১৪৪১


শিরোনাম
  ●  চট্টগ্রামের হকার্স মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৫টি ইউনিট   ●  চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশে বন্ধ হলো জনপ্রিয় গেইমস পাবজি   ●  টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গা পাচারকারী নিহত, ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার   ●  লোহাগাড়ায় অস্ত্র,রামদা ও ৯রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেফতার   ●  টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক কারবারি নিহত,আহত পুলিশ সুপারসহ ৪   ●  কক্সবাজারের মহেশখালীতে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ   ●  লোহাগাড়ায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীসহ আটক ৩   ●  উখিয়া ফোর মার্ডার : রিপু ও উজ্জ্বল বড়ুয়ার ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর   ●  টেকনাফে পচে যাচ্ছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ, কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ   ●  উখিয়ায় চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলম

প্রাণহীন থার্টিফাস্ট পালনেও আসছে ৫ লাখ পর্যটক!

বিশেষ প্রতিবেদক:

আজ রবিবারের সূর্যটি পশ্চিমাকাশে ডুব দেয়ার সাথে সাথে বিদায় হবে ২০১৭ সালের। শুরু হবে নতুন বছরের সূর্যোদয়ের প্রতিক্ষার পালা। সূর্যডুবার এ রাতেই পৃথিবীর হালখাতা থেকে স্মৃতি হয়ে যাবে ২০১৭ সাল নামের একটি বছর। পথচলা শুরু হবে ২০১৮ খিষ্টাব্দের। বিদায়ের বেদনার মাঝেও ৩৬৫ দিনের সফলতা-ব্যর্থতার হিসাব পেছনে ফেলে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় ৩১ ডিসেম্বর রাতে ২০১৮ সালকে স্বাগত জানিয়ে পালন করা হবে থার্টিফাস্ট নাইট।

প্রতিবছর এ উপলক্ষ্যে পর্যটন নগরী খ্যাত কক্সবাজার লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। বিগত দেড় দশক এমন চিত্রই দিয়েছে বালিয়াড়ি। এবারও থার্টিফাস্ট এবং বছরের শেষ সূর্যাস্থ দেখতে কক্সবাজার সৈকত ও আশপাশের পর্যটন এলাকায় অতিথি ও স্থানীয় মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ পর্যটক সমাগম হবে এমনটি প্রত্যাশা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের।

গত এক দশক থেকে থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপনে বেসরকারি টেলিভিশন কিংবা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী সৈকতে উন্মুক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বর্ষবরণ জমিয়েছে। তারকা হোটেল গুলো আয়োজন করতো ইনডোর অনুষ্ঠান। যেখানে বহিরাগতরাও অংশ নিতে পারত। কিন্তু এবার থার্টিফাস্ট নাইট উপলক্ষ্যে সৈকত তীরে উন্মুক্ত বা বাউন্ডারি ভুক্ত কোন অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তারকা হোটেল গুলোও সবার জন্য করছেনা কোন আয়োজন। তবে হোটেল ওশান প্যারাডাইজ, সায়মন বীচ রিসোর্ট ও রয়েল টিউলিপ সী পার্ল ইনহাউজ গেস্টদের জন্য আয়োজন করছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। কিন্তু এবার বাইরের কোন অতিথিকে এসব উপভোগের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। তাই এবারের থার্টিফাস্ট নাইট বা নতুন বর্ষ বরণকে ‘প্রাণহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন পর্যটকরা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহিদুর রহমানের মতে, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ আইন শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে বীচে ওপেন অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পর্যটকরা চাইলে রাত ১২ পর্যন্ত বীচে ঘুরতে পারবেন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে থাকবে। কিন্তু রাত দশটার পর হোটেলের সব বার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শহরের অভ্যন্তরে যানজট কমাতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে থার্টিফাস্ট নাইট উৎসবের আগেই বিজয় দিবস ও শীতকালীন ছুটিকে উপলক্ষ্য করে পর্যটকে ভরে গেছে কক্সবাজার। সমানতালে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন সমুদ্র সৈকত, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, শাহপরীরদ্বীপ, ইনানী, হিমছড়ি, রামুর বৌদ্ধপল্লী, চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, মহেশখালীর আদিনাথ, সোনাদিয়াসহ পুরো কক্সবাজারের পর্যটন স্পটে। পর্যটক আকৃষ্ট করতে সাজানো হয়েছে এসব স্থান। ইংরেজি নতুন বছর ২০১৮ কে স্বাগত জানাতে প্রায় ৫ লাখ পর্যটকের মিলন মেলায় মুখরিত হয়ে উঠবে পর্যটন নগরী। এর ধারাবাহিকতা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের।

কক্সবাজারের তারকা হোটেল ওশ্যান প্যারাডাইস’র পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, ২০১২-২০১৩ সালে পর্যটন মন্দার মাঝেও আমরাই ইনডোর প্রোগ্রামগুলো চালৃু করে থার্টিফাস্ট নাইটকে পর্যটকদের কাছে উপভোগ্য করে তুলি। পর্যটকদের চাহিদার কারণে এবারো বলরুমে ইনহাউজ গেস্টদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাইরের গেস্টদের জন্য হোটেলের ছাদের রেস্তোরায় রসালো ম্যানোতে সাশ্রয়ী মূল্যে রাখা হয়েছে ব্যুফে ডিনার। এখানে ওপেন কনসার্ট উপভোগ করে রাতের খাবার সারতে পারবেন অতিথিরা।

ব্যবসা সবার ভাল যাচ্ছে, তবে আগে থার্টিফাস্ট নাইট নিয়ে যেভাবে একটি উৎসাহ উদ্দিপনা থাকত এখন তা নি:ষ্প্রাণ হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকায় বাকি মৌসুমটা ব্যবসা ভাল যাবে বলে মনে হচ্ছে।

সায়মন বীচ রিসোর্টের ফুডস এন্ড বেভারেজ ম্যানেজার ইমরান হোসেন জানান, তারকা কন্ঠশিলী তাহসান ও অন্যদের নিয়ে আভ্যন্তরিণ গেস্টদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

একই ভাবে গত ২৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য কার্নিভাল স্টাইলে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ইনানীর রয়েল টিউলিপ সীপার্ল হোটেল এমনটি জানিয়েছেন হোটেলটির অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক আমজাদ।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার জানান, কক্সবাজারে ছোট-বড় চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে দৈনিক প্রায় ১ লাখ লোকের থাকার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া এসবের বাইরেও এক লাখ মানুষ এর্পাটমেন্টসহ বিভিন্ন ভাবে কক্সবাজারে অবস্থান করে। ইতোমধ্যেই কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল গুলোর প্রায় সব কক্ষই বুকিং হয়ে গেছে। আগামী এক সপ্তাহ এমনটি থাকবে বলে আশা করা যায়।

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) শফিকুর রহমান কোম্পানীর মতে, প্রতিদিন যেহারে পর্যটক আসছে তাতে থার্টিফাস্ট নাইটে আবাস সংকট দেখা দিতে পারে। এখন থেকে প্রস্তুতি না নিলে নারী ও শিশুদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। এসব নিয়ে কারো মাথাব্যাথা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অনেকের অভিযোগ, অনেক অসাধু পর্যটন ব্যবসায়ী কক্ষ থেকে শুরু করে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবকিছুতে দ্বিগুণ টাকা আদায় করছে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে ইজিবাইক (টমটম) ও অন্য যানবাহনগুলোও। অতিরিক্ত টাকা আদায় হলেও সেবার মান বাড়েনি। ক্ষেত্র বিশেষে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে। প্রশাসনের যথাযথ নজরদারি অভাবে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছে ভূক্তভোগীরা।

পর্যটন মৌসুমের শুরুতে রোহিঙ্গা ইসু্যু নিয়ে পর্যটন ব্যবসায় ধ্বস নামার আশঙ্কা থাকলেও এখন শঙ্কাটি কেটে গেছে বলে দাবি করেছেন কক্সবাজার চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লি. সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়টি একটি মানবিক বিপর্যয়। এটি কক্সবাজারের সৌন্দর্য্যকে ম্লান করতে পারেনি। তাই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে থার্টিফাস্ট নাইটে সৈকতে উন্মুক্ত অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া যুক্তিযুক্ত হয়নি। সবাই মিলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থার্টিফাস্ট নাইটের অনুষ্ঠান করা গেলে পর্যটনের বিভিন্ন সেক্টরে কয়েকশ কোটি টাকা বাণিজ্য হতো।

বেড়াতে আসা পর্যটকদের অভিযোগ কক্সবাজারে শিশুদের বিনোদন ও রাতের বেলা উপভোগ্য কিছু না থাকায় দু’একদিন পর ফিরে যেতে হয়।
অভিযোগ স্বীকার করেছেন পর্যটন কর্পোরেশন ম্যানেজার সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, সমুদ্র সৈকত এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ ছাড়া দেখার কিছুই নেই। আর যে কটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে তাও কয়েক ঘন্টার মধ্যে বেড়ানো শেষ হয়। ফলে পর্যটকরা ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অফরুজুল হক টুটুল বলেন, থার্টিফাস্ট নাইট ও পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে সমুদ্র নগরীতে পুলিশের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। সাদা পোশাকে কাজ করছে ৫০পুলিশ সদস্য। এছাড়া সোমবার রাত থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছ অর্ধশত চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসি টিভি বসানো হয়েছে উল্লেখ করে কক্সবাজারের সুনাম ধরে রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিকী বলেন, সাতটি প্রমোদতরি (জাহাজ) নিয়ে প্রতিদিন গড়ে ছয় হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন যাচ্ছে। তাদের নিরাপত্তায় আমরা সর্তক রয়েছি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরায় মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনা দেয়া আছে। পর্যটন সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে পূর্বের সময়ের চেয়েও পর্যটক সেবার প্রতি বাড়তি নজর দিচ্ছে প্রশাসন। সার্বক্ষণিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পর্যটন এলাকায় টহলে রয়েছে। পর্যটক নিরাপত্তায় ট্যুরিষ্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও র‌্যাব মাঠে থাকবে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।